প্রধানমন্ত্রী মোদির বছরে দু কোটি চাকরির গ্যারান্টি যে কতটা অসার সম্প্রতি এক পরিসংখ্যানে তা ধরা পড়েছে৷ সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের এক সমাজ কর্মী চন্দ্রশেখর গৌর তথ্য জানার অধিকার আইনে কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে গত এক দশকে শূন্য পদের সংখ্যা জানতে চেয়েছিলেন৷ প্রত্যুত্তরে জানানো হয় ২০১৫-২০২৪-এই সময় কালের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদিত পদের বিচারে শূন্য পদের হার ১১.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২১ শতাংশ হয়েছে৷ ২০১৫ তে যেখানে শূন্য পদের সংখ্যা ছিল ৪ লক্ষ ২১ হাজার,২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৮ লক্ষ ২৪০০০ হাজার৷
তবে স্থায়ী পদশূন্য থাকলেও চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা ১৮.৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৯.১ শতাংশ৷ চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের জন্য সরকারের কোন দায়বদ্ধতা থাকে না৷ তারা স্থায়ী কর্মীদের মতো সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত৷ তাই স্থায়ী কর্মী নিয়োগ অপেক্ষা সরকারের ঝোঁক চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগের দিকে৷ প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায় রেল ও স্বাস্থ্য দপ্তরে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কোন শূন্য পদ ছিল না৷ ২০২৪ সালে সেটাই হয়েছে রেলে ২ লক্ষ ৪০ হাজার ও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ১৫৮২ জন৷ এই পরিসংখ্যানে বলে দিচ্ছে গত ১২ বছরে কেন্দ্রীয় সরকারীর দপ্তরে চাকরির ক্ষেত্রে মোদি সরকার ব্যর্থ৷ পাবলিক এন্টারপ্রাইজেস সার্ভে অনুযায়ী ২০২৫ সালের চুক্তিভিত্তিক কর্মী ছিল ২ লক্ষ ৯৫ হাজার ৯৭৫ জন৷ ১০ বছরের বৃদ্ধি পেয়ে হয়েছে সাত লক্ষ আটান্ন হাজার ৬১১ জন৷ ২০২৪ সালে সেটাই হয়েছে ১৫ লক্ষ ৪২ হাজার ৩৩৯ জন৷ অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক কর্মী চুক্তিভিত্তিক৷ মোদির আর পাঁচটা গ্যারান্টির মতো বছরে দু-কোটি চাকরীর গ্যারান্টিরও একই হাল৷
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভা নির্বাচনে ৪৫০ টাকায় গ্যাস, দিল্লির সমমূলে পেট্রল, নারী নিরাপত্তা নিয়ে গ্যার্যান্টি দেবার সময় উঁচু গলায় বলতেন--- এটা মোদি গ্যারান্টি৷ সরকারে এসেছেন ১০০ দিন পার৷ মোদি গ্যারান্টি কি জিনিস পশ্চিমবঙ্গের মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে৷