এই কলঙ্কিত অধ্যায়ের খলনায়ক অবশ্যই নির্বাচন কমিশনার৷ বহুদলীয় গণতন্ত্রে রাজনীতির খেলায় কোন আপত্তি থাকে না৷ তবে তার রক্তপাতহীন হওয়া উচিত৷ কিন্তু সেটাই তো হয় না৷ রাজনীতির এই খেলায় খেলে রাজনৈতিক দলগুলি৷ নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা রেফারীর৷ যা নিরপেক্ষ থাকার কথা৷ কিন্তু এবার রাজনীতির এই খেলায় রেফারীর ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ণ উঠে গেছে৷ তার নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে শাসক বিজেপি ছাড়া সব দলই৷
১৯৪৭সালের ১৫ ই আগস্ট মধ্যরাত থেকে আজ পর্যন্ত রাজনীতির এই খেলায় বহু বাঙালী চৌদ্দ পুরুষের ভিটেমাটি ছেড়ে উদবাস্তু হয়েছে৷ আজও তাদের ছন্নছাড়া জীবনে মধ্যরাতের অবসান হয়নি৷ তাদের নিয়ে নতুন খেলা খেলছে দিল্লির হিন্দি সাম্রাজ্যবাদী শাসক ও তাদের দলীয় পোষ্য নির্বাচন কমিশনার৷
তথাকথিত দেশপ্রেমের মুখোশধারী রাজনৈতিক নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতায় যারা ১৪পুরুষের ভিটে মাটি ছেড়ে নতুন চেকপোস্টের সীমানায় পেরিয়ে বাস করতে চেয়েছিল নিজেরই মাতৃভূমির ওপার থেকে এপারে এসে একটু নাগরিকত্বের অধিকার নিয়ে৷ গত ৭৮ বছরে যাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছে একাধিক জনপ্রতিনিধি, গঠিত হয়েছে একাধিক সরকার, আজ দিল্লির শাসকদলের মনোনীত নির্বাচন কমিশনারের এক কলমের খোঁচায় সেই লক্ষ লক্ষ বাঙালী নাগরিকত্বহীন রাষ্ট্রহীন৷ তাদের ছন্নছাড়া জীবনে মধ্যরাতের অন্ধকারে এ এক হিংস্র নিশাচরের আক্রমণ৷
প্রায় এক কোটি মানুষকে বেনাগরিক করে ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে আর একটা নির্বাচন দুয়ারে এসে দাঁড়িয়েছে৷ শুরু হয়েছে নির্বাচনী খেলা তথাকথিত প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যে৷ ক্ষমতায় যে দলই আসুক বাঙালীর ভাগ্যের পরিবর্তন কি হবে? ৭৮ বছরের অভিজ্ঞতায় বলা যায় সাময়িক কিছু সুরাহা হলেও দীর্ঘ ৭৮ বছর ধরে ভেঙ্গে পড়া অর্থনীতি, শিক্ষার অবনতি ও সাহিত্য সংস্কৃতির অবক্ষয় থেকে বাঙালীর মুক্তি কি আসবে? এই প্রশ্ণের উত্তর খোঁজা বড় কঠিন৷ তবু উত্তর বাঙালীকে খুঁজতেই হবে, পথ বাঙালীকে বার করতেই হবে৷
সেইপথেরই দিশা দেখিয়ে আসছে দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ধরে আমরা বাঙালী সংঘটন৷ আজ তথাকথিত রাজনৈতিক দলগুলো বাঙালী বিপন্ন বলে যে চিৎকার শুরু করেছে দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে আমরা বাঙালী সংগঠন সেই কথাই বলে আসছে৷ তখন প্রাদেশিক সাম্প্রদায়িক বলে এই দলগুলোই আমরা বাঙালীকে জনসম্মুখে আসতে দেয়নি৷
আজ যখন আমরা বাঙালী দলের দীর্ঘদিনের বলে আসা কথাগুলোই জপ করছে প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলো তখন বাঙলার জনগণের কাছে আমরা বাঙালীর আবেদন দীর্ঘ ৭৮ বছরের ভ্রাতৃঘাতী রাজনীতির তিক্ত বেদনাদায়ক অভিজ্ঞতা ভুলে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই এক মহান আদর্শের পতাকাতলে৷
আমরাবাঙালী শুধু বাঙালীর বাঁচার দাবি নিয়ে আসেনে৷ আমরা বাঙালীর আন্দোলন বিশ্বের প্রতিটি নিপীড়িত শোষিত অত্যাচারিত জনগণের মুক্তির আন্দোলন৷ আমরা বাঙালী তাদের কাছে মুক্তির দিশারী৷
মহানদার্শনিক শ্রীপ্রভাত রঞ্জন সরকারের সামাজিক অর্থনৈতিক তত্ত্ব প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্ব সংক্ষেপে প্রাউটের বাস্তব সম্মত অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও নব্য মানবতাবাদ ভিত্তিক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি সমাজ থেকে সব রকমের ভেদ-বিদ্বেষ শোষণ অত্যাচার লাঞ্ছনা দূর করবে৷ এহ প্রাউট তত্ত্ব সম্পর্কে প্রাউট প্রবক্তা বলেছেন----’ অন্য চাই, বস্ত্র চাই, বাঁচার মতো বাঁচতে চাই, চিকিৎসা চাই, নিবাস চাই৷ আর এই প্রয়োজন মেটাবার জন্যই একদিন অবস্থার চাপে পড়ে প্রাউট দর্শন তৈরি করতে বাধ্য হয়েছি৷’ তিনি আরো বলেছেন---’ আজ অর্থনীতি বস্তা পচা তত্ত্বকথার কচকচানি ছাড়া আর কিছুই নয়৷ একে অধিকতর বাস্তবমুখী করতে হবে৷ অর্থনীতি হবে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও প্রয়োগভৌমিক বিজ্ঞান, আর একে বিশ্বের সর্বস্তরের মানুষ সর্ব জীবের তথা সর্ব অস্তিত্বের সার্বিক কল্যাণের স্বার্থে বিকশিত করতে হবে৷
আসন্ন নির্বাচনে বাঙলার জনগোষ্ঠীকে আসন্ন বিপদ থেকে সতর্ক করতে আমরা বাঙালী সংগঠন বেশ কিছু আসনে প্রার্থী দিয়ে প্রচারে নামছে৷ বাঙলার জনগণের কাছে এখন বিচার্যের বিষয় বাঙলার নির্বাচকগণ বাঙালীর আবেদন--- বাঙালীর কণ্ঠস্বর কে এবার বিধানসভায় পৌঁছে দিয়ে৷ নতুন নজীর কি তৈরী করবে!
- Log in to post comments