Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

কূটশীলা

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘কূট’ শব্দের আরেকটি অর্থ হচ্ছে পর্বত৷ পাহাড় ওপরের দিকেই উঠুক আর কোণাকুণিই উঠুক, তার গাত্র আদৌ সরলরেখাকার নয় তাতে রয়েছে অজস্র এৰড়ো খাড়া, অজস্র খানা-খন্দ, অজস্র কন্দর-গহ্বর৷ এই জন্যেই পাহাড়কে ‘কুট’ ৰলা হয়৷ পাহাড়ের জন্যে যদি দীর্ঘ ‘ঊ’-কার দিয়ে ‘কূট’ লেখা হয় সেক্ষেত্রে ‘কূট’ ৰলতে কিন্তু গোটা পর্বতটাকে ৰোঝাবে না---ৰোঝাৰে কেবল তার শিখরাংশ ও তৎসন্নিহিত এলাকাকে৷ গৃধ্রকূট (গৃধ্রকূট> গিউড> গিউড়> গিধৌড়), অন্নকূট (অন্নের পাহাড়), অমরকূট (ভুল করে অনেকে ‘অমরকোট’ ৰলেন), কূটশিলা (অনেকে ভুল করে ‘কোটশিলা’ ৰলে), কূটাসুর (পাহাড়ী অসুর-অনেকে ভুল করে ‘কোটাসুর’ ৰলে থাকে), চিত্রকূট প্রভৃতি বানানগুলিতে ‘কূ’ ব্যবহার করলে বেশী ভাল হৰে৷ ‘কূট’ মানে পাহাড়৷ আমাদের পুরুলিয়া জেলার ‘কুটশিলা’ নামের স্থানটির সঙ্গে তোমরা অনেকেই পরিচিত৷ কুটশিলা মানে যেখানে চারিদিকে ছড়ানো রয়েছে কুট অর্থাৎ পাহাড়ের শিলা, অর্থাৎ পাথর৷ অশিক্ষিত লোকেরা এই নামটিই ব্যবহার করেন কিন্তু গ্রামের শিক্ষিত লোকেরা ভুল করে কোটশিলা বলেন৷ কুটজ> কুডজ> কুড়জি> কুচি কুর্চির আদিবাস পাহাড়ী মাটিতে৷ পরে সে ছড়িয়ে পড়ে নদীর অববাহিকায়৷ পরে রাঢ়ের সর্বত্র.....তারপর বাংলার সর্বত্র, এখন সে ছড়িয়ে পড়েছে ৰাকী ভারতে৷ আমাদের কৃষ্ণনগর শহরের কাছাকাছি জায়গায় একটি পাড়ার নাম ছিল কুর্চিপোতা৷ প্রাচীন বাংলায় নূতন গ্রাম প্রতিষ্ঠা করবার সময় কখনো মানুষ সেই গ্রামে একটি মন্দির স্থাপন করতেন৷ গ্রামের নাম সেই তীর্থপতির নাম অনুযায়ী হত৷ যেমন একটি হরিমন্দির প্রতিষ্ঠা করে তারপর ঘর-বাড়ী নির্মাণ করতেন৷ গ্রামের নাম দিতেন হরিপুর বা হরিনগর৷ কঙ্কালে বসে বামাচারী তান্ত্রিকেরা সাধনা করে গ্রাম প্রতিষ্ঠা করলেন না দিলেন কঙ্কালীতলা৷ গ্রামের কোন বরিষ্ঠ লোক সেখানে বসে দেবোদ্দেশে পূজা করলেন৷ গ্রামের নাম হয়ে গেল রূপনারায়ণপুর, দেব নারায়ণপুর, শ্রীনিবাসদ্বীপ (পাবনা জেলার কথ্য নাম---চিন্নিব্যাসদ্যা)৷ বড় বড় পণ্ডিত একত্রিত হয়ে একটি সুন্দর সারস্বত সমাজ গড়ে তুললেন৷ স্থানটিকে লাগিয়ে দিলেন বৈদুষ্যের আভিজাত্য৷ স্থানটির নাম হল কন্থিকা৷ কম্বিকা> কন্থিআ> কাঁথি৷ কোথাও একটি লিচু গাছ লাগিয়ে গ্রামটির পতন করা হল নাম হল লিচুগাছা বা লিচুপোঁতা৷ কুর্চি ফুলের গাছ লাগিয়ে গ্রামের প্রতন হল.... নাম হল কুর্চিপোঁতা৷ গ্রামের প্রধান পুরুষ আসান মিঞা তিনি গ্রামের শিলান্যাস করলেন......নাম হল আসানসোল অথবা একটি আসন গাছকে কেন্দ্র করে যে ৰড়সড় গ্রাম তৈরী হল তার নাম আসানসোল৷ শ্যাওড়া গাছকে কেন্দ্র করে তৈরী হল যে গ্রাম তার নাম শিহাড়সোল৷ খয়েরের বাগানের মধ্যিখানে হল তো খয়রাসোল৷ হ্যাঁ, গ্রামের নামের ইতিহাস লিখতে গেলে একটা বড় মহাভারত হয়ে যাৰে৷ তাই এখানে পূর্ণচ্ছেদ টানলুম ৷ 

তাম্রলিপ্ত --- টিন ভারতে কমই আছে কিন্তু ভারতের প্রতিবেশী ব্রহ্মদেশে যথেষ্ট আছে৷ এই টিনও পাথরের সঙ্গে মিশে থাকা অবস্থায় পাওয়া যায়৷ তাঁবার ধরণ-ধারণ কিন্তু আলাদা (তাম্র> তাম্ব> তাম্বা> তাঁৰা/তামা)৷ উর্দূতে ‘তাম্বা’ ৰলা হয়, কলকাতার বাংলায় ৰলি ‘তাঁৰা’৷ এইটেই শুদ্ধ উচ্চারণ, ‘তামা’ হচ্ছে বিলম্বিত উচ্চারণ৷ তাঁৰা সাধারণতঃ পাওয়া যায় পাহাড় থেকে কিছুটা দূরে অবস্থিত রক্ত-মৃত্তিকায় ৷ এককালে রাঢ়ে যথেষ্ট পরিমাণে তাঁৰা পাওয়া যেত৷ কিন্তু জীবনযাত্রার বিভিন্ন উপকরণ ও বৈদেশিক চাহিদা মেটাতে গিয়ে পাঠান-আমালরে শেষের দিকে রাঢ়ের তাঁৰার ভাণ্ডার প্রায় শেষ হয়ে যায়৷ মানভূমের পুঞ্চা ও মানবাজার থানার অংশবিশেষে এককালে যথেষ্ট তাঁৰা পাওয়া যেত যা ৰাঙলার তাম্রলিপ্ত বন্দর থেকে বর্হির্ভারতে রফতানী করা হত৷ তামাখুন নামক স্থানটি আগেকার দিনের তাঁরার প্রাচুর্যের পরিচয় বহন করে৷ তামাখুনের কিছুটা দক্ষিণে ধবলভূমের মুসাবনীতে ছিল এক বিরাট তাঁৰার ভাণ্ডার৷ সেই ভাণ্ডারও নিঃশেষ হয়ে আসছে৷ তাঁবার কারবারে লিপ্ত ছিল যে ৰন্দর তা তাম্রলিপ্ত৷ আর কিছুদিন পর ভারতকে বাইরের তাঁবার ওপর নির্ভর করতে হবে অথবা তাঁবার ব্যবহার বন্ধ করতে হবে৷ তবে বাঁকুড়া জেলায় এখনও এখানে সেখানে কিছু কিছু তাঁৰা রয়ে গেছে৷ রত্নগর্ভা রাঢ়, সব থাকতেও তার কিছু নেই৷              (শব্দ চয়নিকা, ত্রয়োবিংশ খণ্ড, প্রবচন-১৯৭)

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved