২০২৬-২৭ সালের বাজেট ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সংসদে পেশ হয়েছে ১লা ফেব্রুয়ারী৷ এই বাজেট হলো প্রশাসনিক ক্ষেত্রে খরচ পরিচালনার জন্য আয় ও ব্যয়ের হিসাবের জন্য খসড়া পেশ করে সিট পাশ করাতে হয় সরকার পক্ষকে বিরোধী সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে৷ এটিকে সংস্কৃতে বলা হয় আয় ও ব্যয় মাত্রিকা৷ বিশেষ করে এটির নাম দিয়েছেন মহান দার্শনিক প্রাউট প্রবক্তা শ্রদ্ধেয় প্রভাত রঞ্জন সরকার৷ এই আয়ব্যয়ের হিসাবে যদি আয় বেশী হয় তা হলে সেটি হয় উদ্বৃত্ত বাজেট আর আয় কম খরচ বেশী হয় সেটি হয় ঘাটতি বাজেট৷ আগাম এটা পাশ করাতে হয়৷
বিশাল জনসংখ্যা বহুল দেশে দেখা যায় এখানে সরকার চালাতে সাধারণত ব্যয়ের পরিমাণ বেশী আয়ের চেয়ে৷ তাই বর্তমান কেন্দ্র সরকার যে বাজেট পেশ করেছে আলোচনান্তে বিরোধী পক্ষ এই বাজেটকে এককথায় ঘোষনা করেছেন যে কেন্দ্রীয় বাজেট অন্ধ ও দিশাহীন৷ এই বিরোধীগণ হচ্ছেন তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী দল, আম আদমীও অন্যান্য দলের সদস্যগণ৷ তাঁদের মতে দেশের যে সমস্ত সমস্যাগুলি আছে যেমন চরম বেকার সমস্যা, কৃষিক্ষেত্রে সঙ্কট, বিনিয়োগ হ্রাস, ক্রয়ক্ষমতার পতন এই বাজেটে উপেক্ষিত৷ তাছাড়া বিদেশী বিনিয়োগকারিরা পুঁজি তুলে নিচ্ছেন ভারত থেকে, সরকার এমন একটি বাজেট পেশ করেছেন এই সব ব্যাপারে সরকারের কোন যেন চিন্তা ভাবনাই নেই! সমস্যাগুলির সমাধানের জন্য সুদূরপ্রসারী কোন পরিকল্পনাই নেই৷ এই বাজেটটি ধনতন্ত্রের সেবক বিজেপি ধনী ও বিত্তশালীদেরই মনজয় করতে তাঁদের সরকার হয়ে কাজ করছেন৷
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যাঁরা করদাতা ধনী ও বিত্তশালী তাঁরা স্বস্তি পেলেন এই বাজেটে কারণ হঠাৎ এক নোতুন আইন মোদিজী করেছেন যেটি ১লা এপ্রিল থেকে কার্যকর৷ ধনীদের সবকিছু ব্যাপারে মোদিজী এতো উদার সরকার যেন শুধু তাঁদের সেবায় নির্বাচিত৷ তাই মোদিজী কয়েক মাস আগে ঘোষনা করে তিনি কয়েক লক্ষ ধনী লক্ষপতি মহিলাকে কয়েকমাসের মধ্যে কোটিপতি করে দেবেন কিন্তু গরিব অভাবী মহিলা যাঁরা চরম অভাবের মধ্যে আছেন যাঁদের অন্ন, বস্ত্র, চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের অভাব তাঁদের জন্য একটি কথাও তাঁর মুখ থেকে বেরোয় নি! জনগণ তাই বলেন এই ব্যষ্টি কি করে উচ্চারণ করেন যে তিনি অভাবী ঘরের সন্তান!
প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেন যে এই বাজেট শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পিছিয়ে পড়া মানুষের উন্নয়নে কোন ইতিবাচক ভূমিকা নেবেন না! তিনি বলেন বাজেট শুধু আয়ব্যয়ের হিসাব নয়, এটি হলো সরকারের প্রতিশ্রুতি৷ মোদিজী সরকার এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছেন তাঁর ১১ বছর শাসনে৷ তাই এই বাজেট গরিবদের সংকটে ফেলবে! তাই এই বাজেট ধান্দাবাজি ও দিশাহীন!
মোদিজী তো ধনীদেরই প্রধানমন্ত্রী তাই ৪০ শতাংশ ধনী এতে আরো এগিয়ে যাবেন আর ৬০ শতাংশ লোক শোষণ ও বঞ্চনায় রক্ত শূন্য হবেন নানা করের ধাক্কায় ও বেকারত্বের অভিশাপে!
বড়ই আশ্চর্য্যের কথা যে দিন মোদিজীর বাজেট আলোচনা সেইদিন ধনতান্ত্রিক সমাজ ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার শেয়ার বাজারে গুরুত্বপূর্ণ দিন ছিল৷ সেই দিনেই দারুণ ধবস নামে শেয়ার বাজারে৷ এই ধবসে ১০ লক্ষ কোটি টাকা ক্ষতি হয় এই বাজেটের রূপ দেখেই!
এর ফলে বড় বড় বিনিয়োগকারিদের মধ্যে দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে? চিরবঞ্চিত ও প্রায় তিন বছর ধরে এই হিন্দুত্ববাদী বিজেপি সরকার বঞ্চিত পশ্চিম বাংলাকে যৌথ উন্নয়ণমূলক কাজে কোন কেন্দ্রীয় অনুদান দেননি ও যদি পশ্চিম বাংলার সরকার বার বার কাগজপত্র দিয়েও অনুরোধ করা সত্ত্বেও! বর্তমান বাজেটে মাত্র তিনটি ঘোষনা করা হয়েছে৷ কিন্তু পশ্চিমবাঙলার ৬০ শতাংশ জনগণ যাঁরা নিম্নমধ্যবিত্তের ও গরিব তাঁদের জন্য কোন কিছুই সাহায্যের আশার বাণী শোনাননি গরিব মধ্যবিত্ত ও সাধারণ নাগরিকগণ বাদুড় ঝোলা হয়ে প্যাসেঞ্জার ট্রেনে যাতায়াত করেন রুজিরোজগারের জন্য প্যাসেঞ্জার ট্রেন বাড়ানোর কথাটুকু না বলে তিনি ধনীদের জন্য পশ্চিম বাংলাকে হাইস্পীডের ট্রেনের ব্যবস্থা করেছেন সেই বারানসী থেকে শিলিগুড়ি, সুরাট থেকে ডানকুনি পর্যন্ত করিডর জুড়বে এই কথা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন আশার বাণী শুনিয়েছেন৷ কিন্তু বাজেট তো একবছরের এই একবছর ঐ কোটিকোটি অভাবী দেশবাসীর জন্য শূন্য! এ কেমন গণতান্ত্রিক (?) রাষ্ট্রের বাজেট! আবার প্রতিরক্ষা বাড়তি বরাদ্দ ১ লক্ষ ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ৷ গরিবের রক্ত জল করা করের টাকায় তাঁরা বছর ভোর বুড়ো আঙ্গুল চুষবে? কেন্দ্র সরকার তো বাজেটে আগামী বছরে জরুরী কালীন যে জন কল্যাণে বেঁচে থাকার জন্য সাধারণ নাগরিকদের জরুরী অভাব পূরণের ব্যবস্থা করবেন কি? সেই ব্যবস্থাটাতো করা তো জরুরী ছিল৷ সেটাকে অস্বীকার করে ভবিষ্যতের জন্যে অর্থব্যয়ের বাজেট---এটাকে কি বলা যায়? যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় পশ্চিমবঙ্গের প্রতি এই বঞ্চনা অবহেলা কি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করবে না? শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয় সমগ্র ভরতবাসীকে বর্তমান হিন্দুত্ববাদী সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী বঞ্চনার বাজেট উপহার দিলেন মুষ্টিমেয় কিছু ধণিক সম্প্রদায় ছাড়া!
- Log in to post comments