Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

মা মনসা শিবের কন্যা নন

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

অনেকে মা মনসা কে শিবের কন্যা বলেই জানেন৷ কিন্তু না দেবী মনসার পিতা শিব নন৷

মনসা দেবীর জীবন বৃত্তান্ত অনুসন্ধান করে যা জানা যায় তা হল সর্প দেবী মনসা নাগরাজ বাসুকির বোন৷ মনসা দেবী মহামুনি কশ্যপের কন্যা, মায়ের নাম কদ্রু৷ বাসুকির উদ্যোগে জগতকার মুনির সাথে মনসা দেবীর বিয়ে হয়৷ সময় মত তিনি এক পুত্র সন্তান প্রসব করেন৷ সেই পুত্রই হলেন লোকবিশ্রুত আস্তিক মুনি৷

তবে মা মনসার জীবনে বিবাহ সংক্রান্ত এক সমস্যা হয়েছিল৷ সর্পকুল ধবংসের অভিশাপ থেকে মুক্তি পাবার জন্য বাসুকি দেবতার আদেশে জগৎকার মুনির সাথে মনসার বিয়ে দেন৷ বিয়ের সময় কথা হয় যে জগতকার স্ত্রীকে প্রতিপালন করবেন না৷ অর্থাৎ বাঙালি হিন্দু সমাজে যে অনুষ্ঠান করে স্ত্রীর ভরণপোষণ মানে ভাত কাপড়ের দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার অর্থাৎ বৌভাতের অনুষ্ঠান হয়---তা হয়নি৷ মোদ্দাকথা মুনিবর স্ত্রীর প্রতিপালনের কর্তব্য পালন করবেন না৷ কিন্তু স্ত্রী যদি মুনিবরের স্বেচ্ছাচারিতায় কখনো বাধা দেন মুনিবর তাহলে স্ত্রীকে পরিত্যাগ করবেন৷

 হলোও তাই৷ উভয়ের দাম্পত্যজীবন নাগলোকেই কাটতে লাগলো৷ একদিন মা মনসা দেখলেন বিকেল হয়ে গেছে তাও জগৎকারু ঘুমিয়ে আছেন৷ এদিকে সন্ধ্যা বন্দনার সময় অতীত হতে চলেছে৷ পতির ধর্ম লোপ হওয়ার আশঙ্কায় মনসা স্বামীকে জাগিয়ে তুললেন৷ ব্যাস, তাতেই ক্ষোভে মুনিবর স্ত্রীকে ত্যাগ করলেন৷ স্ত্রীর অনেক অনুনয় বিনয়সত্ত্বেও মুনিবর তপস্যার্থে বনে গমন করলেন৷ তবে হ্যাঁ, যাওয়ার সময় স্ত্রীকে বলে গেলেন তুমি অন্তঃসত্ত্বা, তোমার গর্ভে এক বিখ্যাত পুত্র সন্তান জন্মগ্রহণ করবে৷ যথা সময়ে মনসার এক পুত্র সন্তান হয়৷ সেই পরবর্তীকালে আস্তিকমুনি নামে খ্যাত হন৷

 কিন্তু বাঙালী হিন্দু সমাজ মা মনসা কে শিবের কন্যা বলেই মনে করেন৷ এ ব্যাপারে শ্রীশ্রী আনন্দমুর্ত্তির বক্তব্য শোনা যাক --- শিবের আত্মীয়তা সূত্রে অনেক দেবী দেবতাকে আনা হলো৷ কারণ শিবের সঙ্গে আত্মীয়তা পাতাতে না পারলে কোন দেবদেবীরই নৈবেদ্য জুটত না৷

মনসা পূজোর উদ্যোগ প্রসঙ্গে শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার বলেছেন---‘‘গরম ও আর্দ্র দেশে সাপের উপদ্রব বেশী৷ তাই মানুষ সর্পদেবী মনসার সন্তুষ্টির জন্য মনসা পূজার প্রচলন করেছিল৷’’ (বাংলা ও বাঙালী)৷

 দশহরার পর কোথাও শ্রাবণ সংক্রান্তিতে, কোথাও ভাদ্র সংক্রান্তিতে অরন্ধন পালন৷ কারণ সেদিন মনসা পূজো৷ কোনও গৃহস্থ বাড়িতে সেদিন উনুন জ্বলবে না৷ আগের দিন রাতের অন্য ব্যঞ্জন বেঁধে পরদিন খাওয়া হয়৷ সেদিন উনুনে মনসার ডাল রেখে দুধে স্নান করিয়ে মনসা পূজো হয়৷ অনেকে মনসার প্রতিমা গড়েও পুজো করে৷ পূর্ববঙ্গে (অধুনা বাংলাদেশে) ৫ই শ্রাবণ থেকে সংক্রান্তি পর্যন্ত কাঁচা মাটির ঘটে সাপের অলংকার একে প্রতিমায় পূজো হয়৷ মনসা দেবী বিশেষ বৃক্ষে অবস্থান করেন৷ ফলে সেই বৃক্ষের নামকরণ হয়েছে মনসা৷ তাই পশ্চিমবঙ্গে গ্রাম বাংলার ‘মনসাতলা’ নামে স্থানের অভাব নেই৷

 পুরান মতে, মনসা আস্তিক মুনির মা, বাসুকি নাগের বোন, জগৎকারু মুনির পত্নী৷ শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তি তাঁর নমঃ শিবায় শান্তায় গ্রন্থে বলেছেন---‘‘ পুরাণ মতে, সাপেদের মায়ের নাম কদ্রু৷ পিতার নাম মহর্ষি কশ্যপ ৷ তাই মনসার পিতা কশ্যপ৷ তাহলে শিবের কন্যা তিনি কি করে হবেন! অর্থাৎ পুরাণেরা স্ববিরোধী৷ আসলে মনসার সঙ্গে শিবের কোন সম্পর্কই নেই৷ মনসা লৌকিক দেবী, বৌদ্ধতন্ত্রে ও পৌরাণিক যুগে তিনি স্বীকৃতি পেয়েছিলেন৷ আর শিব সাত হাজার বছরের পুরনো এক বিরাট পুরুষ৷ তিনি পুরাণের কথার ওপর নির্ভর করে থাকেন নি৷ পুরাণ তৈরি হয়েছে শিবের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছর পরে৷ 

অনেক পন্ডিত আবার মনে করেন কশ্যপ মুনির ঔরষেও তাঁর স্ত্রীর গর্ভে মনসার জন্ম হয়নি৷ মনসার জন্ম কশ্যপ মুনির মনলোকে৷ অর্থাৎ মনসা কশ্যপ মুনির মানসী কন্যা তাই তাঁর নাম মনসা৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved