ভারতে যুক্তরাষ্ট্রীয় গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু আছে৷ কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হ’ল এখানে গত ১৯৪৭ সালে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষকে কয়েক টুকরো করে ভাগ করে পাকিস্তান ও হিন্দুস্থান তৈরী করা হ’ল৷ দেশের আপামর জনগণ এ ব্যাপারে কিছুই জানতো না৷ ভারতের পুর্ব-পশ্চিমে দুটি ডানা আজ বিচ্ছিন্ন৷ আজও ভারতকে সেই ডানাহীন অসহায় পক্ষীর ন্যায় নানা ধরণের সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে৷
বে-আইনী অনুপ্রবেশ,চোরাচালান, আর সীমান্তে বিশেষ করে পশ্চিম দিকে পাকিস্তানের হিংসাশ্রয়ী জঙ্গী হামলায় ভারত ক্ষত-বিক্ষত হয়েই চলেছে সেই দেশ ভাগের পর থেকে অদ্যাবধি৷ তাছাড়া পাকিস্তান পর পর কয়েকবার ভারত আক্রমণ করে ও ভারতের অভ্যন্তরে একনাগাড়ে জঙ্গী হামলা ঘটিয়ে ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতিতে ব্যাহত করেই চলেছে৷ এরই মধ্য দিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার কখনও কংগ্রেস দল, কখনও জনতা, ভারতীয় জনতা দল এককভাবে আবার অন্য দলগুলির সহায়তা নিয়ে মিলিজুলি সরকার গড়ে দলীয় শাসন কায়েম করে চলেছে৷ বর্তমান কেন্দ্রে বিজেপির ১৮তম লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেয়ে জোট সরকার গড়েছে৷
তবে যত দিন যাচ্ছে এদেশের গণতন্ত্রটা এক নক্কারজনক অবস্থার মধ্য দিয়ে চলেছে৷ যা জনগণের কোনও সেবাই দিতে পারছে না৷ দলতন্ত্রের করুণ দুরবস্থা দেখে জনগণ দিশেহারা৷ রাজনীতিতে ধীরে ধীরে দুর্বৃত্তায়নের প্রাবল্য বৃদ্ধি পেয়েছে৷ গণতন্ত্র তখনই সার্থক হতে পারে যেখানে বিরোধী পক্ষ শক্তিশালী হয়৷ তাহলে একক সংখ্যাগারিষ্ঠ দল স্বৈরাচারী হতে পারে না৷ এই বিরাট বহুভাষাভাষী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিরোধীদের কোনও ঐক্য ও সংহতি প্রায় নেই৷ তাই একদলীয় রাষ্ট্রের স্বৈরাচারী মানসিকতার আগ্রাসী নীতিতে দেশ আক্রান্ত হচ্ছে৷ তাতে কোটি কোটি মানুষ শোষিত হচ্ছে আর শাসনে কেন্দ্রের শাসকদল৷ তাদের মত করে শাসন চালিয়ে গণতন্ত্রকে দলীয় শাসনের হাতিয়ার করে ছেড়েছে৷ এরা সংবিধানকে বারবার সংশোধন করে চলেছে৷
আইনপরিবর্তন করে দলদাস নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করে চরম স্বেচ্ছাচারিতা করে চলেছে দেশের বর্তমান সরকার৷ যেন তেন প্রকারে পশ্চিমবঙ্গ জয় করতে আর্থিক বঞ্চনা, বিভিন্ন এজেন্ট দিয়ে সরকারকে বিপর্যস্ত করা সবরকম ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হওয়ায় এখন দলদাস নির্বাচন কমিশনারকে হাতিয়ার করে রাজ্যের অর্ধ কোটিরও বেশী ভোটারের ভাগ্য ঝুলিয়ে রেখে নির্বাচনের দিন ঘোষনা করেছে মনে রাখতে হবে কেন্দ্রীয় সরকার দলদাস নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করতেই আইন পরিবর্তন করে৷ সেই আইন পরিবর্তনের বিরুদ্ধে মামলা হয়৷ কিন্তু মামলা চলাকালীনই নরেন মোদির সরকার ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগেই জ্ঞানেশ কুমার ও সুখবীর সিং সান্ধুকে কমিশনার নিয়োগ করে৷ শীর্ষ আদালত মামলা চলাকালিনই তড়িঘড়ি দুই কমিশনার নিয়োগ করা শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকারকে তীব্র ভর্ৎসনা করেন৷ এমন কি বিরোধী নেতার অভিযোগকেও মান্যতা দেয়৷ তবুও নিয়োগ বাতিল বা স্থগিত করেনি শীর্ষ আদালত৷ ভারতবর্ষের আইন ও বিচার ব্যবস্থা এমনই অদ্ভুদ রকমের৷
তাইগণতন্ত্র আজ বিরাট দেশে জনগণকে সেবা দানে ব্যর্থ৷ দলবাজিটাই প্রাধান্য পেয়ে চলেছে৷ দেশে বর্তমান বেকারীর হার ৪৫ বছরে সর্বোচ্চ৷ কাগজে-কলমে ৭৮ বছরের গণতন্ত্র ভারতের৷ নাগরিকগণ এখনও উপলব্ধি করতে পারল না গণতন্ত্রে নাগরিকদের ভোটদানটা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ৷ আসলে রাজনৈতিক দলগুলি চায় না জনগণ সামাজিক অর্থনৈতিক রাজনৈতিক বিষয়ে সচেতন হোক৷ লজ্জার কথা আধা সামরিক বাহিনী দিয়ে নির্বাচন হয়৷ স্বাধীন দেশে ভোটকে কেন্দ্র করে বহু মানুষ অকালে চলে যায়৷ কত মায়ের কোল যে খালি হ’য় তা বলার নয়!
নির্বাচনে এত প্রচার কীসের? কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে মাঠ ভর্তি করে নেতা বা নেত্রীরা কোন্ উদ্দেশ্যে সমাবেশ করেন? নির্বাচনের সময়ই দীর্ঘ সময় ধরে সরকারের দপ্তরে কোন কাজই হয় না৷ এতে দেশের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয় ও জনগণ নানাভাবে দুর্ভোগ ভোগ করে থাকেন৷ এ কেমন গণতন্ত্র৷ ভারতের পক্ষে এসব অশোভন৷ বক্তাদের বক্তব্য শালিনতাকে লজ্জা দেয়৷ এ কেমন বক্তব্য? গরীব দেশ ভারত নোতুন সরকারে নানা ধরণের মন্ত্রী হয়েছেন প্রায় ৫৮ জন৷ এত মন্ত্রীর কি কোনও প্রয়োজন আছে? সরকার চালাতেই তো জনগণের দেওয়া কর বাবদ সংগৃহীত অর্থ ব্যয় হয়ে যায়৷ তাহলে দেশের উন্নতিটা হবে কি করে? তাই দলগুলিকে ভাবতে হবে এই দেশে কীভাবে গণতন্ত্রের মর্যাদা রক্ষা করা যায়৷ আর বিরোধী দলগুলিকে অবশ্যই সংযত ও ঐক্যবদ্ধ হয়ে গণতন্ত্রের স্বার্থে কাজ করে যেতে হবে৷
দলতন্ত্রের এই নোঙরা খেলা আর জনগণের করের টাকায় নিজেদের ঠাট-বাট করাটা কতদিন চলবে? জনগণ যখন একদিন একজোট হয়ে এ অন্যায়ের কৈফিয়ত চাইবে সেদিন দলতন্ত্রের নেতা-নেত্রীরা তাদের সামনে দাঁড়াতে পারবেন তো?
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তারই একটা পরীক্ষা হয়ে যাক৷ কারণ এই রাজ্যের জনগণ সামাজিক অর্থনৈতিক ও রাজনীতি বিষয়ে যথেষ্ট সচেতন৷
- Log in to post comments