সমাজ ও সভ্যতা আজ এক গভীর সংকটের মধ্যে পড়েছে৷ বিশিষ্ট সমাজকর্মী ও আমরা বাঙালী দলের প্রবীন নেতা সাক্ষীগোপাল দেব গত ১৩ই জুন এক আলোচনায় কথাগুলি বলেন৷ তিনি এর জন্যে দায়ী করেছেন পুঁজিবাদ ও রাজনৈতিক দুরাচারীতাকে৷ তিনি বলেন বর্তমান সরকার মুখে সবকা সাথ সবকা বিকাশের কথা বললেও কাজে শুধু পুঁজিপতিদের বিকাশ করেছেন৷ একদিকে পুঁজিপতিদের বিপুল ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করে দিচ্ছেন ওপর দিকে দেশের অর্থ ভাণ্ডারে টান পড়তেই হাজার হাজার কোটি টাকার সোনা বেচে দিচ্ছেন৷ শ্রী দেব প্রশ্ণ করেন--- এ কেমন ধরণের বিকাশ৷
তিনি বলেন মোদি জমানায় যেভাবে ধনি দরিদ্রের আর্থিক বৈষম্য বেড়ে চলেছে তাতে একদিন পুরো আর্থিক ব্যবস্থাটাই ভেঙে পড়বে৷ অপরদিকে নীতিহীন অসৎ রাজনৈতিক নেতাদের অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে ছাত্র-যুব সমাজ৷ এর পরিণতি সমাজের পক্ষে আরও ভয়ঙ্কর হচ্ছে৷ বর্তমান রাজনীতিতে আদর্শ বলে কিছু নেই৷ ক্ষমতার স্বাদ পেতে দলীয় আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়ে অন্য দলে ভিড়ে যাওয়া নেতাদের কাছে এখন জল ভাত৷ এও এক ধরণের জনগণের সঙ্গে প্রতারণা৷ জনগণ সব সময় ব্যষ্টিকে দেখে ভোট দেয় না, দলীয় আদর্শ ও দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে অনেকে অপচ্ছন্দের প্রার্থীকেও ভোট দেয়৷
তিনি সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে একদল সাংসদ বিধায়কদের অন্যদলে ভীড়ে যাওয়াকে চরম অনৈতিক কাজ বলে উল্লেখ করেন৷ যে জনগণ ওনাদের নির্বাচিত করেছে তাদের মত নেওয়া প্রয়োজন৷ ওই সব সাংসদ বিধায়কদের সামান্যতম নীতিজ্ঞান থাকলে প্রথমে ওনাদের পদত্যাগ করে পুনরায় জনমত নিয়ে সাংসদ বিধায়ক হতে পারতেন৷ এই সব রাজনৈতিক নেতাদের জালে পড়েই ছাত্র-যুব সমাজ বিপথে যাচ্ছে৷ একদিকে আর্থিক বৈষম্য ও সংকীর্ণ ধর্মমতের উস্কানি দিয়ে যুবসমাজকে উশৃঙ্খলতার পথে ঠেলে দিচ্ছে চতুর রাজনৈতিক নেতারা৷ অপর দিকে বেকারত্ব ও অভাবের সুযোগ নিয়ে তাদের দিয়ে অনৈতিক কাজ করানো হচ্ছে৷
শ্রী দেব বলেন এই সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে হলে প্রথমেই আর্থিক কাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনতে হবে৷ পাশাপাশি ছাত্র যুব সমাজের মধ্যে ব্যষ্টি চরিত্র ঘটন ও সমাজ কল্যাণের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে৷ তিনি বলেন আনন্দমার্গ বিশ্বজুড়ে সেই কাজ করে চলেছে৷ আনন্দমার্গের আধ্যাত্মিক জীবনাদর্শ ও আধ্যাত্মিক অনুশীলন যেমন মানুষকে সৎ ও নৈতিকতায় প্রতিষ্ঠিত করে আদর্শ মানুষ গড়ে তুলছে তেমনি আনন্দমার্গ দর্শনের সামাজিক অর্থনৈতিক তত্ত্ব-প্রাউটের বিকেন্দ্রিত আর্থিক ব্যবস্থা পুঁজিবাদী শোষণ নির্মুল করে সমাজের সর্বশ্রেণীর মানুষের কাছে আর্থিক বিকাশ পৌঁছে দেবে ও প্রত্যেকের হাতে সুস্থ জীবন ধারণের প্রয়োজনীয় উপকরণ জোগাড়ের ক্রয়ক্ষমতা দেবে৷
আনন্দমার্গের আধ্যাত্মিক চেতনা সমাজ থেকে সর্বপ্রকার ডগমা ও কুসংস্কারের গণ্ডি ভেঙে মানুষকে প্রকৃত মানব ধর্মের পথে পরিচালিত করবে৷ তবেই গড়ে উঠবে আদর্শ মানব সমাজ৷