অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটি বাস্তব৷ সমুদ্রের গভীরে সত্যিই জমছে হলুদ ধাতু৷ যুগ-যুগান্ত ধরে সেই প্রাকৃতিক ধাতু জমে কালক্রমে গড়ে উঠেছে ‘গোল্ড ফ্যাক্টরি’ বা সোনার কারখানা৷ বিজ্ঞানীরা যা আবিষ্কার করেছেন তা আক্ষরিক অর্থে কোনও কারখানা নয়৷ এটি একটি স্বর্ণ প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র৷ মহাসমুদ্রের তলদেশ ঘিরে গড়ে উঠেছে এই সোনা তৈরির কারখানা৷
একটি নতুন গবেষণা এই প্রাকৃতিক সোনা উৎপাদনের সুস্পষ্ট উত্তর দিয়েছে৷ গবেষকেরা প্রমাণ পেয়েছেন যে জলের নীচের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চল প্রাকৃতিক ‘সোনার কারখানা’র মতো কাজ করে৷ সেখানে উপযুক্ত পরিবেশে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সোনা জমতে সাহায্য করে৷
নিউ জিল্যান্ডের উত্তর-পূর্ব উপকূলে অবস্থিত কারমাডেক আর্ক৷ এই অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের গভীরে বিজ্ঞানীরা এমন একটি প্রাকৃতিক সোনার খনির সন্ধান পেয়েছেন যা তাক লাগিয়ে দিয়েছে গোটা বিশ্বকে৷ মহাসাগরের বিশাল বিস্তৃতির নীচে, দৃষ্টির আড়ালে সঞ্চিত হচ্ছে বিপুল পরিমাণ হলুদ ধাতু৷ বিজ্ঞানীরা সমুদ্রের গভীরে অসংখ্য হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট বা উষ্ণ প্রস্রবণ খুঁজে পেয়েছেন৷ গবেষকদলের প্রধান টিম জানিয়েছেন, তাঁরা প্রাথমিক ভাবে ধরে নেন যে সাবডাকশন জোন থেকে নির্গত জল সরাসরি সোনার উপস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে৷ পরে আরও নিবিড় গবেষণায় তাঁরা বুঝতে পারেন সমুদ্রের জল মূলত ম্যান্টলের গলনে সহায়তা করে৷ এই বিক্রিয়ায় সোনার রাসায়নিক রূপও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে৷ টিম ব্যাখ্যা করেন, ম্যান্টলে থাকা সোনা সাধারণত সালফাইড খনিজের মধ্যে আবদ্ধ থাকে৷ উচ্চ মাত্রার গলনের ফলে এই খনিজগুলি ভেঙে যায় এবং সোনাকে সম্পূর্ণ রূপে গলিত মিশ্রণে উন্মুক্ত করে দেয়৷ দলটি কেবল সোনার ওপর ভিত্তি করে গবেষণাটি করেনি৷ বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে ভূমধ্যসাগর, আটলান্টিক ও উত্তর প্রশান্ত মহাসাগর মূলত এই তিনটি অঞ্চলে জমা হয়েছে ‘সোনার আকর’৷ বর্তমান দাম অনুযায়ী, এক টন সোনার মূল্য আনুমানিক ১০ কোটি ৬০ লক্ষ ডলার৷ যদি সমুদ্রে সত্যি ২০ কোটি টন সোনা থাকে, তা হলে এই সোনার মোট মূল্য প্রায় ২১৩০০০০০ কোটি ডলার হতে পারে, যা সমগ্র বিশ্বের অর্থনীতির তুলনায় অনেক বেশি৷