Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

কিশোর বিপ্লবী (২)

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

১৯০৬ সাল৷ সারা দেশ বৃটিশের অত্যাচার অতিষ্ঠ৷ মুক্তি-পাগল দেশবাসীর মনে স্বাধীনতার স্পৃহা জাগাবার জন্য সমাস্ত্র উষ্ণরক্ত বিপ্লবী দল সবে মাথা চাড়া দিয়ে উঠেছে৷

ফেব্রুয়ারী মাস৷

মেদিনীপুর শহরের একটি পুরনো জেল খানার প্রাঙ্গনে কৃষি-শিল্পের প্রদর্শনীর শুরু হয়েছে৷ নানান লোকের আনা গোনা চলছে৷ দর্শকের সংখ্যা নিতান্ত কম নয়৷ একটি বালক রোজই আসে৷ মেলা দেখে চলে যায়৷

মেলা আরম্ভ হবার আটদিন পর শুরু হলো পুরস্কার বিতরনী সভা৷ জেলার যত হোমড়া চোমড়া আর বড় বড় সরকারি কর্মচারী যোগ দিলেন সেই সভায়৷ চারিদিকে হৈচৈ পড়ে গেল৷ অতিথিদের আপ্যায়নে সভার উদ্যোক্তারা ব্যস্ত৷

ঠিক এমন সময় সুযোগ বুঝে সেই বালক মেলার প্রবেশ দ্বারে প্রকাশ্যে কতকগুলো বই বিলোতে লাগলো৷ বই গুলি ছিল রাজ দ্রোহাত্মক৷ তাই সে তাড়াতাড়ি কাজ সারতে লাগলো৷

দেখতে দেখতে মেলার স্বেচ্ছা সেবকদের অধিনায়কের নজরে পড়ে গেল ব্যাপারটা৷ তিনি তৎক্ষণাৎ বালককে ধরাবার জন্য তৎপর হলেন৷ কিন্তু বালকের শক্তি সামর্থ্যের পরিচয় তিনি বোধহয় আগেই পেয়েছিলেন৷ তাই নিজে না গিয়ে একজন সেপাইকে পাঠালেন৷

কিন্তু তাকে ধরা তো দূরে কথা, সোনাই দুপা এগিয়ে আসতেই বালক তার নাকে বসিয়ে ছিল প্রচণ্ড এক ঘুষি৷ সেপাই যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠলো৷ আহত নাকটা ধরে বসে পড়লো মাটিতে৷ নাক দিয়ে গল গল করে রক্ত ঝরতে লাগলো৷

মূহূর্তের মধ্যে আশপাশের লোকজন হুড় হুড় করে ছুটে এলো৷ সেপাইর দুরবস্থা দেখে সবাই ক্রোধে মার মার চিৎকার করে উঠলো৷

ডান পিটে বালক পালিয়ে এল আলিগঞ্জে৷ লোক চক্ষুর অন্তরালে এক তাঁতশালে কাটালো একমাস৷ কিন্তু ধূর্ত পুলিশের চোখকে সে ফাঁকি দিতে পারলো না৷

বালককে হাজতে ধরে আনা হলো৷ শুরু হলো বিচার কিন্তু বিচারকের বোধ হয় মায়া হলো বালকের সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলের মতো মুখখানার দিকে তাকিয়ে৷ বিচারে বালক মুক্তি পেল৷ 

ইতিমধ্যে সারা শহরময় ছড়িয়ে পড়েছিল বালকের সাহসিকতার কথা৷ তাই মুক্তির পর যখন সে বিচারালয় থেকে বের হলো তখন স্কুলের সব ছাত্ররা মিছিল করে তাকে নিয়ে শহরের পথে শোভা যাত্রা শুরু করলো৷ আবালবৃদ্ধবণিতা সকলের মুখেই বালকের জয়ধবনি৷

দেবদাস করণ তার সাপ্তাহিক ‘মেদিনী বান্ধব’ পত্রিকায় বালকের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে একটি সুন্দর প্রবন্ধ প্রকাশ করলেন৷ দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়লো তার নাম৷ তার আগুন জ্বালানো কীর্তি প্রতি ঘরে ঘরে মহা আলোড়ণ--- সৃষ্টি করলো৷ বলতে পারো কে এই দুর্দান্ত সাহসী বালক? সে আর কেউ নয়৷ তোমাদের অতি পরিচিত মরণজয়ী বিপ্লবী বীর ক্ষুদিরাম৷ জন্ম ৩রা ডিসেম্বর, ১৮৮৯ খ্রীষ্টাব্দে মেদিনীপুরের হবিবপুর গ্রামে৷ ১৯০৭ খ্রীষ্টাব্দে গুপ্ত সমিতি কলকাতার চিফ্‌ প্রেসিডেন্সি ম্যাজিষ্ট্রেট অত্যাচারী কিংসফোর্ডকে হত্যার পরিকল্পনা করে৷ তখন নিরাপত্তার কারণে কিংসফোর্ডকে বিহারের মজঃফরপুরে বদলি করা হয়৷ দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্লচাকী মজঃফরপুর যাত্রা করে৷ ১৯০৮ খ্রীষ্টাব্দে ৩০শে এপ্রিল রাত আটটায় একটি ফিটন গাড়ীকে কিংসফোর্ডের গাড়ি মনে করে ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল বোমা নিক্ষেপ করে৷ গাড়ীর আরোহী দুই ইউরোপীয় মহিলার মৃত্যুর হয়৷ পরদিন ক্ষুদিরাম গ্রেপ্তার হয় ও বিচারে তার ফাঁসি হয়৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved