বুদ্ধদেবের বহু উপদেশের মধ্যে কৃতজ্ঞতা স্বীকারও একটি মূল্যবান উপদেশ৷ তিনি শিষ্যদের সব সময়ই উপকারীর প্রতি কৃতজ্ঞ হতে উপদেশ দিতেন৷ উপকারীর উপকার অস্বীকার করা বা ভুলে যাওয়া তিনি মোটেই পছন্দ করতেন না৷
একদিন রাজগীরের এক ব্রাহ্মণের ইচ্ছে হলো তিনি সংসার ত্যাগ করে বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করবেন৷ তারপর ভিক্ষু হবেন৷ ব্রাহ্মণের নাম রাধ ভিক্ষু হবার জন্য রাধ এসে পৌঁছলেন বেণুবনে৷
কিন্তু কোন ভিক্ষুই রাধকে দীক্ষা দিতে চাইলেন না৷ কারণ রাধ ছিলেন বড় চঞ্চল৷ ভাবের ঘোরে আজ হয়তো তিনি দীক্ষা নিয়ে ভিক্ষু হবেন, কিন্তু ভিক্ষু জীবনের কঠোরতা সহ্য করতে না পেরে কালই হয়তো আবার সংসারে ফিরে যাবেন৷ তাই কোন ভিক্ষুই তাঁকে দীক্ষা দিলেন না৷
মনের দুঃখে রাধ অনশন শুরু করলেন৷ বিহারের মধ্যেই তিনি অনশন শুরু করলেন৷ খাওয়া নেই, দাওয়া নেই--- এমন কি ফলও পর্যন্ত স্পর্শ করেন না৷ শরীর ক্রমশঃ ভেঙে যেতে লাগলো৷ হাড় সব বেরিয়ে পড়লো৷ চোখ বসে গেল ভেতরে৷
এমন সময় তিনি বুদ্ধের নজরে পড়লেন৷ বুদ্ধ তাঁর সব কথা শুণলেন৷ শুণে দুঃখিত হলেন৷ তাঁর শিষ্যরা কালকের রাধকেই দেখেছে৷ কিন্তু কাল যে চঞ্চল ছিল আজ সে তো স্থির হতে পারে৷ জগতের সব কিছুরই তো নিয়ত পরিবর্তন হচ্ছে৷
তিনি ভিক্ষুদের ডেকে জিজ্ঞেস করলেন--- ভিক্ষুগণ এই ব্রাহ্মণের উপকার তোমাদের কারো স্মরণ আছে কি?
কোন ভিক্ষুই কোন উত্তর দিল না৷ অবশেষে সারিপুত্র নামে এক ভিক্ষু উঠে বললেন, মনে আছে ভদ্রে৷
বুদ্ধ জিজ্ঞেস করলেন, সারিপুত্র, এই বৃদ্ধের কোন উপকারের কথা তোমার মনে আছে?
সারিপুত্র বললেন, আমরা যখন রাজগীরে ভিক্ষাচার করে বেড়াচ্ছিলাম এই ব্রাহ্মণ তখন এক গৃহস্থকে আমাদের ভিক্ষা দিতে বলেছিলেন৷
উত্তম! --- সহাস্যে বললেন বুদ্ধ---উপকারীকে কেবল তুমিই মনে রেখেছ, সারিপুত্র৷ তুমি সাধু৷ জগতে যারা সাধু তারা কখনো কৃতজ্ঞতা স্বীকার করতে কুন্ঠা বোধ করে না--- ভুল করে না৷ সারিপুত্র, তুমি এই ব্রাহ্মণকে দীক্ষা দাও৷ কৃতজ্ঞতার স্বীকৃতি জানাও৷
সারিপুত্র ব্রাহ্মণকে দীক্ষা দিলেন৷ উপকারের মূল্য দিলেন--- মহামূল্য৷
- Log in to post comments