প্রাচীন বাংলায় হোলি উৎসব যেভাবে হত তার অনেক বিবর্তন ঘটেছে৷ হোলি কৃষি সমাজের পুজো৷ শস্য উৎপাদনের কামনায় ছিল হোলি উৎসবের লক্ষ্য৷ দ্বাদশ শতকের আগে বাঙলা থেকে এই উৎসবে নরবলি দেয়া হতো৷ পরে নরবলি বন্ধ হয়ে পশুবলি ও হোম যজ্ঞ প্রচলিত হয়৷ এই হোলির সঙ্গে রাধা কৃষ্ণ ঝুলন ও আবীর কুমকুম এর খেলা ও একসময় অনুষ্ঠিত হতো৷ প্রথম ঝুলন উৎসবের কথা শোনা যায় খ্রীষ্টপূর্ব দ্বিতীয় তৃতীয় শতকে রামগড় গুহার লিপির মাধ্যমে৷ কিন্তু সেই ঝুলন রাধাকৃষ্ণের ছিল না, ছিল মানুষের৷ সেই ঝুলনে নর নারী উভয়ই দোলা খেত৷ অবশ্য শিশুরাই বেশিক্ষণ সেই দোলনা অধিকার করে রাখতো৷ কালক্রমে মানব শিশুর জায়গায় স্থান পেল বাল গোপাল৷ বালগোপাল কে দোলা দিত মা যশোদা৷ পরবর্তী পর্বে বালগোপাল উত্তীর্ণ হল ভগবান শ্রীকৃষ্ণ৷ সেই থেকে পরমপুর শ্রীকৃষ্ণ আর রাধার ঝুলন লীলা আজও বাঙলা তথা সারা ভারতে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে৷ আজকাল অবশ্য আমরা রাধাকৃষ্ণের সাথে আরো নানারকম পুতুল ও সাজসজ্জার মাধ্যমে ঝুলনকে আকর্ষণীয় করার চেষ্টা করি৷
কৃষ্ণলীলা কে কেন্দ্র করে যে দুটি উৎসব প্রচলিত আছে তা হলো দোলযাত্রা ও ঝুলন যাত্রা৷ ভারতের বহু উৎসবের মতো এই উৎসব দুটিতেও সূর্যলীলার প্রকাশ ঘটেছে৷ সূর্যের গতিবিধির প্রতি লক্ষ্য রেখেই দোল আর ঝুলনকে উৎসব না বলে যাত্রা বলা হয়েছে৷ যাত্রা মানে গমন, সূর্যের উত্তরায়নের শুরুতে হয় দোলযাত্রা৷ আর শ্রাবণী পূর্ণিমার সূর্যের দক্ষিণায়ন৷ সেদিন শ্রীকৃষ্ণের ঝুলন অর্থাৎ দোলন৷ ঝুলন দোলযাত্রার অঙ্গ৷ শ্রী যোগেশচন্দ্র রায় বিদ্যানিধির মতে দোলযাত্রা একটি নয়, বছরে দুটি, একটি নাম দোল, অপরটির নাম ঝুলন৷ সূর্যরূপ বিষ্ণু বৎসরে দুইবার দোলনায় আরোহন করেন৷
- Log in to post comments