Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

মানুষের কল্যাণের জন্য রাষ্ট্র

আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

মানুষ নিজের উন্নতি ও কল্যাণের জন্য রাষ্ট্র নামক সংস্থাটি তৈরি করেছিল৷ রাষ্ট্র খুবই শক্তিশালী একটি সংস্থা৷ রাষ্ট্রের শাসনযন্ত্র যিনি বা যারা পরিচালনা করে তারা অসীম ক্ষমতার অধিকারী হয়৷ সেই ক্ষমতা যদি কোন একজন বা কয়েকজন গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে যায় তবে রাষ্ট্রবাসীর কল্যাণ অপেক্ষা অকল্যাণের সম্ভাবনাই বেশি থাকে৷ সেটা নির্ভর করে শাসকের, রাষ্ট্র পরিচালকের আচার-আচরণ ও নৈতিক চরিত্রের ওপর৷

ইতিহাসের পাতায় স্বৈরাচারী শাসকের নিষ্ঠুরতার নির্মমতার ইতিকথা যেমন লিপিবদ্ধ আছে, আবার প্রজাহিতৈষী রাজকাহিনীও আছে৷ তবে মানুষ প্রথম রাষ্ট্র তৈরি করেছিল নিজের কল্যাণের জন্য৷ অর্থাৎ রাষ্ট্র তৈরি হয়েছিল মানুষের কল্যাণের জন্য৷ কিন্তু চতুর ধুরন্ধর শাসকের দুর্বুদ্ধির কবলে পড়ে আজ রাষ্ট্রের কল্যাণে নাগরিক হয়ে গেছে৷ শাসকের আগ্রাসনি বুদ্ধি, ক্ষমতার মোহ ও আত্ম সুখের তাড়না জন্ম দিয়েছে অনেক স্বৈরাচারী দুরাচারী অত্যাচারী শাসক৷

সার্বিক কল্যাণের স্বার্থে শাসকের একচ্ছত্র ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রিত করতে মানুষই তৈরি করলেন আইন আচরণবিধি ও আদর্শ৷ এই আইন আচরণবিধি ও আদর্শের লিপিবদ্ধ রূপ হলো সংবিধান৷ কিন্তু সেখানেও থেকে গেল নানা ছিদ্র, ত্রুটি বিচ্যুতি৷ পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন রাষ্ট্রে ভিন্ন ভিন্ন শাসনব্যবস্থা থাকলেও আজ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থাই শ্রেষ্ঠ৷ শ্রেষ্ঠ হলেও সর্র্বেৎকৃষ্ট নয়৷ এই গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থারও পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন রূপ আছে৷ ভারতবর্ষে সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত নয়৷ নির্দিষ্ট অঞ্চল অনুযায়ী জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচিত করেন৷ তবে আমেরিকার মত দেশে সরাসরি জনগণের দ্বারা নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি দেশ শাসন করে৷

বর্তমানে ভারতবর্ষের মতো বৃহত্তম সংসদীয় গণতন্ত্রের যে কদর্য রূপ ফুটে উঠছে তাতে এখন অনেকেই ভাবতে বসেছে জনগণের দ্বারা প্রত্যক্ষভাবে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির দ্বারা চালিত গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ভালো৷ কারণ তাতে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণকে উপেক্ষা করে দলবদলু হওয়ার প্রবণতাটা আর থাকবে না৷ তবে আমেরিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকেও একেবারে ত্রুটিমুক্ত বলা যাবে না৷

একটা কথা আজ পষ্ট মানুষের কল্যাণ ও প্রগতির জন্য রাষ্ট্র গড়ে উঠলেও আজও মানুষের সার্বিক কল্যাণের জন্য কোন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি৷ প্রচলিত রাষ্ট্র ব্যবস্থা গুলির মধ্যে গণতন্ত্রকে মন্দের ভালো বলা গেলেও সেখানেও ত্রুটি বিচ্যুতির ফাঁক দিয়ে পুঁজিবাদী রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েম হয়েছে৷ যার পরিণতিতে রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা সর্বশ্রেণীর মানুষের সার্বিক কল্যাণের কথা ভুলে মুষ্টিমেয় পুঁজিপতির স্বার্থ রক্ষায় ব্যস্ত থাকে৷ সম্প্রতি এক সমীক্ষায় জানা গেছে ভারতবর্ষের সত্তর শতাংশ সম্পদ মুষ্টিমেয় কয়েকজন হাতে গোনা ধনকুবেরদের দখলে চলে গেছে৷তারাই আজ রাজনীতি অর্থনীতি রাষ্ট্রনীতির নিয়ামক হয়ে গেছে৷ বহুদলীয় গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় শাসকদলের ক্ষমতার অপব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে গড়ে উঠেছিল বিচার বিভাগ, সংবাদ মাধ্যম যাকে গণতন্ত্রের সুরক্ষার দুটি স্তম্ভ বলা হয়৷ অর্থাৎ শাসক পক্ষ যদি স্বৈরাচারী হয় দুর্নীতি পরায়ণ হয় তবে সংবাদ মাধ্যম গর্জে উঠবে, জনগণের সামনে প্রকৃত সত্য তুলে ধরবে৷ অপরদিকে বিচার বিভাগের দায়িত্ব মানুষকে ন্যায় বিচার পাইয়ে দেওয়া৷ কিন্তু আজ ভারতবর্ষের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় এই দুটি বিভাগই সবথেকে বিতর্কিত বিষয় হয়ে উঠেছে৷ সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে শীর্ষ আদালতের রায় দেশের গুণীজনদের সমালোচনার শিকার হয়েছে৷ যা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় অশুভ ইঙ্গিত বহন করে৷

তাই জনগণের কল্যাণের কথা ভেবে যে শাসনব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, আজ সেই শাসনব্যবস্থা জনগণের ঘাড়ে চেপে মুষ্টিমেয় ধনকুবের শাসকের স্বার্থ রক্ষা করে চলেছে৷

বিজ্ঞানের অগ্রগতি যতই হোক, মানুষ যতই সভ্যতার বড়াই করুক মানুষ জাতির সার্বিক কল্যাণে আজও কোন রাষ্ট্র ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি৷ 

তাই আজ প্রয়োজন সর্বশ্রেণীর মানুষের, সর্ব জীবের, সর্ব অস্তিত্বের কল্যাণের স্বার্থে আদর্শ শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা৷ এ বিষয়ে যেসব শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ চিন্তা করছেন তারা প্রাউট প্রবক্তা শ্রীপ্রভাত রঞ্জন সরকারের আনন্দমার্গ দর্শনের সামাজিক অর্থনৈতিক তত্ত্বে অনুসন্ধান করলে আদর্শ সংবিধানের তথা আদর্শ রাষ্ট্র গঠনের পথনির্দেশনা পাবেন৷ যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা যথার্থই সর্বশ্রেণীর মানুষ তথা সর্বজীব সর্ব অস্তিত্বের কল্যাণে নিয়োজিত হবে৷

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved