Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

ইতিহাসের পাতা থেকে---বর্গী এলো দেশে

মনোজ দেব

ছোটো বেলায় মায়ের কোলে শুয়ে শুনতাম---

‘ছেলে ঘুমলো পাড়া জুড়োলো 

বর্গী এলো দেশে৷

বুলবুলিতে ধান খেয়েছে খাজনা দেব কিসে’

ধানফুরোলো পান ফুরোলো 

খাজনার উপায় কি?

আর কটা দিন সবুর কর রসুন বুনেছি!’

মাকে ফাঁকি দেবার জন্য চোখ বুজে ঘুমের ভান করে পড়ে থাকতাম৷ কিন্তু মনের মধ্যে ভেসে থাকতো বর্গী শব্দটা৷ বর্গী আবার কি৷ অনেক বছর পরে তখন আমি দশম শ্রেণীর ছাত্র৷ একদিন সন্ধ্যাবেলায় আকাশবানীতে শুণলাম একটি নাটক৷ সেই নাটকে চিনলাম বর্গী দস্যু ভাস্কর পণ্ডিতকে৷ আরও পরে জানলাম কি ভয়ঙ্কর ছিল এই মারাঠা দস্যু বর্গীরা৷ খুন, ধর্ষন, লুন্ঠন---এমন বর্বর নৃশংসতার ঘটনা ইতিহাসে খুব কমই আছে৷ চারলক্ষ মানুষ খুন করেছিল৷ লক্ষাধিক নারীকে ধর্ষন করেছিল৷ এই বর্গী হামলায় প্রধান নেতৃত্বে মারাঠা মহারাজ রঘুজী ভোঁসলে থাকলে নৃশংসতায় রঘুজীকে হার মানিয়ে ছিল তার প্রধান সেনাপতি ভাস্কর পণ্ডিত৷

এই বর্গী হলো একদল মারাঠা আক্রমণ কারী৷এই বর্গী শব্দটি এসেছে বার্গীর শব্দটি থেকে যার অর্থ হালকা ঘোড়া৷মনে করা করা হয় তারা খুব দ্রুত গতিতে ঘোড়া ছুটিয়ে লুঠত রাজ চালাতো তাই তাদের বর্গী বলা হতো৷এই বর্গী দের উপদ্রপ শুরু হয়েছিল শিবাজী এর আমল থেকে৷তিনি কর আদায় করার জন্য ও লুটপাট করার জন্য বর্গীদের পাঠাতেন৷তবে বাংলায় বর্গী হানা তখনও শুরু হয় নি৷

বাংলায় বর্গী হানা শুরু হয় অষ্টাদশ শতকের চতুর দশকে৷ কিন্তু কেন শুরু হলো বর্গী হানা?

১৭৪০সালে অলিবর্দী খাঁ বাংলার মসনদে বসেন সরফরাজ খাঁ কে সরিয়ে৷ফলে সরফরাজ খাঁ এর জামাতা খুব ক্ষুব্ধ হন৷ তিনি রঘুজি ভোঁসলে কে অনুপ্রাণিত করতে থাকেন বাংলা আক্রমণের জন্য৷এর ফলে রঘুজি ভোঁসলে এর আদেশে শুরু হয় বর্গীদের আক্রমণ৷১৭৪১-১৭৫১ দীর্ঘ ১০ বছর বর্গীদের আক্রমণে বাংলার নদী পথ রাঙা হয়ে ওঠে৷ মনে করা হয় ৪লক্ষের ও বেশি মানুষ বর্গীদের আক্রমণে প্রাণ হারান৷শুধু আক্রমণ নয় লুঠপাট, দখল, চুরি, মহিলাদের সাথে খারাপ ব্যবহার এগুলো বাংলার মানুষের জীবনে ভয়ংকর উঠেছিল৷আলীবর্দী খাঁ একবার যুদ্ধে পরাজিত করলে ও ফল হয়নি৷ তিনি আক্রমণ এর মূল কান্ডারি ভাস্কর পন্ডিত কেও হত্যা করেন৷ দীর্ঘ নয় বছর বাংলায় ক্রমাগত হামলা করেও মারাঠাদের উড়িষ্যা ছাড়া বিশেষ কিছু লাভ হয়নে৷ কিন্তু অনুর্বর উড়িষ্যায় তাদের বিশেষ কিছু লাভ হয়নি৷ বাংলায় আলীবর্দীর কাছে বার বার পরাজিত হয়৷ তখন রঘুজী বাঙলার নবাবের কাছে সন্ধির প্রস্তাব দেয়৷ আভ্যন্তরীণ সমস্যায় পড়ে আলীবর্দীও সন্ধির প্রস্তাব গ্রহণ করে৷ ১৭৫১ সালে বাঙলায় মারাঠা হামলার সমাপ্তি হয়৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved