আজ সারা ভারতযুক্তরাষ্ট্রের যাঁরা কেন্দ্রের শাসনে আছেন তাঁরা ইচ্ছাকৃত ভাবে মহান ভারত যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কাঠামোকে অস্বীকার করে এক মারাত্মক সাম্প্রদায়িক হিন্দুত্ববাদীদের রাষ্ট্রে পরিণত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে! কেন্দ্র সরকারের প্রধান দায় ও দায়িত্ব হলো মানবতাবাদী হয়ে সারা ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ধর্মমতের ও ভাষাভাষীর জনগণের রাষ্ট্রগুলিকে নিয়েই বিকাশের পথে চলা৷ সেখানে কেউই কারোর চেয়ে ছোট নয় আর বড়ো নয়৷ এই যে সহানুভূতিশীলতা সেই টা দেখা যাচ্ছে মূলতঃ কেন্দ্রের মিলিজুলি বিজেপি সরকার পদে পদে অস্বীকার করে ও সেই রাষ্ট্রগুলির সঙ্গে যেভাবে সহানুভূতিশীল হয়ে চলা উচিত সেটাতো করছেই না বরং চরম স্বেচ্ছাচারিতে তার পরিচয় দিয়ে চলেছে৷ বিরোধী দলের পরিচালিত রাষ্ট্রগুলি ও কেন্দ্রের সংকীর্ণতাবাদী সরকার যে সব গভর্নর নিয়োগ করেন তাঁদের না জানিয়ে! যেটি করা উচিত সেই রাষ্ট্রগুলিকে জানিয়ে৷ কিন্তু যাঁদের নিয়োগ করা হয় তাঁরা নিযুক্ত হয়েই এমন আচরণ করেন রাষ্ট্র সরকার গুলির সঙ্গে যেন অহী নকুল সম্পর্ক! করাটা কি? বিরোধী রাষ্ট্রগুলির ন্যায়সঙ্গত প্রাপ্য অর্থ যৌথ উন্নয়নমূলক কাজে সেটা মোদীজির সরকার আটকে রাখেন বছরের পর বছর কারণটা হলো একেবারে এক ধরণের দলীয় স্বেচ্ছাচারিতা যাতে সেই বিরোধী সরকার এর শাসকগণ লোকচক্ষে হেয় প্রতিপন্ন হয়ে সেই রাষ্ট্রের জন সমর্থন হারিয়ে বসেন৷ এটা এক ধরণের দলীয় ভ্রষ্টাচারিতা ছাড়া কিছুই নয়৷ তাই বর্তমানে সেইগুলি মহান প্রধানমন্ত্রীর চোখে সেই বিরোধী রাষ্ট্রগুলির অন্যতম রাষ্ট্র পশ্চিমবাঙলা হয়ে গেছে এক মহান জঙ্গলের রাষ্ট্র! এর সার্বিক উন্নতি ঘটাতে পারে একমাত্র সেই মহামতি মোদীজীর ডবল ইঞ্জিন সরকার-এ রূপান্তরিত হলে৷ এটা কোন ধরণের ফেডারেল রাষ্ট্র? এর উত্তর কি মোদীজীর সঠিক জানা আছে? না এটিই হলো যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর একচ্ছত্র শাসক হওয়ার এক কুৎসিত উচ্চাকাঙ্খা? ডবল ইঞ্জিন গড়ার! দীর্ঘ ১২ বছরের শাসনে থেকে মোদীজীর মাথায় এলো কি করে যে বোটার তালিকায় এমনভাবে নিবিড়ভাবে সমীক্ষা করাতে হবে এস.আই.আর যাতে বোটারদের সংখ্যা কমানো যায়! তিনি পর পর দু’বার জয়ী হয়েছেন সেই পুরাতন বোটারদের দ্বারাই! এটাতে যে চরম জটিলতা বঞ্চনার শিকার হলেন বোটারগণ সেটা কোন ধরনের সমীক্ষা? পৃথিবীর ইতিহাসে তাঁদের না জানিয়ে? এটাকেই তো বলা জঙ্গলের শাসন! তাই নয় কি? তাই কোন সাহসে পশ্চিমবাঙলাকে জঙ্গলের শাসন বলেন? এই বাংলাই সারা ভারতবর্ষ দেখিয়ে শিক্ষা দিয়েছে স্বাধীনতা আন্দোলন কাকে বলে৷ তারই আদর্শ প্রতীক নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু! যে গদীতে বসে মোদীজী প্রধানমন্ত্রীর আস্ফালন করছেন সেটিকে লড়াই করে এনেছিলেন সেই সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ সরকারকে বিতাড়িত করার ব্যবস্থা করেই! তাই বলি কিছুটা নীতিবাদী ও মানবতাবাদী হবার চেষ্টা করুন! এইভাবে মহান ভারত-এর সর্বনাশ করবেন না৷ আমরা বাঙালীরা অনেক ধৈর্যশীল ও সুসভ্য জনগোষ্ঠী, বাঙলা সাম্প্রদায়ীকতা প্রশ্রয় দেয় না, ধর্মমতের অন্ধ আবেগে ছোটে না৷
