Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

মদালসা ও গন্ধর্ববিবাহ

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘গন্ধর্ব’ শব্দটি যদি পুংলিঙ্গে ব্যবহূত হয় (গন্ধর্বঃ) তার মানে হয় গন্ধর্ব অর্থাৎ নৃত্যে গীতে বাদ্যে দক্ষ এক প্রকারের দেবযোনি যা’ তেজ, মরুৎ আর ব্যোম এই তিনটি তত্ত্বে তৈরী অর্থাৎ যাতে ক্ষিতি ও অপ্ তত্ত্ব নেই, আর ক্ষিতি ও অপ্ তত্ত্ব না থাকায় সাধারণভাবে তা’ পরিদৃশ্য নয়৷ গন্ধর্ব–প্রেষিত ধ্বনি, রাগাত্মিকা অভিব্যক্তি শ্রুতিগ্রাহ্য, অনুভব্য কিন্তু স্বাভাবিক অবস্থায় দৃশ্য নয়৷ মনকে নিজের ক্ষিতি, অপ্ তত্ত্ব থেকে বিচ্যুত করে সম্পূর্ণতঃ ঔর্ধ্বদৈহিক ভাবে নিষিক্ত করতে পারলে তবেই তা’ মানসলোকে দৃশ্য৷

গন্ধর্ব একটি দেবযোনি যা’ কতকটা অপ্সরা পর্যায়ভুক্ত৷

‘‘যথাড়দর্শে তথা ড়ত্মনি যথা স্বপ্ণে তথা পিতৃলোকে৷

যথাড়প্সু পরীবদদৃশে তথাগন্ধর্বলোকে ছায়াতপয়োরিব ব্রহ্মলোকে৷৷’’

আজকাল যাকে মাইক্রোবাইটাম বলা হচ্ছে গন্ধর্ব সেই রকম এক ধরণের পজিটিব মাইক্রোবাইটাম যা’ জীবের শরীরকে মনকে স্নিগ্ধ করে ঊর্ধ্বতর তথা উন্নততর ভাবে অভিষিক্ত করে ক্ষুদ্রত্বের নিগড় ভেঙ্গেচুরে খান খান করে দেয়৷ সপ্ত দেবযোনি সাতটি বিভিন্ন ধরণের পজিটিব মাইক্রোবাইটাম যার সঙ্গে আমাদের অহরহঃ কারবার চলছে কিন্তু যাদের কাছে পেয়েও কাছে পাচ্ছি না অথচ অনুভব করছি সে বা তাঁরা আশেপাশে ইতস্ততঃ উঁকিঝুঁকি মারছে৷

হ্যাঁ, পুংলিঙ্গে ব্যবহূত হলে ‘গান্ধর্ব’ শব্দের অর্থ হ’ল তথাকথিত অশরীরী সঙ্গীত জগতের বাসিন্দা....এক ধরণের মাইক্রোবাইটাম যার গতায়াত স্থূল ও সূক্ষ্ম জগতে রয়েছে, কারণ – জগৎকেও সে ছুঁই–ছুঁই করছে৷ছজজছঝছছঞঁই করছে৷

‘‘নগর বাহিরি রে ডোম্বী তোহরি কুড়িয়া

ছোই ছোই জাওসি ব্রাহ্মণ নড়িয়া৷’

‘গান্ধর্ব’ শব্দটি যদি ক্লীবলিঙ্গে হয় (অর্থাৎ যদি গান্ধর্বং/গান্ধর্বে/গান্ধর্বাণি বলা হয়) তার মানে গন্ধর্ব সংক্রান্ত সব কিছু৷ তাদের আচার–ব্যবহার, ভাব–ভাষা, আঙ্গিক, অভিব্যক্তি–মুদ্রা–বাচ, বিবাহ, সামাজিক অবস্থা, বস্ত্র–পরিধানরীতি, উড্ডয়নরীতি–সব কিছুর সমাহার নিয়েই এই ক্লীবলিঙ্গাত্মক ‘গান্ধর্বং’ শব্দ ব্যবহূত হয়৷

গান্ধর্ব বিবাহ একটি হিন্দুশাস্ত্রসম্মত বিবাহ৷ মনু এই বিবাহকে স্বীকৃতি দিয়েছেন, ভারতের ন্যয়াধিকারও এই বিবাহকে স্বীকৃতি দিয়েছে৷ গান্ধর্ব বিবাহে বর–বধুর সম্মতি থাকলেই হ’ল৷ কেবল মালা বিনিময়েই বিবাহ নিষ্পন্ন হয়৷ সাত পাক, সিঁদুর, সামাজিকতা, কন্যাদান, অগ্ণিসাক্ষী কোন কিছুই এতে নেই৷ কেবল একটি স্থায়ী সত্তার সামনে এই মালা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়৷ এই স্থায়ী সত্তা বলতে প্রাচীনকাল থেকে সূর্য, চন্দ্র, তাঁবাঁ, তুলসী, মহাভারত ও গঙ্গোদককে বুঝিয়ে আসছে৷ মূল মহাভারত যে রামায়ণের চেয়ে প্রাচীনতর এ থেকে তারও খানিকটা ঝিলিক মেলে৷ ভারতে বসবাসকারী আর্য বা আর্যেতর প্রাচীন দ্রাবিড়েরা বা বাঙলার আদি অষ্ট্রিকেরা কেউই এ ব্যাপারে রামায়ণকে স্বীকৃতি দেননি৷ বরং পরবর্ত্তীকালে কেউ কেউ গীতা বা শ্রীশ্রীচণ্ডীকে (দুর্গাসপ্তসতী) সাক্ষীরূপে মেনে নিয়েছিলেন৷ যাই হোক, গান্ধর্ব বিবাহ কী তা’ বুঝে গেলে৷

আনন্দমার্গ বিবাহ তাই হিন্দুশাস্ত্রসম্মত গান্ধর্ব বিবাহ যাতে সাক্ষী থাকেন উভয় পক্ষের মাননীয় প্রতিভূরা৷ তাঁরাও মন্ত্র পাঠ করে নিজেদের সাক্ষিত্বকে স্পুষ্টীকৃত করে থাকেন৷

প্রাচীন ভারতে ও মধ্যযুগীয় ভারতে গন্ধর্বদের নিয়ে অনেক গল্প রচিত হয়েছিল৷ মানবে গন্ধর্বে বিবাহাদির গল্প কিছু কিছু রয়েছে৷ মানবে গন্ধর্বে মিলিত ভাবে পূজানুষ্ঠান, নৃত্যানুষ্ঠান,  গীতানুষ্ঠানেরও উল্লেখ রয়েছে৷ কাশীর রাজা নামে পরিচিত চিত্রসেন ছিলেন গন্ধর্ব৷ তাঁর স্ত্রী মদালসা গন্ধর্বী ছিলেন কিনা তার জোরালো প্রমাণ নেই৷ মদালসার সন্তান বিক্রান্ত ও অলর্ক গন্ধর্ব ছিলেন না৷ প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ইতিহাসে দন্তকথায় চারণগাথায় মিলেমিশে এক হয়ে গেছে৷ যাঁর কথা বললুম এই সেই মদালসার পুত্রের নাম ছিল অলর্ক (ক্ষ্যাপা কুকুর)৷ চিত্রসেনের সঙ্গে মত বিরোধ হওয়ায় যিনি দেহত্যাগ করেন ও যাবার সময় চিত্রসেনের হাতে অঙ্গুরীগ্রথিত বাণীতে লিখে গেছলেন, ‘‘জগতে কোন কিছুই কামনা করিবে না৷ যদি কোন কামনা করিতেই হয় তবে মুক্তি কামনা করিও৷ জগতে কোন কিছুর প্রতি আসক্তি রাখিবে না৷ যদি কোন আসক্তি রাখিতেই হয় তবে পরানুরক্তি রাখিও’’৷ এই সেই মদালসা যিঁনি নিজপুত্র শিশু অলর্ককে ঘুম পাড়াতে গিয়ে যে ঘুমপাড়ানী গান গেয়েছিলেন সে গান বৈরাগ্যের গান, সে গান বন্ধন ছেঁড়ার গান–

‘‘শুদ্ধোড়সি বুদ্ধোড়সি নিরঞ্জনোড়সি সংসারমায়া পরিবর্জিতোড়সি৷

সংসারস্বপ্ণং ত্যজ মোহনিদ্রাং মদালসোল্লাপমুবাচ পুত্রম্৷’’

এই সেই অলর্ক যিনি এককালে মহর্ষি অষ্টাবক্রের কাছে রাজাধিরাজযোগে শিক্ষা নিয়েছিলেন৷     (‘‘গান্ধর্ব ‘শব্দ–চয়নিকা’ ২২শ পর্ব)

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved