ভাবার্থ :- ‘জীবঃ জীবস্য ভোজনম কথাটি সোজা অর্থ জীব জীবের আহার৷ কথাটা সত্য, কিন্তু তার মানে আবার এই নয় যে সমস্ত জীব সমস্ত জীবের আহার৷ মাংসাশী জীব অন্য জীবের মাংস ভক্ষণ করে৷ কিন্তু মানুষ মাংসাশী জীবের মধ্যে পড়ে না৷ মানুষের দাঁত ও পরিপাক যন্ত্রের (যেমন দীর্ঘ ক্ষুদ্রান্ত) সঙ্গে শাকাহারী বা ফলাহারী জীবেরই সাদৃশ্য বেশী৷ গাছ-পাতা, ফল-ফুল, শাক-সব্জীও জীবন্ত জীবকোষের সমাহার৷ তাই বুদ্ধিমান তথা বিবেকবান মানুষের কর্তব্য, অপেক্ষাকৃত উন্নত জীবকে হত্যা না করে অবিকশিত বা অল্পবিকশিত সত্তাকে আহার হিসেবে গ্রহণ করা৷
শরীর-মনের ওপর খাদ্যের প্রভাব অপরিসীম৷ কথায় বলে You are what you eat. গুণানুসারে আহার তিনভাগে বিভক্ত---সাত্ত্বিক, রাজসিক ও তামসিক৷ এদের মধ্যে সাত্ত্বিক আহারই মানুষের পক্ষে সর্বাত্মক কল্যাণকর৷ তাই রসনাতৃপ্তির জন্যে জীবহত্যা করে মাছ-মাংস না খেয়ে বা তামসিক আহার গ্রহণ না করে ফল-ফুল, শাক-সব্জী, দুধ-দই ও শস্যজাতীয় সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ৷ সাত্ত্বিক আহার স্বাস্থ্যর্দ্ধক, শরীর-মনের উৎকর্ষসাধক৷
আর, অহিংসানীতিও শরীর, মন ও বাক্য দ্বারা অন্যকে কষ্ট না দেওয়া মানুষের পক্ষে এক অবশ্যপালনীয় বিধি৷ তাই ‘জীব জীবের ভোজন’ হলেও খাদ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিবেকবুদ্ধির প্রয়োগ করে যথার্থ খাদ্যগ্রহণ করাই শ্রেয়৷
(স্তোত্রমঞ্জুষা থেকে সংগৃহীত)