Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

নিপীড়িত মানবতার মুক্তির আদর্শ ও দধীচি দিবস

আচার্য সত্যশিবানন্দ অবধূত

মানুষ আজ দিশাহীনতায় ভূগছে৷ লক্ষ্যহীন মানব জীবন৷ ধর্মের স্থান অধিকার করেছে রাশি রাশি ডগমা বা ভাবজড়তা, অন্ধবিশ্বাস, কুসংস্কার৷ সামাজিক অর্থনীতির ক্ষেত্রেও মূলত পুঁজিবাদ, মাকর্সবাদ (জড়বাদ) আর ডগমা এই তিনের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে৷ অথচ এই তিনের কোনটারই সর্বাত্মকশোষণমুক্ত সমাজ গড়বার সামর্থ্য নেই৷ ফলে মানব সমাজে আজ সর্বক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে চরম আদর্শগত শূন্যতা৷

এরফলে আজ সর্বত্র চলছে ব্যাপক দুর্নীতি ও শোষণ, আর মানুষের ব্যষ্টিগত জীবনেও চরম উচ্ছৃঙ্খলতা ও অশান্তি৷

এই অবস্থায় জগদ্গুরু শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী আজকের যুগে চরম আদর্শগত শূন্যতা দূর করতে এনেছেন এক সর্বানুসূ্যত দর্শন---আনন্দমার্গ৷ কি ধর্ম, কি শিক্ষাব্যবস্থা, কি সামাজিক অর্থনৈতিক দর্শন, সর্বক্ষেত্রে তিনি মানুষকে আজকের সমস্ত সমস্যার সমাধানের জন্যে এক সর্বপ্রকার শোষণমুক্ত সর্বাঙ্গ সুন্দর সমাজ রচনার এক মহান আদর্শ উপহার দিলেন৷ শুধু তত্ত্বই নয় এই আদর্শগত তত্ত্বকে বাস্তবায়িত করার লক্ষ্যেই তিনি প্রথমে চাইলেন তাঁর বহুমুখী সেবাযজ্ঞ পরিচালনার জন্যে এক উপযুক্ত স্থান৷ তখন প্রথমে টাটা-বিড়লা প্রভৃতি পুঁজিপতি গোষ্ঠীর কাছ থেকে প্রস্তাব আসে৷ যদি শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী তাঁর সামাজিক, অর্থনৈতিক তত্ত্ব প্রাউট দর্শন---যাতে পুঁজিবাদের অবসান ঘটিয়ে প্রগতিশীল সমাজতন্ত্রের (অর্থনৈতিক গণতন্ত্র) প্রতিষ্ঠার কথা আছে---ওটিকে ত্যাগ করে কেবল ধর্মীয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ওই ধরনের কোন সেবা প্রতিষ্ঠান গড়তে চান---তাহলে তার জন্যে জমি টাকা -পয়সা যা দরকার তা তাঁরা (পুঁজিপতিগোষ্ঠী) সাহায্য করতে প্রস্তুত আছে৷ তখন শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী তাঁদের এই প্রস্তাব তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘‘আমি তো নিপীড়িত মানবতার সেবার জন্যে এসেছি৷ প্রাউট ত্যাগের প্রশ্ণই উঠে না৷’’

এরপর তিনি দেশের সবচেয়ে অবহেলিত এলাকার মধ্যে অন্যতম জেলা পুরুলিয়ার, জয়পুর ও ঝালদা ব্লকের প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে যেখানে মানুষের জীবিকার কোন ব্যবস্থা নেই, অনুর্বর পাথুরে টাঁড় জমি,পাহাড়-জঙ্গল এলাকা সে স্থানটিকেই তাঁর সেবাকেন্দ্র রূপে নির্র্বচিত করলেন৷ গড়জয়পুরের রাণী প্রফুল্লকুমারী দেবী এই জায়গাটিকে আনন্দমার্গকে দান করেন৷ এই জায়গাতে শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী তাঁর শিষ্যদের সাহায্যে জঙ্গল ঝোপঝাড় ভরা সম্পূর্ণ পাথুরে টাঁড় জমিকে ধীরে ধীরে বাসোপযোগী করে নিজেরাই রাস্তাঘাট তৈরী করেআনন্দমার্গের প্রধান কর্মকেন্দ্র আনন্দনগরের প্রতিষ্ঠা করেন৷ মার্গগুরুদেব রেলের চাকরী ছেড়ে এখানে তাঁর আনন্দনগর নির্র্মণের কাজে তদারকির জন্যে চলে আসেন৷ সেটা ১৯৬৭ সালের ১লা জানুয়ারী৷ মার্গগুরুদেব এখানে প্রাইমারী সুকল, হাইসুকল, কলেজ, দাতব্য চিকিৎসালয় (এ্যালাপ্যাথি ও হোমিওপ্যাথি), কুষ্ঠাশ্রম, অন্ধ-মুক-বধির আশ্রম (আনন্দমার্গ এ্যাকাডেমি অফ লাইট), অনাথ শিশুদের লালন পালন শিক্ষা-দীক্ষার মধ্যে শিশুসদন, দূরের ছেলেদের আশ্রমে রেখে পড়াশুণার ব্যবস্থার জন্য বেশ কয়েকটি হোষ্টেল---এছাড়াও নানান ধরণের সেবামূলক ইয়ূনিট ও ছোট ছোট শিল্প গড়ে তোলার বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করলেন৷ এ অবস্থায় এই এলাকায় কম্যুনিষ্টরা প্রথমে এই আশ্রমকে তাদের আয়ত্তে আনার চেষ্টা করে পরে যখন দেখে আনন্দমার্গীদের আয়ত্তে আনা যাবে না, তখন তাঁরা আনন্দমার্গের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে৷ এই ষড়যন্ত্রে কম্যুনিষ্টরা তাদের সমর্থক স্থানীয় বিডিও অশোক চক্রবর্তীকেও সামিল করে৷ এরপর ১৯৬৭ সালে ৫ই মার্চ দুর-দূরান্ত থেকে বিশাল গুণ্ডাবাহিনী এনে আনন্দনগর আক্রমণ করে৷ আনন্দমার্গ থেকে এই ষড়যন্ত্রের পূর্র্বভাস পেয়ে পুলিশকেও জানানো হয়েছিল৷ কিন্তু পুলিশ তখন আক্রমণকারীদেরই সহযোগিতা করে৷ বলাবাহুল্য তখন চলছিল পশ্চিমবঙ্গে যুক্তফ্রন্টের রাজত্ব৷ সিপিএম নেতা জ্যোতিবসু ছিলেন এই যুক্তফ্রন্টের উপমূখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী৷

এই পরিস্থিতিতে সেদিন বিশাল সশস্ত্র হিংস্র গুণ্ডাবাহিনীর হাত থেকে আনন্দনগরকে তথা আনন্দনগরের সুকল ও হোমের বাচ্চাদের রক্ষা করতে আনন্দমার্গের পাঁচজন সন্ন্যাসী ও সর্বত্যাগী কর্মী ---আচার্য অভেদানন্দ অবধূত,আচার্য সচ্চিদানন্দ অবধূত, অবোধ কুমার,প্রভাস কুমার ও ভরত কুমার আক্রমণকারীদের বোঝাতে গিয়ে তাদের হিংস্র আক্রমণে নিহত হন৷

আনন্দনগরে এই হিংস্র আক্রমণের মূল হোতা ছিল সিপি.এম৷ সরকার পক্ষ এই নৃশংস আক্রমণকে গণরোষ বলে প্রচার করে মামলাটিকে বাতিল করে দেয়৷ পরে সিপিএম গদিচ্যুত হলে এই মামলাটি পুনরায় চালু হয়৷ শেষ পর্যন্ত আদালতের রায়ে আনন্দমার্গের সন্ন্যাসীদের নৃশংস খুনের দায়ে স্থানীয় বিডিও অশোক চক্রবর্তী সহ ১৮ জনের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড হয়৷ তার মধ্যে ৮জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়৷ বিচারক তার রায়ে বলেন, এ আক্রমণ ও হত্যকাণ্ডে শাসক কমিউনিষ্ট দলের মূখ্য ভূমিকা ছিল৷

পৃথিবীতে কোন মহান আদর্শের প্রতিষ্ঠা সহজে হয় না৷ দুর্নীতি পরায়ণ ও কায়েমী স্বার্থবাদীরা তাদের শোষণ ব্যবস্থা টিঁকিয়ে রাখতে সবসময়েই শুভশক্তির ওপর আক্রমণ হেনেছে৷ যারা আদর্শের প্রতিষ্ঠা চান তাদেরও সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আদর্শের প্রতিষ্ঠা করতে হয়েছে৷

আনন্দনগর সমস্যা জর্জরিত দিশাহীন মানবসমাজের আলোক বর্তিকা৷ আনন্দমার্গের মহান আদর্শ যার নাভিকেন্দ্র আনন্দনগর---এই আনন্দমার্গ আজ সারা পৃথিবীর সমস্ত সমস্যার একমাত্র সমাধান ---সমস্ত প্রশ্ণের একমাত্র সদুত্তর---সমস্ত হতাশার একমাত্র নির্ভরযোগ্য আশ্বাস৷

সেদিন ১৯৬৭ সালে ৫ই মার্চ নিপীড়িত মানবতার যুক্তির আদর্শ আনন্দমার্গ প্রতিষ্ঠায় যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছিলেন৷ সেই মহান ‘দধিচীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছর ৫ই মার্চ তারিখটিকে দধিচী দিবস হিসাবে পালন করা হয়৷

তাই, এই ‘‘দধিচী দিবস’’ হল প্রকৃতপক্ষে জগতের কল্যাণে যারা এই আত্মোৎসর্গ করেছেন সবার প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিশেষ দিন৷ এইদিন সুমহান দধীচিদের আত্মোৎসর্গ থেকে প্রেরণা গ্রহণ করে নিপীড়িত মানবতা মুক্তির জন্যে জীবনপণ সংগ্রাম করার শপথ নেওয়ার দিন৷

  • Log in to post comments

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

দগ্ধৰীজ
শ্রাবণী পূর্ণিমা
পরমপুরুষের বিশ্বরূপ
যজ্ঞ প্রসঙ্গে
ঈশ্বর–প্রণিধানের মানসাধ্যাত্মিক প্রক্রিয়া
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

বাঙলার অর্থনৈতিক উন্নয়ন 
শোষণের বহুবিধ রূপ
মানবিক মৌলনীতি
পাপ, পুণ্য ও অপরাধ
প্রাউটের দৃষ্টিকোন থেকে : ত্রিপুরার উন্নয়ন
আরও

সম্পাদকীয়

পরিযায়ী শ্রমিক সমস্যা কেন্দ্রীত অর্থনীতির বিনাশই সমাধান
শ্রাবণী পূর্ণিমা
সরিবে দুর্নীতিরাজ
পেট্রল ও ডিজেলের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি!
সমাজ–সভ্যতা বাঁচাতে চাই আদর্শ শিক্ষা

প্রবন্ধ শিরোনাম

  • দিব্য অনুভূতি
  • আমার বাঙলা
  • গল্প হলেও সত্যি 
  • সমাজ-এর সৃষ্টিই সভ্যতার প্রথম বিকাশে তাই সমাজ রক্ষা করা মানবতাবাদী শাসকের কাজ
  • বিধবস্ত দার্জিলিং---প্রকৃতির প্রতিশোধ
  • একটি ঐতিহাসিক তথ্য
  • ফাঁসীর মঞ্চে গাইলেন যিনি জীবনের জয়গান
  • আমার সন্তান যেন থাকে  দুধে ভাতে

পুরানো মাসিক খবর

  • February 2026 (59)
  • August 2022 (106)
  • July 2022 (93)
  • June 2022 (167)
  • May 2022 (92)
Pagination
  • Page 1
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved