Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

খারাপ সোলার প্যানেল নষ্ট করার পরিকাঠামোর অভাবে ভারতে দূষণের আশঙ্কা

পি.এন.এ.
Fri, 27-02-2026

দেশে দিন দিন সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ছে৷ এরমধ্যেই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী দেশ হয়ে উঠেছে ভারত৷ আশার এই আলোর মধ্যে অন্ধকার দিকটি ক্রমশ পিছনে চলে যাচ্ছে৷ বিপুল এই সোলার প্যানেল খারাপ হয়ে যাওয়ার পরে তা নষ্ট করা নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই ভারতের৷ এই অবস্থায় সোলার প্যানেল থেকে সৃষ্ট ই-বর্জ্যের কী হবে, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ণ৷ সৌর বিদ্যুতের প্রচলন বাড়াতে ভর্তুকি দেয় সরকার৷ কেন্দ্রীয় সরকারের নথি অনুযায়ী ২৪ লক্ষ গ্রাহক এই ভর্তুকির সুযোগ নিয়েছেন৷ এখন অপ্রচলিত শক্তি ক্ষেত্রের ২০ শতাংশ আসে সৌর বিদ্যুত থেকে৷ তবে সোলার প্যানেল নষ্ট করা নিয়ে নানা মহলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ এক একটি সোলার প্যানেলে রয়েছে সীসা, ক্যাডমিয়ামের মতো ধাতু৷ যাদের যথাযথভাবে নষ্ট না করলে পরিবেশ দূষণ হতে পারে৷ এক একটি সোলার প্যানেলের গড় আয়ু ২৫ বছর৷ এক থেকে দেড় দশক আগে ভারতে সোলার প্যানেলের ব্যবহার শুরু হয়৷ সেই হিসেবে আর দশ-পনেরো বছরের মধ্যেই সেগুলি ই-বজর্ে্য পরিণত হবে৷ অথচ এগুলির পুনর্ব্যবহার বা নষ্ট করার জন্য এখনও কোনও বাজেট বরাদ্দ নেই৷ একটি পরিসংখ্যানে জানানো হয়েছে, ২০৪৭ সালে দেশে সোলার ই-বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়াবে ১ কোটি ১০ লক্ষ টন৷ যা নষ্ট করতে লাগবে ৩০০টি কেন্দ্র৷ খরচ হবে প্রায় ৫ হাজার কোটি৷

16

দক্ষিণী রাজ্যের ধানজমিতে উদ্বেগজনক ভাবে বাড়ছে ভয়ঙ্কর ধাতুর পরিমাণ, প্রতিকার কী?

পি.এন.এ ঃ কেরলের ‘ভাতের পাত্রে’ বিষ! তেমনটাই উঠে এল সমীক্ষা এবং মৃৎপরীক্ষায়৷ আর তা নিয়ে উদ্বিগ্ণ চাষি, স্থানীয় প্রশাসন থেকে শুরু করে পরিবেশবিজ্ঞানীরা৷ কথা হচ্ছে কুট্টানাড়ের৷ কুট্টানাড় পরিচিত কেরলের ভাতের পাত্র বা ‘রাইস বোল’ নামে৷ উপকূলবর্তী এই এলাকায় বিশেষ পদ্ধতিতে ধানচাষ হয় সমুদ্রপৃষ্ঠের নীচে৷ সেই কুট্টানাড়েরই মাটি পরীক্ষায় এ বার উঠে এল উদ্বেগজনক ফলাফল৷ পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে কুট্টানাড়ের ধানখেতগুলিতে অ্যালুমিনিয়ামের ঘনত্ব বিপজ্জনক ভাবে বেশি, যা ফসলের স্বাস্থ্য এবং উৎপাদনশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি৷ কেরল কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ভিটিলা ধান গবেষণাকেন্দ্রে কেরলের পতঙ্গ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (কেসিপিএম)-এর তরফে কুট্টানাড় এবং উচ্চ কুট্টানাড়ের বিভিন্ন অংশের ধানখেত থেকে মাটির নমুনা সংগ্রহ করে এই পরীক্ষা করা হয়েছিল৷

পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, কুট্টানাড়ের ধানখেতগুলিতে অ্যালুমিনিয়ামের মাত্রা ৭৭.৫১ পিপিএম থেকে ৩৩৪.১০ পিপিএম-এর মধ্যে রয়েছে, যা ধানচাষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর৷ সাধারণত ধানখেতে দুই পিপিএম বা প্রতি কেজি মাটিতে দুই মিলিগ্রাম পর্যন্ত অ্যালুমিনিয়াম থাকা স্বাভাবিক বলে ধরা হয়৷ কিন্তু এখন কুট্টানাড়ের মাটিতে অ্যালুমিনিয়ামের যে মাত্রা রয়েছে তা অনুমোদিত স্তরের চেয়ে প্রায় ৩৯ থেকে ১৬৫ গুণ বেশি৷ আর তা নিয়েই যাবতীয় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে৷ কেসিপিএম-এর প্রজেক্ট ডিরেক্টর স্মিতা বি সংবাদমাধ্যমে জানিয়েছেন, ধানখেতের মাটির অম্লতা বৃদ্ধির কারণেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে৷ তাঁর কথায়, ‘‘আমরা ১২টি ধানখেত থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছিলাম এবং সবগুলোতেই অ্যালুমিনিয়ামের ঘনত্ব অত্যন্ত বেশি দেখা গিয়েছে৷’’ স্মিতা আরও জানিয়েছেন, মাটির পিএইচ মাত্রা পাঁচের নীচে নেমে গেলে অ্যালুমিনিয়াম আরও দ্রবণীয় এবং বিষাক্ত হয়ে ওঠে৷ পিএইচ-এর প্রতিটি ইউনিট হ্রাসের সঙ্গেও অ্যালুমিনিয়ামের পরিমাণ ১০ গুণ বৃদ্ধি পায়৷ অতিরিক্ত অ্যালুমিনিয়াম ধানগাছের মূলের ক্ষতি করে এবং ফসফরাস, ক্যালশিয়াম, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণ শোষণ করে ধানের মারাত্মক ক্ষতি করে বলে জানিয়েছেন স্মিতা৷

স্মিতা বলেন, ‘‘কুট্টানাড়ের মাটি এখন অম্ল৷ অত্যন্ত অম্ল মাটিতে অ্যালুমিনিয়ামের পাশাপাশি লোহাও বেশি পরিমাণে উপস্থিত থাকে৷ সেই ধাতুও গাছের ক্ষতি করে৷’’ তাই কুট্টানাড়ের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং মাটির স্বাস্থ্য ফেরাতে ইতিমধ্যেই তৎপর হয়েছে প্রশাসন এবং পরিবেশবিজ্ঞানীরা৷ সংশোধনমূলক ব্যবস্থা হিসাবে মাটির অম্লতা কমানোর দিকেও জোর দেওয়া হয়েছে৷ এক প্রশাসনিক কর্তার কথায়, ‘‘যখন মাটির অম্লতা হ্রাস পায় এবং পিএইচ ৫.৫-এর উপরে উঠে যায় তখন অ্যালুমিনিয়াম এবং লোহার দ্রাব্যতা হ্রাস পায়৷ ফলে মাটিতে তাদের ক্ষতিকারক প্রভাবও হ্রাস পায়৷’’ তিনি জানিয়েছেন মাটির অম্লতার নিয়ন্ত্রণ কেবল চুনযুক্ত উপকরণ এবং সঠিক রাসায়নিক প্রয়োগের মাধ্যমেই সম্ভব৷ অতিরিক্ত অ্যালুমিনিয়াম নিয়ন্ত্রণের জন্য সবচেয়ে কার‌্যকর উপকরণ হিসাবে ডলোমাইট এবং ক্যালশিয়াম সিলিকেট ব্যবহার করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন ওই কর্তা৷ বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কেরলের মাভেলিকারার কংগ্রেস সাংসদ কোডিকুনিল সুরেশও৷ কুট্টানাড়ের মাটিতে উচ্চমাত্রায় অ্যালুমিনিয়াম দূষণকে ‘মারাত্মক পরিবেশগত ভারসাম্যহীনতা’ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি৷

