অনুশাসনকে পরিভাষিত করার নিমিত্তে শাস্ত্রে বলা হয়েছে:*হিতার্থে শাসনম্ ইত্যর্থে অনুশাসনম৷ অর্থাৎ মানব সমাজের কল্যাণার্থে যে শাসন ব্যবস্থা, যা মানব সমাজকে এক সূত্রে বেঁধে রাখার জন্য দায়ী, অর্থাৎ একটি সুসংবদ্ধ ও সুসামঞ্জস্য পূর্ণ সমাজ নির্মাণ কল্পে প্রয়াসরত, এমনিতর একটি বিধি ব্যবস্থার নাম -- *অনুশাসন*৷ ব্যাকরণগত ভাবে ’’অনু’’ উপসর্গ পূর্বক ’’শাস ধাতুর উত্তর ’’ল্যুট প্রত্যয় যোগে অনুশাসন শব্দটি নিষ্পন্ন৷ অতএব জ্ঞানী-গুণী ও স্থিতধী ব্যষ্টিরা যখন মিলেমিশে সমাজকে অগ্রগতির পথ নির্দেশনা দেওয়ার জন্য কতকগুলো ন্যায় ধর্মভিত্তিক নিয়মাবলী নির্মাণ করে দেন আর সুশৃঙ্খল সমাজ নির্মাণ কল্পে মানুষ যখন তাঁদের দ্বারা প্রস্তুত নিয়মাবলী মেনে চলার চেষ্টা করেন, তখনই তাকে বলা হয় -- অনুশাসন৷ অনুশাসন মানে শাসন নয়, অনুশাসন মানে ব্যষ্টি ও সমষ্টিগত কল্যাণার্থে শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করা ও তাকে মেনে চলা৷ শাসন করা মানে শাস্তি দেওয়া অথবা জনগণের মনে ভয়ের সঞ্চার করা৷ এই ধরণের শাসন ব্যবস্থা অবশ্যই অকল্যাণকর৷ কিন্তু অনুশাসন মানে ন্যায় ধর্মভিত্তিক বিধি ব্যবস্থাকে যথাযথ ভাবে মেনে চলা৷ এই অনুশাসন শব্দটিকে যথোচিত ভাবে ব্যাখ্যায়িত করার নিমিত্ত বিংশ শতাব্দীর মহান দার্শনিক ও সত্যদ্রষ্টা ঋষি শ্রী শ্রী আনন্দমূর্তিজী তাঁর রচিত *’নমঃ শিবায় শান্তায়’* গ্রন্থের এক জায়গায় উল্লেখ করেছেন:--
*’ স্বেচ্ছাচারিতার বিরুদ্ধে নিয়মানুবর্তিতার যে শাসন, উচ্ছৃঙ্খলতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলার যে শাসন, দুশ্চরিত্রতার বিরুদ্ধে চারিত্রিক স্থৈর্যের যে শাসন, অধোগামিতার বিরুদ্ধে উৎগামিতার যে শাসন -- এই ধরণের নিম্নগ ও বহু বিশ্লেষণাত্মিকা গতির বিরুদ্ধে ঊর্ধগ ও সংশ্লেষণাত্মিকা গতির যে শাসন তাই অনুশাসন৷’*
উপরিউক্ত পরিভাষাটির মধ্যে ব্যবহৃত পাঁচটি শব্দ বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য যা অনুশাসনের পরিভাষাটিকে অত্যধিক গুরুত্বপূর্ণ মহিমায় মহিমান্বিত করেছে৷ এই পাঁচটি শব্দ নিম্নে দেওয়া হলো --
১৷ স্বেচ্ছাচারিতা ২৷ উচ্ছৃঙ্খলতা ৩৷ দুশ্চরিত্রতা ৪৷ অধোগামিতা ও ৫৷ বহু বিশ্লেষণাত্মিকা৷ বস্তুত এই পাঁচটি শব্দ কেবল শব্দ নয়, বরং পাঁচটি বিশেষ তত্ত্ব যা অনুশাসন হীনতার পরিচায়ক৷ আসুন, পাঠকমণ্ডলীর সুবিধার্থে উপরিউক্ত পাঁচটি শব্দের যথোচিত ব্যাখ্যা করা যাক৷
*১৷ স্বেচ্ছাচারিতা :-- স্বেচ্ছাচারিতা মানে সুনির্দিষ্ট নিয়ম কানুনকে অমান্য করে নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করা৷ অর্থাৎ ন্যায় নীতির তোয়াক্কা না করে স্বার্থ-সিদ্ধি কল্পে বেপরোয়া ভাবে পথ চলা৷ সহজ ও সরল ভাষায় একে বলা হয় -- খামখেয়ালিপনা৷ এই ধরণের স্বেচ্ছাচার মানুষকে ক্রমশঃ অমানুষে পরিণত করে ও দুর্বৃত্তায়নের পথে এগিয়ে যেতে বাধ্য করে৷ সুতরাং এই ধরণের ন্যায় নীতি বর্জিত মানসিকতাকে শেষ করার জন্য অবশ্যই নিয়মানুবর্তিতার আশ্রয়ে আসতে হবে৷ নিয়মানুবর্তিতা মানে সুশৃঙ্খল সমাজ নির্মাণ কল্পে সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা৷ স্বেচ্ছাচারিতা এমন একটা তত্ত্ব যা মানব সমাজের মেরুদণ্ডকে ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে৷ সুতরাং নিয়মানুবর্তিতার সাহায্যে স্বেচ্ছাচারিতাকে দমন করা একান্ত প্রয়োজন৷ আর তবেই সুষ্ঠু সমাজ নির্মাণ সম্ভব৷
*২৷ উচ্ছৃঙ্খলতা*: -- উচ্ছৃঙ্খলতা মানে শৃঙ্খলার অভাব - অনিয়ন্ত্রিত আচরণ৷ আমরা সকলেই জানি যে, কোন গাড়ি যদি চালকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় -- দুর্ঘটনা অবশ্যম্ভাবী৷ তদ্রূপ সমাজে নিয়ম শৃঙ্খলার অভাব পরিলক্ষিত হলে সমাজের জনসাধারণ নিয়ন্ত্রণের আওতায় থাকে না৷ ফলতঃ সমাজ ও সভ্যতা তার যথোচিত অগ্রগতির পথ হারিয়ে ফেলে৷ চারিদিকে শৃঙ্খলার অভাব জনিত এক বিশেষ ব্যাধির সৃষ্টি হয় যা জন সাধারণকে কুপথগামী করতে বাধ্য হয়৷ মানুষ তার মানবিকতা ত্যাগ করে পাশবিকতার পথ অবলম্বন করে৷ সুতরাং মানুষ তার মানবিক বৈশিষ্ট্য ভুলে অমানবিক আচরণে ব্যস্ত থাকতে পছন্দ করে৷ সুতরাং সুদৃঢ় ও সুনির্দিষ্ট নিয়মের মাধ্যমে উচ্ছৃঙ্খলতাকে নিয়ন্ত্রণে আনাই আমাদের পরম কর্তব্য৷ মনে রাখা দরকার -- উচ্ছৃঙ্খলতা অনুকরণীয় নয় বরং যথাশীঘ্র ত্যাগ করাই মানবোচিত ব্যবহারের নিদর্শন৷
*৩৷ দুশ্চরিত্রতা*:-- দুশ্চরিত্রতা মানে চরিত্রহীনতা অথবা চারিত্রিক ত্রুটি৷ যাদের মধ্যে চারিত্রিক স্থৈর্যের অভাব তাঁরা কেবল সমাজের শত্রু নয়, তাঁরা পরিবারের কলঙ্ক৷ সহজ ও সরল ভাষায় বলা যায় -- তাঁরা নিজেরাই নিজেদের শত্রু৷ কারণে তাঁদের জীবন যাত্রার মান ক্রমশঃ নিম্নগামী হওয়ায় প্রতিটি মানুষ তাঁদেরকে অবশ্যই হীন দৃষ্টিতে দেখে থাকে৷ দুশ্চরিত্রতা কোন মতেই উন্নয়নের অগ্রদূত নয়, অবনয়নের সূত্রধর৷ সভ্য সমাজের মানুষ চরিত্রহীন মানুষকে সততই ঘৃণার দৃষ্টিতে দেখে থাকে৷ সুতরাং নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য ও সুশৃঙ্খল সমাজ নির্মাণ কল্পে চারিত্রিক অবক্ষয় অবশ্যই বর্জনীয়৷ কারণ আমরা সকলেই বেশ ভালো ভাবেই জানি যে, মানবজীবনের সর্ব শ্রেষ্ঠ অলঙ্কার তার খ্যাতিময় চরিত্র৷ দুশ্চরিত্রতা মানব মনের এমন একটা বর্জনীয় তত্ত্ব যা মানুষকে পশুর পর্যায়ে পরিণত করার জন্য যথেষ্ট৷ সুতরাং চারিত্রিক স্থৈর্যের নির্মাণ কল্পে সুশিক্ষা ও নৈতিক শিক্ষা একান্ত প্রয়োজন৷ কিন্তু বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের উদ্দেশ্য ছাত্র ছাত্রীদের চারিত্রিক মান উন্নয়ন করা নয় বরং চারিত্রিক অবক্ষয়ের কাঠামো তৈরি হয় -- বর্তমান সময়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহেই৷ শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল জীবীকোপার্জনের পথ পরিষ্কার করা নয় বরং শিক্ষার উদ্দেশ্য মানুষকে মানবোচিত শিক্ষায় শিক্ষিত করা৷ আর তার জন্য শৈশব কাল থেকেই আধ্যাত্মিক সাধনার মাধ্যমে আত্মজ্ঞানের সঙ্গে শিশুদেরকে সুপরিচিত করা৷ কারণ আত্মজ্ঞান ব্যতিরেকে কোন মানুষ মানুষের পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে না৷
*৪৷ অধোগামিতা*:-- অধোগামিতা মানব মনের স্বাভাবিক ব্যাধি৷ কারণ মানুষের মন ও জল সবসময় নিম্নগামী৷ এই নিম্নগামিতার আরেক নাম অধোগামিতা৷ যেমন জলের গতি সততই নিম্নমুখী ঠিক তদ্রূপ মানুষের মনও তামসিকতা মুখী৷ সুতরাং মনকে সাত্ত্বিক ভাবাপন্ন করার নিমিত্ত শৈশব থেকেই সাত্ত্বিক ভোজন অবশ্যই গ্রহণীয়৷ অবশ্য এটাও ঠিক যে কেবল সাত্ত্বিক ভোজন গ্রহণ করাই যথেষ্ট নয়, সেই সঙ্গে আধ্যাত্মিক সাধনা করাও একান্ত প্রয়োজনীয়৷
*৫৷ বহু বিশ্লেষণাত্মিকা* -- বিশ্লেষণ করা মানেই কোন বস্তুকে অথবা কোন বিচার ধারাকে খণ্ডিত করা৷ খণ্ডিতকরণ তত্ত্বটি ভৌতিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে যথেষ্ট উপযোগী বোধ হলেও দার্শনিক বিচারে এটা অবশ্যই একটা ক্ষতিকারক তত্ত্ব৷ কারণ বিশ্লেষণ ধর্মী বিচার ধারা মানব সমাজকে সর্বদাই খণ্ড বিখণ্ড করার চেষ্টায় সংলগ্ণ৷ অতএব এই ধরণের মানসিকতা সুসংহত ও সুসংগঠিত সমাজ নির্মাণ কল্পে এক বিরাট বাধা৷ কিন্তু আজকের পরিপ্রেক্ষিতে দেশ ও সমাজকে পরিচালনা করার দায়িত্ব যাদের হাতে তাঁরা কোন মতেই সুসংগঠিত সমাজ চায় না৷ তাঁরা চায় খণ্ডিত সমাজ৷ কারণ গণতান্ত্রিক কাঠামোতে শাসনভার করায়ত্ত করার সবচেয়ে ধারালো অস্ত্র হচ্ছে মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে নিজেদের কাজ হাসিল করা৷ তাই আজকের সমাজ ধর্মের নামে অথবা জাতির নামে বহুধা বিভক্ত৷ এই বিশ্লেষণাত্মিকা গতির মোকাবেলা করার জন্য সংশ্লেষণাত্মিকা গতিকে আশ্রয় করা ছাড়া কোন উপায় নেই৷ কিন্তু সংশ্লেষণাত্মক বিচার ধারাকে উন্নত করার জন্য সুশিক্ষার একান্ত প্রয়োজন৷ কিন্তু বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সুশিক্ষার একান্ত অভাব৷ কারণ আজকের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার উদ্দেশ্য -- বড় বড় ডিগ্রি নিয়ে অর্র্থেপার্জনের পথ সুদৃঢ় করা৷ এই ধরণের শিক্ষা পদ্ধতি মানুষকে ক্রমশঃ কুশিক্ষার অতল গহ্বরে নিমজ্জিত করার চেষ্টায় সংলিপ্ত৷
বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে দলীয় স্বার্থ একটি মারাত্মক জটিল সমস্যা, যা মানব সমাজের সংশ্লেষণ ধর্মিতার পরিপন্থী৷ এই বিশ্লেষণ ধর্মী দলীয় স্বার্থ বর্তমান শৈক্ষিক বাতাবরণকে সততই কলুষিত করার চেষ্টায় সংলিপ্ত৷ কারণ দলীয় স্বার্থে প্রণোদিত জনগোষ্ঠী কোন মতেই মানবীয় ঐক্যে বিশ্বাস করে না৷ কারণ তাঁরা বুঝতে পেরেছেন যে, সামাজিক ঐক্যের সুদৃঢ়তা তাঁদের শোষণের পথ রুদ্ধ করে দিতে সক্ষম৷ তাই তাঁরা সদা সর্বদাই বিশ্লেষণ ধর্মিতার প্রচারে পঞ্চমুখ৷ কারণ এই বিশ্লেষণাত্মক বিচার ধারা তাঁদের রক্তের অণু পরমাণুতে প্রবেশ করে গেছে৷ তাই তাঁরা শোষণ চক্র বজায় রাখার জন্য যেন তেন প্রকারেণ শাসনভার করায়ত্ত করার প্রচেষ্টায় রত৷ এই দুই ধর্মী বিচার ধারার কথা বলতে গিয়ে বিংশ শতাব্দীর মহান দার্শনিক ও সত্যদ্রষ্টা ঋষি শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার তাঁর রচিত *অভিমত* গ্রন্থের নবম খণ্ডের এক জায়গায় উল্লেখ করেছেন:--
*’ এই যে দুই ধরণের মনস্তত্ত্ব এর থেকেই জন্ম নেয় সমাজকে দেখার দু-ধরণের চেতনা৷ যারা সেবার মনোভাব নিয়ে এগোয় তাদের চেতনা অবশ্যই সংশ্লেষণধর্মী৷ আর যারা ব্যষ্টি স্বার্থ ও সঙ্কীর্ণ গোষ্ঠী স্বার্থকে বড় করে দেখে তাদের চিন্তাধারা অবশ্যই বিশ্লেষণ ধর্মী৷’*
উপরিউক্ত বক্তব্যটি থেকে এটাই সুস্পষ্ট যে, প্রতিটি মানুষের অগ্রগতির জন্য দুটো পথ খোলা রয়েছে, যা তাঁরা নিজেদের ইচ্ছামত বেছে নিতে পারেন৷ এদের একটাকে বলা হয় -- ’প্রেয়ের পথ’ আর আরেকটার নাম -- ’শ্রেয়ের পথ’৷ অবশ্য এটাও সত্য যে শ্রেয়ের পথ সদা সর্বদাই বাধাগ্রস্ত৷ অতএব শ্রেয়ের পথ অবলম্বন করতে হলে মনের সৎ সাহসের একান্ত প্রয়োজন৷ কারণ সৎ সাহস ব্যতিরেকে সৎ কর্ম করা অসম্ভব৷ যদিও সৎ ও শুভ কর্মে নিযুক্ত থাকাই মানবোচিত কর্ম তবুও বাধার ভয়ে কেউ এগোতে চায় না৷ তাই জনৈক কবি বলেছেন:--
*’করিতে আপন কাজ, সদা ভয় সদা লাজ,*
*সংশয়ে সংকল্প সদা টলে,*
*পাছে লোকে কিছু বলে৷৷*
অতএব বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে এটাই সুস্পষ্ট যে শুভ কর্মে সহযোগিতার অভাব কিন্তু অশুভ কর্মে সহজেই অন্যেরা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়৷ সুতরাং সৎ পথে বহু বাধা, বহু বিঘ্ন৷ কিন্তু অসৎ পথে কোন বাধা নেই, বিপত্তি নেই৷ কারণ আজকের পরিপ্রেক্ষিতে অধিকাংশ মানুষই অসৎ কর্মে লিপ্ত৷ শাস্ত্রেও বলা হয়েছে:-- *শ্রেয়াংসি বহু বিঘ্নানি*৷
প্রেয়ের পথে যদিও কোন বাধা নেই তবুও তা গ্রহণীয় নয় বরং যথাশীঘ্র বর্জনীয়৷ প্রেয়ের পথ, সাময়িক সুখ প্রাপ্তির পথ যা কোন মতেই চিরস্থায়ী নয়৷ কিন্তু সত্যের পথ, ন্যায়ের পথ কণ্টক সঙ্কুল হলেও তার পরিণাম অবশ্যই দীর্ঘস্থায়ী৷ কিন্তু সংঘর্ষ বিমুখ মানুষ সৎ পথে চলতে ভয় পায় আর সহজেই অসৎ পথে চলতে শুরু করে৷ এটা অবশ্যই সামাজিক ঐক্যের সুদৃঢ়তা বজায় রক্ষার্থে অতীব জটিল সমস্যা৷ কিন্তু যেখানে সমস্যা আছে, সমাধানের পথও তারই মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে৷ সুতরাং ভয় পাবার কোন কারণ নেই৷ তাই এই ধরণের সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় -- শিক্ষা জগতে আমূল পরিবর্তন যা মানব সমাজকে পুনর্জাগরণের নির্দেশনা দেবে৷ এই সম্বন্ধে প্রাউট প্রবক্তা শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার তাঁর রচিত ’’অভিমত’’ গ্রন্থের সপ্তম খণ্ডে বলেছেন:-- *’ যে মানবতা এতদিন ঘুমিয়ে ছিল আজ তাকে অন্ধ তমিস্রা থেকে জাগাতে হবে ও জীবনের সকল ক্ষেত্রে, অস্তিত্বের সকল স্তরে নূতন কিছু করতে হবে৷’*
অতএব আলোচনার বিভিন্ন পরিপ্রেক্ষিতে এটাই সুস্পষ্ট যে, জনসাধারণকে ঘন তমসাচ্ছন্ন রাত্রির কালিমালিপ্ত অন্ধকার থেকে আলোকে আলোকিত জগতে প্রবেশ করার শুভ পথ নির্দেশনা দিতে হবে৷ কাজটা যদিও কঠিন তবে অসম্ভব নয়৷ কারণ শুভ কর্মের সহায়ক স্বয়ং ভগবান৷ একজন শুভচিন্তক ব্যষ্টি সদা সর্বদাই পরমপুরুষের আশীর্বাদ পেয়ে থাকেন৷ তাই আজকের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা জগতে আমূল পরিবর্তন আনার জন্য সমাজের প্রতিটি শুভচিন্তকের উচিত -- তাঁরা যেন মনে প্রাণে যথাশীঘ্র শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার প্রবর্তিত নব্যমানবতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা লাগু করার জন্য সচেষ্ট হন৷ কারণ বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সমস্ত সমস্যা সমাধানের একমাত্র পথ -- *নব্যমানবতাভিত্তিক শিক্ষা*৷ কারণ নব্যমানবতাবাদের সমর্থকেরাই উচ্চ কণ্ঠে ধবনিত করতে পারে --
*মানুষ যেন মানুষের তরে সবকিছু করে যায়,*
*পশুপাখি তার পর নয়,*
*তরুও বাঁচিতে চায়৷*
- Log in to post comments