জামাতের চিৎকার আপাতত স্তব্ধ হয়েছে বাংলাদেশে, কিন্তু একেবারে মুখ বন্ধ হয়েছে বলা যাবে না৷ তবু মন্দের ভলো অসাম্প্রদায়িক শক্তির কাছে মাথা বিকিয়ে দেয়নি বাংলাদেশের সংখ্যাগুরু মানুষ৷ এপারে মৌলবাদীরা ওত পেতে বসে ছিল ওপারে জামাত জয় করলে এপারে রাম মাত করবে৷ কিন্তু বিধি বাম---কারণ জাতটা বাঙালী৷
শত্রুর মুখে ঝামা ঘষে এটুকু জোর গলায় বলা যাবে বাঙালী সাম্প্রদায়িক নয় পশ্চিমি সাম্প্রদায়িকতার শিকার৷ ৪৬-এ দেশ ভাগের কারিগর ছিল স্বদেশী পশ্চিমি বণিক, ব্যবসাদার ও রাজনীতির কারবারী৷ ১৯০৫-এর একটা ইতিহাস---সে ইতিহাসও বাঙলাভাগের ইতিহাস, কিন্তু ভেঙেও গড়তে বাধ্য হয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ বাঙালীর মার খেয়ে৷
আজ ৪৬কে সামনে এনে বাঙলার আনাচে কানাচে ঘুরছে পশ্চিমি শ্বাপদরা৷ সব বিভেদ বিদ্বেষ ভুলে বাঙালীও ঘুরে দাঁড়াক---১৯১১কে সামনে রেখে---ভারতে এখন বাংলা ভাষা বলাটাই অপরাধ৷ পাশেই বাংলাদেশ বাংলা তার রাষ্ট্রভাষা৷ ভারতের কোন রাষ্ট্রভাষা নেই৷ কারণ ভারত একটা দেশ নয়, বহু ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর যুক্তরাষ্ট্র ভারত৷ প্রত্যেক জনগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি আছে৷ সেখানে একটিমাত্র ভাষা রাষ্ট্রভাষা হয় কি করে! তবু যত দোষ নন্দ ঘোষ বাংলা ভাষা বাঙালীর৷ তবু পথ দেখাবে বাঙালীই৷ স্বাধীনতা সংগ্রামের মন্ত্র বন্দেমাতরম বাঙালীর, দেশের জাতীয় সংগীত জনগণমন.... বাঙালীর৷ কেন্দ্রের ভান্ডার পূর্ণ হয় বৃহত্তর বাঙলার অর্থে৷ বাঙালী তার ন্যায্য পাওনা টুকুও পায় না৷
শাসকের চোখে শোষকের চোখে আতঙ্কের বাঙালী৷ না, মানব বোমার আতঙ্ক নয়, ধর্মান্ধ সন্ত্রাসবাদের আতঙ্ক নয়, আতঙ্ক বাঙালীর রাষ্ট্র চেতনা, রাজনৈতিক দূরদৃষ্টি, বাঙালীর চিন্তায় বিকেন্দ্রীত অর্থনীতি---অর্থনৈতিক স্বাধীনতা--- শোষক ও তার দোসর শাসকের কাছে আতঙ্ক স্বরূপ৷ ইতিহাস বাঙালীকে ডাকছে, সে ইতিহাস পশ্চিমী ষড়যন্ত্রের ৪৬ এর ইতিহাস নয়৷ সেই ইতিহাস ১৯০৫ এর সাম্রাজ্যবাদী ষড়যন্ত্রের ইতিহাস, যে ষড়যন্ত্র বাঙালীর বৌদ্ধিক ও ক্ষাত্র শক্তির কাছে পরাজিত হয়েছিল ১৯১১-এ৷ সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হওয়ার দিন আসছে৷ শেষ কথা বিশ্বকবির ভাষায়---- অদৃষ্ট কর্তৃক অপমানিত হয়ে বাঙালী মরবে না.... প্রচন্ড মার খেয়েও মারের ওপর মাথা তুলে দাঁড়াবে বাঙালী৷
- Log in to post comments