আপাতত কুট্টানাড়ের জমিতে অ্যালুমিনিয়ামের মাত্রা উদ্বেগজনক ভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে ধানচাষিদের জীবন এবং জীবিকা৷ তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কংগ্রেস সাংসদ৷ সুরেশ দাবি করেছেন, মাটির উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং ফলস্বরূপ ধানের ফলনে উল্লেখযোগ্য হ্রাস হাজার হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের জীবিকাকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলেছে৷ তাঁর কথায়, ‘‘কুট্টানাড় অঞ্চলে অ্যালুমিনিয়াম দূষণের পরিমাণ বৈজ্ঞানিক ভাবে মূল্যায়ন, দূষণের উৎস চিহ্ণিতকরণ এবং তাৎক্ষণিক মাটি ও জল প্রতিকার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের জন্য সরকারের জরুরি পদক্ষেপ করা উচিত৷’’

17

অজীর্ণ রোগে নিরাময়

অজীর্ণ রোগ নিজে প্রাণঘাতক নয় কিন্তু এর ফলে অনেক প্রাণঘাতক রোগের সৃষ্টি হতে পারে ও বৈবহারিক জগতে এই ব্যাধি কষায় বৃত্তিকে বাড়িয়ে দেবার ফলে মানুষ অত্যন্ত খিটখিটে হয়ে পড়ে৷ অজীর্ণ রোগ থেকে পাকস্থলীর, অন্ত্রের ও মলনাড়ীর বিভিন্ন ধরণের ক্ষত, কোষ্ঠকাঠিন্য ও জটিল আমাশয় সৃষ্টি হবার সম্ভাবনা পূর্ণ মাত্রায় থেকে যায়৷

চিকিৎসা ঃ

প্রাতে ঃ উৎক্ষেপ মুদ্রা, ময়ূরাসন, পদহস্তাসন, শয়ন বজ্রাসন, আগ্ণেয়ী প্রাণায়াম৷

সন্ধ্যায় ঃ (যাদের কোষ্ঠকাঠিন্য) অগ্ণিসার, দীর্ঘপ্রণাম, যোগাসন বা যোগমুদ্রা, ভুজঙ্গাসন৷ (যাদের তরল ভেদ) অগ্ণিসার ও সর্বাঙ্গাসন, আগ্ণেয়ী মুদ্রা ও আগ্ণেয়ী প্রাণায়াম৷

পথ্য ঃ পুরোনো চালের ভাত, সবুজ তরকারির ঝোল, তরলভেদে দধি ও কোষ্ঠকাঠিন্য চীনী সহ মহিষী দুগ্ধের ঘোল৷ মনে রাখতে হবে ঘোল জিনিসটা ডিসপেপ্সিয়া (অজীর্ণ) রোগীর পক্ষে বিশেষ হিতকারী৷

‘‘দিনান্তে চ পিবেৎ দুগ্ধং নিশান্তে চ পিবেৎ পয়ঃ৷

ভোজনান্তে পিবেৎ তক্রং কিং বৈদ্যস্য প্রয়োজনম্৷৷’’

বিধি–নিষেধ ঃ আহারে বৈষম্যের ফলে অজীর্ণ রোগের সৃষ্টি৷ অক্ষুধায়, অল্প ক্ষুধায় আহার করা, দিনের পর দিন গুরুপাক (rich) খাদ্যগ্রহণ, নেশার জিনিস ব্যবহার করা, সুস্বাদু খাদ্য বস্তু পেয়ে লোভের বশে মাত্রাধিক খাওয়া, আহারের পরে বিশ্রাম না নিয়েই কার্যালয়ের দিকে ছোটা, সম্পূর্ণ উদর পূর্ণ করে খাওয়া (শাস্ত্র মতে অর্ধাংশ খাদ্য, এক চতুর্থাংশ জল ও এক চতুর্থাংশ বায়ু, গমনাগমনের জন্যে খালি রাখা উচিত), শারীরিক পরিশ্রম না করা ও তৎসহ মানসিক পরিশ্রম বা কামুকতাকে প্রশ্রয় দেওয়া–এগুলিও রোগের পক্ষে ক্ষতিকর৷ রোগ সম্পূর্ণ না সারা পর্যন্ত সকালে বিকালে জলখাবার না খাওয়াই ভাল৷ একান্তই যদি ক্ষুধা পায় তবে রসাল টক বা মিষ্টি ফল–বিশেষ করে, ঈষদম্ল ফল যেমন আঁব, আনারস, জাম, সর্বপ্রকার নেবু, (নেবু অম্ল রসযুক্ত হলেও শরীরে এর প্রভাব ক্ষারধর্মী) ও কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে পেঁপে উপকারী৷ মনে রাখা দরকার যে নেবু, দধি প্রভৃতি অম্ল রসযুক্ত খাদ্য সর্বদাই সামান্য জল ও লবণের সঙ্গে গ্রহণ করতে হবে৷ রোগীর পক্ষে ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যতিরেকে সর্বপ্রকার আমিষ খাদ্যই ক্ষতিকর৷ মাংস ও ডিম বিষবৎ৷ নেশার জিনিস কোষ্ঠকাঠিন্যকে বাড়িয়ে দেয়, তাই তাও বর্জনীয়৷ এই রোগে প্রত্যহ মুক্ত বায়ুতে ভ্রমণ ও সামান্য পরিশ্রম অত্যন্ত প্রয়োজনীয়৷ দিবানিদ্রা, রাত্রি জাগরণ নিষিদ্ধ৷ রাত্রির আহার আট ঘটিকার পূর্বে প্রশস্ত ও আহারান্তে অল্প ক্ষণ ভ্রমণ করা বিশেষ হিতকর৷ ডাল নিজে ক্ষারধর্মী হলেও গুরুপাক, তাই অজীর্ণ রোগে বর্জনীয়৷

খাদ্যগ্রহণ ও মলত্যাগ দক্ষিণা নাড়ী প্রবাহকালে করাই বাঞ্ছনীয় ও আহারের পরেও কিছুক্ষণ দক্ষিণাকে প্রবাহিত রাখা উচিত কারণ ওই সময় পচন ক্রিয়ার সহায়ক গ্রন্থিগুলি থেকে যথেষ্ট পরিমাণ রস নির্গত হতে থাকে৷ একাদশীতে উপবাস আর পূর্ণিমা ও অমাবস্যায় নিশিপালন বিধেয়৷

