স্বাধীনতার সময় ভারত বর্ষু সাম্প্রদায়িকতার ভিত্তিতে ভাগ হয়৷ পাকিঙস্তান আর ভারত যুক্তরাষ্ট্র৷ পাকিস্তান মূলত ইসলাম ধর্মমত ভিত্তিক রাষ্ট্র হয় পুবে পশ্চিমে, দুটি রাজ্য নিয়ে৷ মাঝে থেকে যায় ভারত বর্ষ তথা ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্র ধর্মনিরপেক্ষ হিসেবে৷ পরবর্তী সময়ে পূর্ব পাকিস্তান পৃথক রাষ্ট্র হয়ে যায়, যার বর্তমান নাম বাংলাদেশ৷ চতুর ইংরেজ ও দিল্লির শাসকগণ গোটা ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে হিন্দুস্তান বলে প্রচার করলেও ভারতের সংবিধান ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বলে মান্যতা দেয়নি৷
মনে রাখতে হবে সমগ্র মানব সমাজের ধর্ম হল এক ও অভিন্ন যদিও ধর্মমত ভিন্ন ভিন্ন হতে পারে৷ আর এই মহাবিশ্বের স্রষ্টা ও একজন তাকে আল্লাহ ঈশ্বর গড যে যে নামেই ডাকুক৷ সমগ্র মানব সমাজের জন্যই একই সূর্য একই চন্দ্র৷ তাই এক ঈশ্বরই সবার স্রষ্টা ও রক্ষক৷ মানুষের আকার আকৃতি গড়ন, ভাষা ভিন্ন হলেও সকল মানুষেরই প্রয়োজন আয়োজন আশা আকাঙ্ক্ষা অনুভুতি একই৷ তাই আজ পৃথিবী হয়ে গেছে এক বৃহৎ পরিবার৷ তাই প্রাউটের ভাষায় বলা হয় মানব সমাজ এক ও অবিভাজ্য৷
কিন্তু বর্তমান ভারত সরকার ভারত যুক্তরাষ্ট্রকে গণতন্ত্রের নামে একদলীয় শাসনের দিকে নিয়ে যেতে চাইছে তা দেশের ঐক্যের পক্ষে অশুভ ইঙ্গিত৷ বলা যায় ডাবল ইঞ্জিন সরকারের নামে এক ধরনের শোষণ৷ যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় কোন রাজ্যে বিরোধী দলের শাসন থাকতেই পারে৷ কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত সব সরকারকে সমান চোখে দেখা৷ তা যদি না হয় তবে এ কেমন গণতন্ত্র৷ এত গণতন্ত্রের নামে শোষণ যন্ত্র৷ কারণ গণতন্ত্রকে বলা হয় জনগণের তন্ত্র সেখানে মূলত জনগণের কল্যাণ সাধন হবে৷
মূলত পাঁচটি কারণে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা অর্জন করা হয় সেগুলি হলো--- সাধারন মানুষ শোষণমুক্ত হবে, বেঁচে থাকার অধিকার হিসেবে অন্ন, বস্ত্র বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার ব্যবস্থা সবার জন্য থাকবে৷ চরম বেকার সমস্যা থেকে নাগরিকগণকে মুক্তি দিতে হবে৷ সেইগুলি নিয়েই এদেশের দুর্নীতিপরায়ণ ব্যবসায়ীগণ ও রাজনৈতিক দলের নেতা সমর্থকরা ধান্দাবাজি করে চলেছে৷ পরিণতিতে বিশাল জনসংখ্যার দেশ ভারত বর্ষ শাসনে শোষণে রক্তশূন্য হতে চলেছে৷ একদিকে রাজনৈতিক নেতারা গণপ্রতিশ্রুতি দিয়ে চলেছে জনগণকে বোকা বানিয়ে গদি সামলানোর জন্য আর বিশাল দেশ আর্থিক দিক থেকে অতলে তলিয়ে যাচ্ছে৷
অপরদিকে প্রশ্ণ ফাঁস, বিশাল ঘটা করে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করা রাম মন্দিরের চুরি হয়ে যাচ্ছে, সংবাদ মাধ্যম ভয়ে নিরপেক্ষ সংবাদ পরিবেশন করতে পারছে না, বেকারের সংখ্যা বাড়ছে, অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়ছে, খাদ্য নিয়ে কালোবাজারি ঔষধপত্রের দাম আকাশ ছোঁয়া, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের অগ্ণিমূল্য---দিশাহীন হতদরিদ্র জনগণ৷
দেখে শুনে মনে হচ্ছে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় জনগণের কল্যাণ করার মানসিকতাই নেই শাসকের৷ গণতন্ত্রে জনগণের সার্বিক কল্যাণে প্রয়োজনে বিরোধীদলের সঙ্গে আলোচনা করবে শাসকগণ৷ কিন্তু বর্তমান শাসক তা তো করছেই না অনেক ক্ষেত্রে বিরোধীদের কন্ঠ রুদ্ধ করে দিচ্ছে৷ যখন যে দলের শাসকই হোক না কেন তার মূল লক্ষ্য হবে সর্বশ্রেণীর মানুষের বিকাশ, এটাই রাজনীতি, এটাই শাসকের রাজ ধর্ম৷ কিন্তু এখানে রাজধর্ম পালন না করে শাসনের নামে চলছে স্বেচ্ছাচারিতা৷
আজ বিশাল দেশ ভারতবর্ষে সত্যিই জনগণের কল্যাণ করার মত দলের খুবই অভাব৷ আজ প্রধানমন্ত্রী যে কাজটি করতে যান সেখানেই ধাক্কা খান৷ গণতন্ত্রকে প্রহসনে পরিণত করে শুধু দলবাজি করেই যাচ্ছেন৷
নতুন ভারত কে গড়তে পারে? জাতপাত সম্প্রদায়ের ঊর্ধে উঠে সর্বশ্রেণীর মানুষের কল্যাণ ভাবনা, যার মনের মধ্যে থাকবে তিনি প্রকৃত দেশ সেবক হতে পারবেন, তিনিই শান্তি ও সমৃদ্ধির দেশ গড়তে পারবেন৷ সংকীর্ণ মানসিকতার, কুসংস্কারে আচ্ছন্ন অন্ধবিশ্বাসীরা কখনোই দেশবাসীর সার্বিক কল্যাণ করতে পারে না, তারা শুধু ধবংসই করতে পারে৷
আজ শুধু ভারত বর্ষ নয় সারা পৃথিবী এই ধবংসের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে৷ একে রক্ষা করতে হলে মহান দার্শনিক শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকারের আধ্যাত্মিকতা ও নব্য মানবতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত প্রাউটের সামাজিক অর্থনৈতিক তত্ত্বকে বাস্তবায়ন করতে হবে৷
- Log in to post comments