স্প্যানিশ শব্দ ‘এল নিনো’-র আক্ষরিক অর্থ ‘দুষ্টু বালক’৷ তবে প্রকৃতিতে এর প্রভাব কিন্তু মোটেও ছেলেখেলা নয়৷ ২০২৬-এর মাঝামাঝি থেকে ২০২৭ সাল পর্যন্ত সময়কালে এল নিনো আরও শক্তিশালী রূপ নিয়ে ‘সুপার এল নিনো’ হিসাবে ভয়ানক হয়ে উঠবে৷ এমনই আশঙ্কা বিজ্ঞানীদের৷ তাতে ছোটনাগপুর মালভূমি ও পুরুলিয়া জেলা বড়সড় সংকটের মুখোমুখি হবে বলে মত তাঁদের৷ এমনই পুরুলিয়া খরাপ্রবণ জেলা৷ সুপার এল নিনোর প্রভাব আছড়ে পড়লে গোটা জেলায় ভয়ানক খরা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷ সাধারণত জুন মাস থেকে ভারতে বর্ষার আগমন ঘটে৷ কিন্তু এল নিনোর প্রভাবে সেই চক্র এবার এলোমেলো হয়ে যেতে পারে৷ সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বর্ষা এবার ‘ফিটস অ্যান্ড স্টার্টস’ অর্থাৎ বিচ্ছিন্নভাবে আসছে৷ কোথাও হঠাৎ প্রবল ঝোড়ো হাওয়া আর বৃষ্টি হচ্ছে৷ পরক্ষণেই সেখানে ফিরে আসছে দাবদাহ৷ এটাই মূলত সুপার এল নিনোর উপসর্গ বলে বিজ্ঞানীদের মত৷ এখন এমন পরিস্থিতি ছোটোনাগপুর মালভূমির এলাকা গুলিতে দেখা দিচ্ছে৷ প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব উপকূলের জলস্তরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়া এবং বাণিজ্যিক বায়ুর দিক পরিবর্তনের ফলে ভারতের বর্ষার স্বাভাবিক গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি বিজ্ঞানীদের৷
সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের অধ্যাপক তথা ভূ-বিজ্ঞানী ডঃ বিশ্বজিৎ বেরা বলেন, ‘এল নিনোর ফলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া চরম রূপ ধারণ করবে৷ এটি একটি পূর্বাভাসমাত্র৷ এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না৷ দক্ষিণ আমেরিকার পেরু, চিলি, ইকুয়েডর ও যুক্তরাষ্ট্রের কিছু অংশে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যা হতে পারে৷ অন্যদিকে, ভারত, অস্ট্রেলিয়া, মধ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যেতে পারে৷’ বিশ্বজিৎবাবুর মতে, ‘উত্তর-মধ্য ভারত, কর্ণাটক এবং ছোটনাগপুর মালভূমি, বিশেষত পুরুলিয়া ও ঝাড়খণ্ডের মতো অঞ্চলগুলিতে এল নিনোর প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে৷ যদি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হয়, তবে ভূ-গর্ভস্থ জলস্তর নিচে নেমে যাবে৷ তখন তীব্র পানীয় জলের সংকট ও কৃষি বিপর্যয় দেখা দিতে পারে৷’ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আগাম সচেতনতা এবং জলের সঠিক ব্যবস্থাপনা এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে৷ তবে আশার কথা, এল নিনো মানেই যে নিশ্চিত খরা, তা নয়৷ এটি একটি ঝুঁকির সংকেত৷ বলছেন বিজ্ঞানীরা৷