কয়েকটি ব্যবস্থা ঃ

১) এক আনা পরিমাণ হিং ঘিয়ে ভেজে সম পরিমাণ সৈন্ধব লবণের সঙ্গে মিশিয়ে ভোজনের প্রারম্ভে ব্যবহার করা৷

২) সাজা পাণের সঙ্গে অথবা মৌরীর সঙ্গে খড়ি–নারকোল অথবা নারকোল–কুরো ব্যবহার করা৷

৩) নুনে জারিয়ে জামির (জামেরী) নেবু ব্যবহার করা৷

৪) প্রত্যহ রাত্রে আহারের পর এক আনা পরিমাণ (কিছুতেই তার বেশী নয়) ক্কথিকাভস্ম পাণ পাতায় মুড়ে খাওয়া৷

৫) সমান পরিমাণ হরীতকী (জলে ফেললে যে হরীতকী ভেসে ওঠে ঔষধার্থে তা বর্জনীয়) ও মৌরী–চূর্ণ দ্বিগুণ পরিমাণ কাশীর চীনীর সঙ্গে মিশিয়ে বেটে কিছু দিন ব্যবহার করা৷

যোয়ান

যোয়ান– Carum capticum Benth. ঃ

পরিচয় ঃ যদিও ভাবারূঢ়ার্থে গন্ধপত্র, গন্ধপত্রী, গন্ধপত্রা তিনই এক........তিনেরই মানে যার পাতায় গন্ধ আছে, কিন্তু যোগারূঢ়ার্থে তারা পৃথক৷ মেথী (মধুগন্ধী বা মেথিকা) বা যোয়ান (যমানী বা যমানিকা যা থেকে হিন্দীতে জমাইন) সুগন্ধী পত্রের জন্যে প্রাচীনকাল থেকে আদৃত৷ পাকস্থলীতে যম অর্থাৎ সংযম অর্থাৎ control আনে বলেই একে যমানী বা যমানিকা বলা হয়৷ যমানি > য > ই = যোয়ান৷ হিন্দীতে ‘জ’ দিয়ে লিখতে হবে৷ বাংলায় লিখতে হবে ‘য’–দিয়ে৷ অনেকে বলেন নাম যমানী বা যমানিকা কিনা, তাই যমকে দূরে ঠেকিয়ে রাখে৷ যোয়ান একটি শীতের রবি ফসল৷ এর জন্যে আলাদা করে জমি নির্দিষ্ট করে রাখা যেতে পারে৷ আবার আলুর খেতে রন্ধনী (রাঁধুনী), কালো জিরে (হিন্দীতে মুংগরেলা) ও মেথী, মৌরী, ধনের সঙ্গেও লাগানো যেতে পারে৷

অজীর্ণ, বদহজম ও অন্যান্য উদররোগে যোয়ান ঃ মেথী ও যোয়ান দুইয়ের গন্ধ রোগবিনাশকা৷ সম্ভবতঃ এই জন্যে প্রাচীন কাল থেকে পঞ্চস্ফোটন (পাঁচফোরন) এর মধ্যে মেথীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে৷ আর যোয়ানের গুণের কথা তো সর্ব দেশেই বিদিত৷ যোয়ানের আরক বদহজমের উন্নত মানের ঔষধ৷ ভালভাবে ভাস্কর লবণ তৈরী করতে গেলে কৃষ্ণ লবণ (ৰীট নুন) ও অর্ধভর্জিত (অর্ধেক ভাজা) যমানী অবশ্যই ব্যবহার করতে হয়৷ কাশীর বিখ্যাত চুরণ–পাচকেও কৃষ্ণলবণের সঙ্গে যমানীর (যোয়ান) ব্যবহার ছিল, আজও হয়তো আছে৷ এই লবণ ভাস্কর অনেক নোতুনতর ঔষধ আবিষ্কৃত হবার পরে আজও ঔষধ রূপে আদৃত৷ অন্য দিকে উদরব্যাধির ঔষধ রূপে পরিচিত ‘অমৃতধারাতে’ও যোয়ানের আরক ব্যবহার করতে হয়৷ ভোজনের পর যাঁরা বদহজমে ভোগেন অথবা ভোজনের পর যাঁদের অম্লোদ্গার হয়, অল্প চোঁয়া ঢ়েকুর ওঠে, তাঁরা ভোজনের পর এক চামচ যোয়ানের সঙ্গে এক টিপ সৈন্ধব লবণ মুখে দিয়ে চিবিয়ে খেলে বেশ ভাল ফল পেতে পারেন৷ যাঁরা পান খান তাঁরা পানের সঙ্গে ওই জিনিস (যোয়ান) মিশিয়ে খেলে সুফল পাবেন৷ যাঁদের পুরাতন বদহজমের ব্যাধি, তাঁরা এক চামচ যোয়ানের সঙ্গে কয়েকটি টুকরো গড়ি নারকোল (খোলা ভাঙ্গা, কিন্তু নারকোল গোটা), কিম্বা অল্প শুকনো নারকোল (সাধারণ নারকোল, শাঁস্টা শুকিয়ে নেওয়া) মিশিয়ে খেলে সুফল পাবেন৷ ঙ্ম তাহলে দেখা গেল ৰ যোয়ানের অনেক গুণ৷

যোয়ানের ও মেথী পাতার গুণ ঃ বলা হয় যোয়ানের যা গুণ যোয়ানের পাতায় রয়েছে তার অর্দ্ধেক গুণ৷ ঠিক এই কথাটি বলা যায় মৌরী পাতা, মেথী পাতা, দেশী এলাচ পাতার সম্বন্ধেও৷ মূলোয় যা গুণ, পাতায় ততটা গুণ না থাকলেও অর্দ্ধেকের মত আছে৷

ভোরে খালি পেটে মেথী–ভেজানো জল পান করলে মধুমেহ রোগী সুফল পাবেন৷ এই জল অল্প পরিমাণে মূত্র–কৃচ্ছতাতেও উপকারী৷ মেথী–চূর্ণও ডায়াবেটিস রোগে কার্যকর৷ মেথী–শাকের ব্যাঞ্জন বা মেথী–শাকের ৰড়া শুধু উপাদেয়ই নয়, ঔষধও৷ ঙ্মশ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের যৌগিক চিকিৎসা ও দ্রব্যগুণ সংক্রান্ত উপদেশাবলী থেকে গৃহীতৰ

পথ চলতে ইতিকথা

ঙ্মজ্ঞানের মহাসমুদ্র পরম শ্রদ্ধেয় শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার, যিনি একাধারে ধর্মগুরু, দার্শনিক, শিক্ষাবিদ, ইতিহাসতত্ত্ববিদ, ভাষাবিজ্ঞানী, চিকিৎসা বিজ্ঞানী, সঙ্গীতকার ও তার সঙ্গে সঙ্গে যুগান্তকারী সামাজিক–র্থনৈতিক দর্শন–প্রাউটের প্রবক্তা, তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কথা প্রসঙ্গে কত যে বিচিত্র ইতিহাস অনর্গল বলে চলতেন–তা ভাবলে বিস্ময়ের সীমা থাকে না৷ এ থেকে পাঠকের বুঝতে অসুবিধা হবে না যে, তিনি জ্ঞানের অসীম মহাসমুদ্র৷ তাঁর বলা সেই সব বিচিত্র ইতিহাসের কিছু কিছু নোতুন পৃথিবীর পাঠকদের এই কলমে উপহার দিচ্ছি৷ আমরা নিশ্চিত যে এ থেকে পাঠকবৃন্দের জ্ঞানভাণ্ডার অনেক সমৃদ্ধ হবে৷     –সম্পাদক, ‘নোতুন পৃথিবী’ৰ

হরিয়াণা 

এর পরে আর্যরা চললেন আরও পূর্বে৷ ক্রমশঃ বেড়ে চলল শ্যামলিমা–বাড়তে থাকল সবুজের সমারোহ৷ এত সবুজ তাঁরা ইতোপূর্বে কখনও দেখেন নি৷ বৈদিক ভাষায় ‘ধান্য’ মানে গাছপালা (green vegetation)৷ তাই সপ্তসিন্ধু পেরিয়ে এসে পূর্ব দিকের নোতুন স্থানটির তাঁরা নাম দিলেন ‘হরিৎধান্য’ যা শৌরসেনী প্রাকৃতে হয়ে দাঁড়াল ‘হরিহান্ন’ > অর্ধ্ব শৌরসেনীতে ‘হরিহানা’ > বর্ত্তমান হরিয়ানবী ভাষায় (যা হিন্দীর অতি নিকট জ্ঞাতি) ‘হরিয়াণা’৷ অনুরূপ ভাবে এসেছে ‘লুধিয়ানা’ শব্দটি৷ প্রাচীনকালে আর্যরা লোধ্র নামে এক আরণ্য বৃক্ষের ফুলের রেণু প্রসাধনে ব্যবহার করতেন৷

‘‘ধারাযন্ত্রে স্নানের শেষে ধূপের ধোঁয়া দিত কেশে, 

লোধ্র ফুলের শুভ্র রেণু মাখত মুখে বালা, 

কালাগুরুর গুরু গন্ধ লেগে থাকত সাজে

কুরুবকের পরত চূড়া কালো কেশের মাঝে৷’’

লোধ্রধান্য > লোধ্ধহান্ন > লোধিহানা = লুধিয়ানা৷

তাঁরা এগিয়ে চললেন আরও পূর্বে–প্রতীচী থেকে প্রাচীর দিকে৷ মরীচিমালীর মুখ চেয়ে তাঁরা এসে পৌঁছলেন এমন একটি জায়গায় যে জায়গাটি হচ্ছে গঙ্গা ও যমুনার মধ্যবর্ত্তী ও যেখানে গঙ্গা ও যমুনার সর্বাধিক দূরত্ব ছিল৷ গঙ্গোত্তরী থেকে যমুনোত্তরী৷ তারপর ক্রমশঃ দূরত্ব কমতে কমতে দুই নদী কাছাকাছি হতে হতে সংযুক্ত হ’ল প্রয়াগে৷ এই দুই নদীর মধ্যবর্ত্তী স্থান প্রাচীন ব্রহ্মাবর্ত্ত বা ব্রহ্মর্বিদেশ–পরবর্ত্তীকালে ‘শূরসেন’ ও আরও পরবর্ত্তীকালে ফার্সী ভাষায় যার নাম রাখা হয়েছিল দো–আব, অর্থাৎ দুই জলধারার দেশ৷ এই ব্রহ্মাবর্ত্তের সুপ্রাচীন রাজধানী বৃষ্ণিপুর (বর্ত্তমানে কাণপুরের নিকটবর্ত্তী ‘বিঠুর’)৷ পরবর্ত্তীকালে দেশের নাম পরিবর্ত্তিত হয়ে যখন হ’ল শূরসেন তখন তার রাজধানী হ’ল মথুরা৷ কৃষ্ণের পূর্বে এই শূরসেনের রাজা ছিলেন কংস৷ তাঁরও রাজধানী ছিল মথুরা৷ উত্তর ভারতীয় কায়স্থদের যে অংশ এই ব্রহ্মাবর্ত্ত বা শূরসেনের অধিবাসী তাঁরা আজও নিজেদের ‘মাথুর’ বলে পরিচয় দিয়ে থাকেন৷ এই ব্রহ্মাবর্ত্তের অন্ত্যবিন্দু যেখানে সেই স্থান বসবাসের, কৃষিকার্যের ও সর্ববিধ উন্নতিমূলক কার্যের অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় আর্যরা তার নাম দিলেন প্রয়াগ (প্র–যজ ঘঞ ঞ্চ প্রয়াগ)৷ এখানে অন্তস্থ ‘য’ শব্দের মধ্যে থাকায় ‘‘পদান্তে পদমধ্যস্তে ‘য’–কার ‘ই’ উচ্যতে’’ বিধি অনুযায়ী ‘প্রযাগ’ হয়ে গেল ‘প্রয়াগ’৷

সংস্কৃতে ও বৈদিকে ‘যজ্’ ধাতুর অর্থ হ’ল কাজ করা৷ ‘যজ্’ ধাতুর উত্তর ‘ন’ প্রত্যয় করে হ’ল ‘যজ্ঞ’৷ যজ্ ঘঞ করে ‘যাগ’৷ উভয়ের অর্থ হ’ল কর্ম৷ তাই যেখানে প্রকৃষ্টভাবে কর্ম করা যায় তাই হ’ল প্রয়াগ৷ আর্যরা এই স্থানটিকে অত্যন্ত পবিত্র স্থান বলে মনে করতেন৷ তাঁদের ধারণা ছিল, এই প্রয়াগসঙ্গমে স্নান করলেই সব পাপ বিধৌত হয়ে যায়৷ তাই এখনও ভারতের কোন কোন শ্রেণীর মানুষের মধ্যে প্রয়াগে অস্থি বিসর্জনের প্রথা আছে৷ কোন দুষ্ট লোক ধর্মকথা বললে হিন্দীতে বলা হয়–‘‘ন শো চুহা খা কর বিল্লী চলী পরযাগ সিনান৷’’ এই ‘যজ্’ ধাতু থেকে তৈরী হয়েছে ‘যাজক’, ‘যজমান’ প্রভৃতি শব্দ৷

18

হৃদাসনে আছো গোপনে 

কৌশিক খাটুয়া

নববরষে নবহরষে 

 প্রজ্জ্বলিত হোক এ’ মন প্রাণ, 

গ্লানির অতীত ভূলে যেতে চাই 

 নব জীবনের গাহিয়া গান৷

হে পরাণ প্রিয় প্রণতি নিও

 ভুলে গেছি সব জমা অভিমান!

নাই অনুযোগ নাই দুঃখ শোক

 নয়ন নীরে হলো মুক্তি স্নান!

সরিতা কখনো উজানে না যায়

 স্রোতধারা তার সমুখে বহায়, 

লক্ষ্য যে তার মহৎ উদার 

 মহোদধির মাঝে নিজেরে হারায়৷

নিজ অস্তিত্ব হল বিলুপ্ত

 বাঁধন মুক্ত তাই আপ্লুত, 

এটাই অভিযান এটাই সাধনা

 জীবন সার্থক মনঃপুত!

কত পথ ধরে ছুটিছে সাগরে 

 সে’ গতি অবিশ্রান্ত, 

কবে থেকে শুরু কবে হবে ইতি

 ভেবে ভেবে বিভ্রান্ত !

সুখ-দুঃখের স্মৃতি বুকে নিয়ে 

 বহে অবিরাম অক্লান্ত!

তটিনী হিল্লোলে ডাকে কল্লোলে 

 আমিও সে পথের পান্থ!

মানব জীবনে চেয়ে পথ পানে 

 অপলকে কে যেন চাহিয়া, 

দিয়ে হাতছানি কাছে নিলে টানি 

 মিলনের গীত গাহিয়া৷

জ্ঞাত-অজ্ঞাত গৌরব-গ্লানি 

 তব বৈভবে সব হার মানি, 

অন্তরে যবে জাগে ব্যাকুলতা 

 দু-নয়ন রয় জাগিয়া৷

কাল, তিথির, বিরতি বন্ধনে 

 কে রাখিবে মোরে বাঁধিয়া!

মন-যমুনায় উর্মিমালায়

 বিক্ষুব্ধ হাওয়ায় দূর্র্ভেগ, 

উজানের পানে কে মোরে টানে

 সে গভীর টানে প্রীতি যোগ!

তুমি এসেছো আমারে আনিলে

 মনি-কাঞ্চন যোগাযোগ, 

পিতা-পুত্রের মধুর মিলন 

 তারিয়ে করিনু উপভোগ! 

 

সমুখে চলার অটল অঙ্গীকার 

 ঘুচায়ে বিত্ত বাসনা, 

তোমাকে পাওয়ার অদম্য আশায় 

 জাগত মনে এষণা৷

মন-বৃন্দাবনে রয়েছ গোপনে 

 অব্যক্ত কথা জানিতে, 

ভাবজগতে ব্যর্থ মনোরথে

 পারিনি তোমায় চিনিতে৷

অশ্রুসিক্ত দু-নয়নে 

 তব পথ চেয়ে বসে বাতায়নে 

 না বলে কখন হয়েছো আপন

 আলো করে আছো হৃদাসনে!

আছো বিশ্বাসে প্রতি নিঃশ্বাসে 

 আছো প্রতি মূহুর্তে প্রাণস্পন্দনে, 

আছো তমসার মাঝে আলোক রেখায় প্রণমি তোমায় শ্রীচরণে!

19

পিঠাপরব 

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

বাঙলার ঘরে ঘরে পৌষ সংক্রান্তিতে পৌষালীপার্বণ বা পিঠা-পরব অনুষ্ঠিত হয়৷ পিঠা যে বাঙালীর কত প্রাচীন ও প্রিয় খাদ্য তা আর বলে বোঝাবার প্রয়োজন হয় না৷

ঐ দিন শুধু পিঠা তৈরী আর খাওয়াটাই সব নয়৷ কিছু রীতি-নীতিও আছে৷ গ্রাম বাঙলার ঘরে ঘরে নতুন ধান ওঠার সঙ্গে উৎসবের আয়োজন শুরু হয়ে যায়৷ বাঙালীর কাছে ধান লক্ষ্মী৷ তাই ধান গোলায় ওঠা মানে লক্ষ্মীর আগমন৷ তাঁকে পুজো করতে হবে, বেঁধে রাখতে হবে৷ ঘরের মেয়েরা খড় দিয়ে গোলা বাঁধে৷ আর পুরুষরা ছড়া কাটে---

‘‘আওনি, বাওনি, চাওনি৷

তিন দিন পিঠা খাওনি৷৷

অর্থাৎ লক্ষ্মীর আবির্ভাব (আওনি), লক্ষ্মীর বন্ধন (বাওনি) লক্ষ্মীর ঘরে চিরস্থায়ী অবস্থান হোক---এই প্রার্থনা (চাহনি -চাওনি)৷ এই দিন মেয়েরা ঘরে উঠোনে বারান্দায় আল্পনা এঁকে গোবরের নাড়ু আর চালের গুঁড়ো পুজো করে৷ সারা রাত জেগে থেকে সেসব পাহারা দেয়৷ একে বলে ‘পৌষ আগলানো’৷ মেয়েরা দুপুরবেলা কুনকেতে ধান ও ধানের ছড়া ভরে পূজো করে৷ ধান্য-লক্ষ্মীর বন্দনা গায়৷

পৌষ সংক্রান্তির পিঠা-পরবের আসল মজা পিঠা খাওয়া৷ নারকেলের পুর দেওয়া পুলি পিঠা৷ এই সময় আজকাল বাজারে পিঠা তৈরীর মাটির ছাঁচ কিনতে পাওয়া যায়৷ এই ছাঁচে তৈরী হয় আশকে পিঠা বা আশুধান্যের পিঠা৷ পূর্ববঙ্গের লোকেরা বলে চিতই পিঠা৷ ভিজানো চাল মিহি করে বেটে, জলে ঘন করে গুলে, একটু নুন মিশিয়ে এই পিঠা তৈরি হয়৷ খেতে হয় ঘন দুধ, ক্ষীর নারকেল কোরা বা গুড় দিয়ে৷ ঘন খেজুরের রসে কিছুক্ষণ ভিজিয়ে এই পিঠে খেতে আরো মজা৷

তবে পিঠা খাওয়ার আগে দেবতাকে নিবেদন করতে হয়৷ এটা স্মৃতির বিধান৷ 

হরেকরকম পিঠের খবর জানতে হলে অবশ্যই পড়তে হবে শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার রচিত ‘হট্টমালার দেশে৷

20

ঐরাবত 

 বৈদিক ভাষায় ‘ইর’ ধাতুর মানে হচ্ছে নড়াচড়া করা৷ ‘ইর্‌’ ধাতুর উত্তর ‘অল’ প্রত্যয় করে আমরা ‘ইর্‌’ শব্দ পাচ্ছি (স্ত্রীলিঙ্গে ‘ইরা’) যার ভাবারূঢ়ার্থ হচ্ছে যা নড়াচড়া করে, আর যোগারূঢ়ার্থ হচ্ছে ‘জল’৷ এই ‘ইর’ বা ‘ইরা’ যাতে আছে এই অর্থে ইর+ মতু+প্রথমার একবচনে ‘ইরাবান্‌’ স্ত্রীলিঙ্গে ‘ইরাবতী’৷ ‘ইরাবৎ’ বা ইরাবতী শব্দের ভাবারুঢ়ার্থ হ’ল বৃহৎ জলাশয়৷ যোগারূঢ়ার্থ ‘ইরাবৎ’ মানে সমুদ্র আর ‘ইরাবতী’ মানে ৰড় নদী৷ পঞ্জাবে ‘ইরাবতী’ নামে একটি প্রসিদ্ধ নদী আছে, ইংরাজীতে যাকে ‘রাবি’ Ravi) ৰলা হয়ে থাকে৷ ব্রহ্মদেশেরও সর্বপ্রধান নদীটির নাম ইরাবতী ৷ রেঙ্গুন শহর এই ইরাবতীর ৰ-দ্বীপেই অবস্থিত৷ পৌরাণিক কথা অনুযায়ী সমুদ্র বা ইরাবৎকে মন্থন করে কয়েকটি দুর্লভ বস্তু পাওয়া গেছল৷ যেমন মহালক্ষ্মী, পারিজাত, বৃহদাকার হস্তী ইত্যাদি৷ এই বৃহদাকার হস্তীই হয়েছিল ইন্দ্রের বাহন৷ যেহেতু সে ইরাবৎ থেকে উত্থিত হয়েছিল তাই ‘ইরাব + তদ্ধিতার্থে ‘অণ্‌’ প্রত্যয় করে আমরা ‘ঐরাবত’ শব্দ পাচ্ছি৷ এর ইংরেজী হচ্ছে ‘ম্যামথ্‌’ (mammoth)৷ তোমরা কোন প্রকাণ্ড জনসভাকে নিশ্চয়ই ম্যামথ্‌ মীটিং (mammoth meeting) ৰলে থাক৷ এই ম্যামথ্‌ (mammoth) ছিল একটি প্রাগৈতিহাসিক জীব যার সংস্কৃত নাম ‘ঐরাবত’ বর্তমান পৃথিবীতে যে কয়টি গোষ্ঠীর হাতী পাওয়া যায় তাদের মধ্যে দীর্ঘতম হ’ল আফ্রিকান হাতী৷ এরা বুদ্ধিতে কিছুটা কম কিন্তু উচ্চতায় প্রকাণ্ড৷ অনুমিত হয় প্রাগৈতিহাসিক যুগের ম্যামথ* (mammoth) ছিল এই আফ্রিকান হাতীর চেয়েও প্রায় দ্বিগুণের মত ৰড়, গজদন্তও ছিল অতি দীর্ঘ৷ এই বুদ্ধিহীন বৃহদাকার জন্তুটি আনুমানিক পাঁচ লক্ষ বছর পূর্বে ধরাপৃষ্ঠ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে৷ রাঢ়-ৰাঙলার বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া অঞ্চলে এই ম্যামথে্‌র জীবাশ্ম (Fossil) কিছু কিছু পাওয়া গেছে৷ কিছু পাওয়া গেছে রাঁচী জেলার পূর্বাংশে সুবর্ণরেখা উপত্যকাতেও৷ যাই হোক, মানুষ যতটা জেনেছে তার থেকে মনে হয় প্রাচীন কালের ডাইনোসোরের পরেই আকারে এই ম্যামথরাই (mammoth) ছিল পৃথিবীর ৰড় জন্তু অর্থাৎ এরা ছিল পশু সমাজের ‘মেজদা’৷ তবে মনে রাখা দরকার যে ডাইনোসোর ও ম্যামথ একই সময়ে ছিল না৷ ডাইনোসোরের মধ্যেও বৃহদাকারের ডাইনোসোরেরা (মুখ্যতঃ শাকাহারী) ছিল ক্ষুদ্রতর আকারে ডাইনোসোরদের (মুখ্যতঃ মাংসাহারী) চেয়ে বেশী প্রাচীনতর অনুমিত হয় মাংসাহারী ক্ষুদ্রাকৃতি ডায়নোসোরদের ভোজ্যরূপে ব্যবহৃত হ’তে হতে বৃহদাকারের ডাইনোসোরেরা বিলুপ্ত হয়ে গেছল৷ বৃহদাকারের ডাইনোসোরেরা আগেই পৃথিবীতে এসে আগেই পৃথিবী থেকে সরে গেছে৷ ক্ষুদ্রাকার ডাইনোসোরেরা খুব সম্ভব তুষার যুগে ৰরফের তলায় চাপা পড়ে ধবংস হয়েছিল৷ 

হ্যাঁ, ৰলছিলুম ঐরাবতের কথা৷ ইরাবৎ থেকে উত্থিত এই অর্থে ম্যামথকে যদি বোঝানোও হয়ে থাকে কিন্তু আসলে আমরা সমুদ্র থেকে উত্থিত বা সমুদ্রজাত সকল বিষয়কেই ভাবারূঢ়ার্থে ঐরাবত ৰলতে পারি---তা সে আকারে যত বৃহৎ বা যত ক্ষুদ্রই হোক না কেন৷ কল্পনার পারিজাত ফুল, কল্পনার অমৃতও ঐরাবত, গৌরাণিক মহালক্ষ্মীও ঐরাবতী৷ আবার প্রাগৈতিহাসিক যুগের শীলাকন্থ ও আজকের যুগের শঙ্খ, অক্টোপাস, আয়োডিন প্রভৃতিও ভাবারূঢ়ার্থে ঐরাবত পর্যায়ের মধ্যে পড়ে৷ যোগারূঢ়ার্থে কেবল ম্যামথই ঐরাবত, আর কেউ নয়৷ ‘ইরবৎ, ইরবতী, ঐরবত শব্দগুলিও শুদ্ধ, তবে ব্যবহারে নেই৷                       ---শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের লঘুনিরক্ত থেকে গৃহীত

21

ইটালিয়ান সেলুন

শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকার

ক্ষৌরকার্য জলের সাহায্যে নির্বাহিত হত ৰলে ক্ষৌরী বা ক্ষৌরকার্যকে প্রাচীন সংস্কৃতে ‘আপ’ ৰলা হত৷ ‘অপ্’ মানে জল৷ তার থেকে ‘আপ’৷ এই ‘অপ্’ থেকে ফার্সীতে ‘আৰ্’৷ পন্জূআৰ্ঞ্চ পঞ্জাৰ্৷ ফার্সীতে ‘পন্জ্’ মানে পাঁচ৷ জলের সাহায্য ব্যতিরেকে খুৰ কম কাজই করা যায়৷ তাই সংস্কৃতে ব্যাপকার্থে ‘আপ’ মানে সৰ রকমেরই কর্ম৷ 

     যস্মিন্নাপো মাতরিশ্বা দধাতি–(বেদ)

বিশেষার্থে ‘আপ’ মানে দাড়ি কামানো৷ ঠিক তেমনি ‘বা’ ধাতু ‘ড’ প্রত্যয় করে যে ‘ব’ শব্দ পাই তারও একটি অর্থ হ’ল ক্ষৌরকার্য৷

‘ব’ ৰলতে গিয়ে একটা ছোট্ট গল্প মনে পড়ল৷ তোমরা ৰাগৰাজারের গঙ্গার ঘাটে গিয়ে দেখেছ নিশ্চয়, সারি সারি নাপিত ৰসে রয়েছে৷ যার দাড়ি কামাবার আছে সে উবু হয়ে ৰসে পড়ছে, আর নাপিত–ভায়া তার ‘ব’–কাজ করে দিয়ে যাচ্ছে৷ সময়ে সময়ে ৰন্ধুর দিকে তাকিয়ে ৰলছে–এই নিয়ে আঠাশটা দাড়ি হ’ল৷ আর দু’টো দাড়ি হলেই বাড়ী ফিরছি৷ রেস্তোরাঁয় যেমন শুণতে পাও, ‘ওই দিকে চারটে চা নিয়ে যা’৷ যাই হোক্, কোনো ৰনেদী লোক এসে পৌঁছুলে নাপিত–ভায়া তখন তাকে ৰসবার জন্যে ইট অফার করত৷ এই ইটে বসে দাড়ি কামানোকে ৰলা হত ইটালিয়ান সেলুন৷ 

১৯৩৯–৪০ সাল অবধি দেখেছি যাঁরা উবু হয়ে বসে দাড়ি কামাতেন নাপিত–ভায়া সাধারণ ঠান্ডা জল দিয়ে তাঁদের দাড়ি কামিয়ে দিতেন আর দক্ষিণা নিতেন এক পয়সা৷ আর যাঁরা ইটালিয়ান সেলুনে ৰসতেন তাঁদের সাৰান–মিশ্রিত গরম জল দিয়ে দাড়ি কামিয়ে দেওয়া হত৷ নাপিত–ভায়া তাঁদের কাছে প্রণামী নিতেন দু’পয়সা৷ 

এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে গেল গেঁজেলদের গল্প৷ যখন কোনো নবাগত, গেঁজেল হবার জন্যে শিক্ষানবিশ (এ্যাপ্রেন্টিস) হিসেৰে গেঁজেল ক্লাৰের সদস্য হয় তখন গোড়ার দিকে তাকে উৰু হয়ে ৰসে গাঁজায় দম টানতে হয়৷ এই উৰু হয়ে ৰসা অবস্থায় তাদের ৰলা হয় উৰু–গেঁজেল বা এ্যাপ্রেন্টিস–গেঁজেল৷ তারপর গেঁজেলদের যোগ্যতার একটা পরীক্ষা হয় যাকে ৰলতে পারো যোগ্যতা–পরিমাপক (suitability test or efficiency test) ৷ সেই যোগ্যতা–পরীক্ষায় যে উত্তীর্ণ হয় সে তখন থেকে বসবার জন্যে ইট পায়৷ ইটে বসার পর থেকে আর তাকে উৰু–গেঁজেল ৰলা হয় না–ৰলা হয় ইটালিয়ান গেঁজেল৷ একবার ভাগীরথীর তীরে (ডান তীর না বাঁ তীর মনে পড়ছে না৷ ডান তীর হলে ৰর্দ্ধমান জেলা, বাঁ তীর হলে নদীয়া জেলা) গেঁজেলদের সভা ৰসেছে একটা মাদার*(*কলকাতায় আমরা ৰলি মাদার, ২৪পরগণা ও মেদিনীপুর জেলায় ৰলে ড্যাফল৷ রাঢ়ের কোথাও কোথাও ৰলে ডেলো বা ডাউয়া৷ খণার বচনে আছে–‘‘শোণরে ৰলি চাষার পো৷ বাঁশ ৰনের ধারে মান্দার রো৷’’ রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, ‘‘আঁধার হল মাদার গাছের তলা৷’’) গাছের তলায়৷ অনেকগুলো উৰু গেঁজেল ক্রমাগত দাবী জানিয়ে আসছিল–তাদের যোগ্যতার পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না৷ এর ফলে তাদের ইটালিয়ান গেঁজেল হবার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে৷ এতে তাদের প্রতিভাকে দাৰিয়ে রাখা হচ্ছে, মানবতার বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে৷ গেঁজেল–সর্দার ছিলেন শ্রীযুক্ত ৰাৰু দমফাটা সিং৷ তিনি ৰললেন–‘‘ঠিক আছে, তাহলে আজকেই পরীক্ষাটা হয়ে যাক্৷’’

দমফাটা সিং ৰললেন–‘‘গাঁজার প্রথম টান দেবার সময়েই একটা ভাব নিতে হৰে৷ কার ভাবটি কতখানি মঞ্চসার্থক হচ্ছে তারই ভিত্তিতে তাকে খেতাৰ দেওয়া হৰে ও ইট দেওয়া হৰে৷’’

গেঁজেলরা ৰললে–‘‘একটু ৰুঝিয়ে ৰলুন, আরও একটু খোলসা করে, একটু ব্যাখ্যা করে ৰলুন৷ তাতে আমাদের খোলতাইটা মানাৰে ভাল, মৌতাতটা শানাৰে ভাল৷’’

সর্দার গেঁজেল ৰললে–‘‘এই ধরো, কেউ গোরুর ভাব নিলে৷ তার সামনে যদি একশ’ টাকার নোট রাখা হয় সে সঙ্গে সঙ্গে নোটটা চিৰোতে থাকৰে, মাথা নাড়তে থাকৰে, শিঙ্ দিয়ে গুঁতোতে যাৰে আর হাম্বা হাম্বা আবাজ করতে থাকৰে৷ কেউ শো’রের ভাব নিলে৷ সে সঙ্গে সঙ্গে কাছাকাছি জায়গায় যত কচুগাছ দেখবে আর মুখে আবাজ করতে থাকৰে ‘‘ঘোঁৎ ঘোঁৎ ঘোঁৎ–রতনে রতন চেনে শো’রে চেনে কচু.......ঘোঁৎ ঘোঁৎ ঘোঁৎ৷ কেউ হয়তো ভোঁদড়ের ভাব নেৰে৷ সে সামনের হাত দু’টো পায়ের মত করে ছুটতে ছুটতে জলে ঝাঁপ দেৰে আর মুখে করে মাছ ধরৰে৷ নাম জিজ্ঞেস করলে ৰলৰে, ‘‘ভোঁ...ভোঁ...ভোঁ৷’’ গেঁজেলদের ভাষায় একে ৰলা হয় ভাব নেওয়া৷’’

সৰ যখন তৈরী, পরীক্ষারম্ভের ঘণ্টী যখন ৰাজে ৰাজে এমন সময় উৰু–গেঁজেল ঘণ্টাকর্ণ ঘোড়ইয়ের পিতৃদেব লম্বাকর্ণ হঠাৎ সেখানে এসে হাজির ৷ কম বয়সে তারও গেঁজেল–জীবনের অভিজ্ঞতা ছিল৷ তাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে সর্দার–গেঁজেল দমফাটা সিং ঘণ্টাকর্ণকে ৰললে–‘‘ওই দেখ, তোর ৰাপ্ আসছে৷ তুই এখন যদি মানুষ সেজে থাকিস তাহলে তোকে কথার উত্তর দিতে হৰে৷ তাই তুই এখন তাড়াতাড়ি কোনো পশু–পক্ষী বা জন্তু–জানোয়ারের ভাব নিয়ে নে৷’’ ঘণ্টাকর্ণ সঙ্গে সঙ্গে টিয়াপাখীর ভাব নিয়ে নিলে৷ লম্বাকর্ণ এসে ৰললে–‘‘চল্ ঘণ্টাকর্ণ, বাড়ী চল্৷ সারাদিন শুধু টো টো করে ঘুরে ৰেড়ানো আর গাঁজা খাওয়া৷ এখন চাষের সময়.......ধান রোয়ার কাজ চলছে, বাড়ী চল্৷ ঘণ্টাকর্ণ মুখটা ছুঁচলো করে টিয়াপাখীর মত কুট কুট করে ছোলা কাটতে লাগল আর ৰলতে লাগল–‘‘ট্যাঁ ট্যাঁ ট্যাঁ’’৷

লম্বাকর্ণ ৰললে–‘‘ঢ়ঙ শিখেছে ! টিয়াপাখীর ভাব নিয়েছে! দেখাচ্ছি মজা!’’ লম্বাকর্ণ তখন মুখে করে ঘণ্টাকর্ণের ঘাড়টা কামড়ে ধরলে আর তারপর হুলো বেড়ালের ভাব নিয়ে ৰললে, ‘‘ম্যাঁও, ম্যাঁও, ম্যাঁও৷’’

ঘণ্টাকর্ণ তো টিয়াপাখী সেজেছে৷ ৰেড়াল তার ঘাড় ধরেছে৷ তাই সে আরও একবার ট্যাঁ ট্যাঁ শব্দ করে ঘাড়টি কাৎ করে নেতিয়ে পড়ল৷ ৰেড়ালরূপী লম্বাকর্ণ টিয়াপাখীরূপী ঘণ্টাকর্ণকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেল৷ 

যাইহোক্ দাড়ি কামানোর কথা ৰলতে গিয়ে ইটালিয়ান সেলুনের কথা এসে গেল আর সেই প্রসঙ্গে এসে গেল ইটালিয়ান গেঁজেলের কথা৷ তোমরা সুযোগ পাও তো একবার দমফাটা সিংয়ের কাছে গিয়ে খোঁজ নিও৷ এই ঘটনার পরে ঘণ্টাকর্ণ গেঁজেল সভায় আর আসত কিনা বা এসে থাকলে সে ইটালিয়ান গেঁজেল ৰলে গণ্য হয়েছিল কিনা, হ্যাঁ, জেলাটা ৰর্দ্ধমান না নদীয়া, সেটাও সেই সঙ্গে খোঁজ নিয়ে রেখো৷’

22

ফিফা নতুন নিয়ম চালু করছে বিশ্বকাপে

ক্রীড়াপ্রতিনিধি ঃ ফুটবল মাঠে সময় নষ্ট বন্ধ করতে অতীতে একাধিক নিয়ম চালু করেছে ফিফা৷ ২০২২ বিশ্বকাপে দেখা গিয়েছিল, ৯০ মিনিটে খেলার বাইরে ব্যয় হওয়া সিংহভাগ সময় সংযোজিত সময়ে যোগ করা হয়েছে৷ ফলে প্রতিটি ম্যাচই গড়ে ১০০ মিনিটের গণ্ডি টপকেছে৷ তা সত্ত্বেও সময় অপচয় খুব একটা রোখা যায়নি৷ তাই আসন্ন বিশ্বকাপে এবার ফুটবলারের চোট নিয়েও নতুন নিয়ম চালু করছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, সময় নষ্টের জন্য হাল্কা চোটেও ফুটবলাররা মাটিতে পড়ে কাতরাতে থাকেন৷ তাই রেফারিকে বাধ্য হয়ে খেলা থামিয়ে মেডিকেল টিমকে ডাকতে হয়৷ তবে পরক্ষণেই সেই ফুটবলার হাঁটতে হাঁটতে বাইরে গিয়ে ফের মাঠে নেমে পড়েন৷ গোটা বিষয়টিতে বেশ কিছুটা সময় নষ্ট হয়৷ এবার সেই কথা মাথায় রেখে আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপে নতুন মেডিকেল নিয়ম চালু করছে ফিফা৷ 

কোনও ফুটবলার চোট পেয়ে মাঠ ছাড়লে, তাঁকে অন্তত ২মিনিট বাইরে থাকতে হবে৷ সেই সময় রেফারি খেলা চালিয়ে যাবেন৷ ফলে প্রতিপক্ষ আনুপাতিক সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবিধা পাবে৷ ফিফা কর্তাদের মতে, এর ফলে ভুয়ো চোটের সংখ্যা অনেকটাই কমবে এবং ম্যাচের গতি ও ছন্দ বজায় থাকবে৷ তবে এই নিয়ম হলুদ কার্ড কিংবা লাল কার্ডের ফলে ফাউল ও গোলরক্ষকের চোটের ক্ষেত্রে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে৷ গত মাসে কাতারে আয়োজিত ফিফা আরব কাপে পরীক্ষামূলক এই নিয়ম ব্যবহার করা হয়৷ সেখানে দেখা গিয়েছে, সময় নষ্টের প্রবণতা অনেকটাই কমেছে৷

23

বিশ্ব র‌্যাপিড দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদকেই শেষ হল ভারতীয় তারকার অভিযান

ক্রীড়াপ্রতিনিধি ঃ তৃতীয়বার সোনা জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করলেন কোনেরু হাম্পি৷ দোহায় আয়োজিত ফিডে বিশ্ব র‌্যাপিড দাবা চ্যাম্পিয়নশিপে ব্রোঞ্জ পদকেই শেষ হল ভারতীয় তারকার আভিযান৷ প্রতিযোগিতায় দুরন্ত ছন্দে ছিলেন তিনি৷ স্বপ্ণ দেখাচ্ছিলেন শিরোপা জয়ের৷ টুর্নামেন্টে একাদশ রাউন্ডের শেষে হাম্পির সংগ্রহ ছিল ৮.৫ পয়েন্ট৷ সেই সময় সমান পয়েন্ট ছিল রাশিয়ার আলেকজান্দ্রা গোরিয়াচকিনা ও চীনের ঝু জিনার ঝুলিতেও৷ তিন জনেরই সংগ্রহ ছ’টি জয় ও পাঁচটি ড্র৷ কিন্তু ফিডের নিয়ম অনুসারে হাম্পির র‌্যাপিড রেটিং ও স্কোর ছিল ৬৯, ৭৪ ও ২৩৩৫৷ অন্যদিকে, জিনার ও আলেকজান্দ্রার রেটিং ও স্কোর যথাক্রমে ৭২.৫, ৭৭.৫ ও ২৪১০ এবং ৭১.৫, ৭৭ ও ২৩৬০৷ পুঙ্খানুপুঙ্খ সেই হিসাবেই স্বপ্ণভঙ্গ হয় হাম্পির৷ ফাইনালের ছাড়পত্র পান জিনার ও আলেকজান্দ্রা৷ শেষ পর্যন্ত খেতাব জেতেন আলেকজান্দ্রা৷ রানার্স-আপ জিনার৷ আর তৃতীয় স্থানে সন্তুষ্ট থাকতে হয় দু’বারের বিশ্বজয়ী হাম্পিকে৷ সবমিলিয়ে বিশ্ব র‌্যাপিড দাবায় তাঁর ঝুলিতে এখন দু’টি সোনা, একটি রুপো ও দু’টি ব্রোঞ্জ৷ ভারতীয় মহিলা দাবাড়ুকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি৷অন্যদিকে, পুরুষদের লড়াইয়ে আধিপত্য বজায় রাখলেন ম্যাগনাস কার্লসেন৷ রাশিয়ার ভ্লাদিসলাভ আর্টিমিভের কাছে শনিবারের হারের ধাক্কা সামলে শেষ হাসি হাসেন তিনি৷ অন্তিম রাউন্ডে অনীশ গিরির সঙ্গে ড্র করে ১০.৫ পয়েন্ট নিয়ে শিরোপা জয় নিশ্চিত করেন কার্লসেন৷ এই নিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠবারের জন্য বিশ্ব র‌্যাপিড দাবায় চ্যাম্পিয়ন হলেন নরওয়ের বিতর্কিত দাবাড়ু৷

 

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved