যৌবন ধরে রাখা ও স্থূলত্ব দূর করা এই হল এখনকার চাহিদা৷ আর এতেই গা ভাসিয়েছে গোটা বিশ্ব৷ ওজন যে হারে বাড়ছে, তাতে জীবনধারার সঙ্গে সম্পর্কিত নানা রোগ, যেমন ডায়াবিটিস, ওবেসিটি, লিভারের অসুখ, পিসিওএস ইত্যাদি বেড়ে চলেছে৷ বড়রা তো বটেই, ছোটরাও এখন স্থূলত্বের শিকার৷ তাই ওজন কী ভাবে কমানো যায়, তা নিয়েই মাথাব্যথা বেশি৷ সে কারণে এত রকম ওজন কমানোর ওষুধ তৈরি হচ্ছে৷ সে সব ওষুধ নিয়ে মাতামাতিও চলছে৷ স্থূলত্ব দূর করার আরও অনেক পদ্ধতি নিয়ে গবেষণাও চলছে৷ এর মধ্যে নজর কেড়েছে একটি গবেষণা৷ আর তা নিয়েই খবর হয়েছে৷ সেটি হল অজগরের রক্তে স্থূলত্ব দূর করার উপাদানের খোঁজ৷ স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা সেই উপাদানটি খুঁজে পেয়েছেন৷ ‘নেচার মেটাবলিজম’ জার্নালে বিষয়টি নিয়ে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে৷
হঠাৎ করে অজগর কেন? স্ট্যানফোর্ডের গবেষকদের পর্যবেক্ষণ, বার্মিজ পাইথনদের দৈর্ঘ্য ১৫ থেকে ২০ ফুট বা তারও বেশি হয়৷ ওজনও ততোধিক বেশি৷ আকারে-ওজনে বিশাল এমন রাক্ষুসে অজগরেরা লেজের প্যাঁচে শিকার জড়িয়ে তার হাড়গোড় গুঁড়িয়ে ফেলে তাদের গিলে খায়৷ এরা যখন বিশাল আকারের শিকার গিলে ফেলে, তখন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এদের হৃদিণ্ড, লিভার এবং ফুসফুসের আকার বড় হয়ে যায় এবং বিপাকহার কয়েকশো গুণ বেড়ে যায় এবং মেটাবলিজম বা বিপাক হার বেড়ে যায় কয়েক গুণ! বিজ্ঞানীদের দাবি, পাইথনের রক্তে এমন কিছু বিশেষ উপাদানের মিশ্রণ রয়েছে, যা দ্রুত মেদ ঝরাতে এবং হার্টকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে৷ তার মধ্যে একটি হল ‘পিটিওএস’ (প্যারা-টাইরামাইন-ও-সালফেট)৷ গবেষক জোনাথন লং এই উপাদানটি বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, সেটি অজগরের অন্ত্রে থাকা অ্যামাইনো অ্যাসিড ভেঙে তৈরি হয়৷ এই উপাদানটি তৈরি করে অজগরের অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাক্টেরিয়া৷
অজগর যখন শিকার গিলে ফেলে, তখন এই ‘পিটিওএস’ উপাদানটির মাত্রা ১০০০ গুণ বেড়ে যায়৷ সেটি খাবার হজম করাতে শুরু করে, পাশাপাশি হার্ট ও লিভারও ভাল রাখে৷ এর আরও একটি কাজ হল, পেট দীর্ঘ সময় ভরিয়ে রাখা৷ মস্তিষ্কে এমন সঙ্কেত পাঠানো, যাতে খিদের বোধ অনেক কমে যায়৷ এক বার খাবার খাওয়ার পর, দীর্ঘ সময় না খেয়েও সুস্থ থাকা যায়৷
অজগরের পেটে তৈরি হওয়া এই উপাদানটিকে আলাদা করে ইঁদুরদের শরীরে ঢুকিয়ে দেখেন গবেষকেরা৷ দেখা যায়, ২৮ দিনে ইঁদুরের ওজন তার স্বাভাবিক ওজনের চেয়ে প্রায় ৯ শতাংশ কমে গিয়েছে৷ এর থেকেই বিজ্ঞানীরা বুঝেছেন, অজগরদের যা খুশি খেয়ে হজম করার ক্ষমতা এই উপাদানটির জন্যই৷ আর সেটি যদি মানুষের কাজে লাগানো যায়, তা হলে খেয়েদেয়েও রোগা থাকা যাবে৷ প্রয়োজনের বেশি খেয়ে ফেললেও ক্যালোরি বাড়বে না৷ তবে এই খোঁজ এখনও গবেষণার স্তরেই আছে৷ অজগরের রক্তের উপাদান মানুষের রক্তে মিশলে কী হবে, তা এখনও পরীক্ষা করে দেখেননি তাঁরা৷