আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের সর্বত্যাগী সন্ন্যাসী ও নিষ্ঠাবান কর্মী আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূত ২০শে মার্চ সকাল ৭ টা ৫০ মিনিটে কলিকাতার রবীন্দ্রনাথ টেগোর হাসপাতালে দেহত্যাগ করেন৷ মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর৷ বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অসুস্থ ছিলেন৷
আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূত ১৯৬৫ সালে আনন্দমার্গে সর্বত্যাগী কর্মী হিসেবে যোগদান করেন৷ তিনি মার্গের বিভিন্ন বিভাগে অত্যন্ত দায়িত্ব সহকারে ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে গেছেন৷ মার্গের কেন্দ্রীয় ধর্ম প্রচারক সচিব হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন৷ ১৯৮৩ সালে আনন্দমার্গের কেন্দ্রীয় জেনারেল সেক্রেটারি আচার্য গিরীজানন্দ অবধূত দেহত্যাগ করলে মার্গ গুরু আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূতকে জেনারেল সেক্রেটারি নিয়োগ করেন৷ ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১২ বছর তিনি অত্যন্ত দায়িত্ববোধ ও দৃঢ়তার সঙ্গে আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিতে কাজ করে গেছেন মার্গগুরুর ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে থেকে৷ সমস্ত রকম বাধা-বিপত্তি ও প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও তিনি কখনো বিচলিত হননি৷ সমস্ত রকম পরিবেশ পরিস্থিতির মধ্যেই তিনি আদর্শকে আঁকড়ে ধরে দায়িত্ব পালন করে গেছেন৷ শেষ জীবনে মৃত্যুর আগের দিন পর্যন্ত তিনি সংঘের কেন্দ্রীয় প্রকাশন সচিবের দায়িত্বে ছিলেন৷ তাঁর প্রতি অন্তিম শ্রদ্ধা জানাতে এইদিন অগণিত সাধক সাধিকা ও মার্গের বিভিন্ন স্তরের কর্মীরা কলিকাতা কেন্দ্রীয় আশ্রমে আসেন৷ তার প্রয়াণে সংঘের অপূরণীয় ক্ষতি হলো৷
গত ২২শে মার্চ কলিকাতা ভি.আই.পি নগরে আনন্দমার্গের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূতের সংঘ জীবনের অবিস্মরণীয় অবদানকে শ্রদ্ধা জানাতে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়৷ সকাল থেকেই বহু মার্গী ভাইবোন আশ্রমে উপস্থিত হন৷ সকাল ১০টা থেকে মার্গীভাই বোন ও সর্বত্যাগী কর্মীরা শোকবিহ্বল বিষন্ন পরিবেশে আশ্রমের জাগৃতি ভবনে সমবেত হন৷ সকাল ১১টায় প্রভাত সঙ্গীত, কীর্ত্তন ও মিলিত সাধনার পর সংঘের কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য-সদস্যা ও উপস্থিত মার্গী ভাইবোনে আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূতের প্রতিকৃতিতে মাল্য ও পুষ্পস্তবক দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন৷ এরপর আচার্য সুতীর্থানন্দ অবধূত, অবধূতিকা আনন্দকরুণা আচার্যা প্রমুখ আচার্য সর্বাত্মানন্দ অবধূতের দীর্ঘ সংঘ জীবনের স্মৃতিচারণা করেন৷ তাঁদের স্মৃতিচারণায় উঠে আসে আচার্য সর্বাত্মানন্দ দাদা কিভাবে ইষ্ট ও আদর্শের সঙ্গে একাত্ম হয়ে নিষ্ঠার সঙ্গে সংঘের বহু গুরু দায়ীত্ব পালন করেছেন সংঘ জীবনে নিষ্ঠা ও আদর্শপরায়ণতার অবিস্মরণীয় স্বাক্ষর রেখে গেছেন৷