মোদীজী বড় আশা করেছিলেন ভারত যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত অটলজীর মতো সর্বজন শ্রদ্ধেয় প্রধানমন্ত্রী হয়ে জনগণকে সেবা দেবেন! কিন্তু সেদিকে না গিয়ে একেবারে ধনতন্ত্রের কট্টর পূজারী হয়ে ধনীদের নিয়ে এমন শাসন আরম্ভ করলেন এদেশে৷
যার জন্য সেই বড় নোট বাতিল ও খুচরো বাতিল এর আর্থিক সংস্কার! দেশে ব্যাঙ্ক অনেক কম, গ্রামগঞ্জের সেই গরিষ্ট নিম্নমধ্যবিত্তের জনগণ সঠিক সময় না পেয়ে বাতিল নোট পরিবর্তন করার সময় না পেয়ে কতো মানুষ যে একেবারে জীবন-এর শেষ সম্বলটুকু হারিয়ে বসেছিলেন তার হিসাব নেই৷ তৃতীয়বারে এসে আপনি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এমন এস.আই.আর আরম্ভ করলেন যার জন্য বাধ্য হয়ে মহামান্য সুপ্রিম কোর্টকে হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে সাধারণ নাগরিকদের বোটাধিকার রক্ষায়৷ মহামান্য সুপ্রিমকোর্ট যাঁরা বোটাধিকার হারাচ্ছেন তাঁদের জানাতে বলছেন কি কারণে বোটার বোটারহীন হচ্ছেন! আজ সারা দেশই প্রায় এই নিবিড় বোটার তালিকায় বোটারহীন হওয়াতে ও যাঁরা এই বোটের কাজে রত তাঁরা কাজের চাপে ও আতঙ্কে অনেকই আত্মহত্যা করছেন৷ যে কথা আগেই বলা হয়েছে!
শুধু তাই নয় এই বাংলা ভাষা ও বাঙালীদের যেভাবে বাঙলায় বাহিরে অপমান ও অত্যাচারিত হচ্ছে এমনকি প্রান হারাচ্ছেন তাঁদের কাছে বৈধ কাগজ পত্র থাকতে, তাতে আপনার তো কোন বক্তব্য নেই! বিশেষ করে আপনার দলের রাষ্ট্রে সেই ডবল ইঞ্জিন রাষ্ট্রে৷ তাদের জোর করে বাংলা দেশে পুষ ব্যাক করা হচ্ছে এই ভারতেরই নাগরিকদের বাংলাদেশী বলে!
আর বাংলাভাষাকেই জোর করে প্রচার করা হচ্ছে বিদেশী ভাষা বলে! অখণ্ড বাংলাকে টুকরো করে পাকিস্তান রাষ্ট্রতো কংগ্রেস আমলে হয় ইংরেজ সরকারের ইচ্ছায়৷ তাঁরাতো সবাই সেই অতীতের ভারতীয় বাঙালীই৷ তাঁরা বিশেষ করে যাঁরা হিন্দু ও অমুসলমান তাঁদের পাকিস্তান পরবর্তীকালের বাংলাদেশ স্বাধীন হয় সেখানে থেকে উদ্বাস্তু হয়ে এদেশে বিতাড়িত হয়৷ তাঁদের অনেকে আজও এদেশের উদ্বাস্তু সমস্যা মেটেনি বিজেপির আমলেও৷ এসব কাণ্ড করে চলেছে যে সরকার ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রে তাঁরা কি সত্যই সেই সনাতন ধর্মের অনুগামী? এটাই বড়ো প্রশ্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ভারত নানা ভাষাভাষির নানা ধর্মমতের জনগোষ্ঠীর একটি যুক্তরাষ্ট্র৷ তাই সবাইকে সাথে নিয়ে চলাই, সবার বিকাশের ব্যবস্থা করাই শাসকের লক্ষ্য হওয়া উচিত৷ নতুবা ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রের সংহতি দুর্বল হবে, দেশ সংকটে পড়বে৷
- Log in to post comments