রাজনৈতিক ভণ্ডামী ও দ্বিচারিতা বন্ধ হোক

লেখক
আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

ভারত এর জনগণের ভাগ্যে যে সব রাজনৈতিক দল শাসনে এসেছে তাদের অধিকাংশই সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থেই মসগুল৷ যেজন্য দেশের স্বাধীনতার প্রয়োজন ছিল জনগণের সেটা অদ্যাবধি তিলমাত্র পূরণ হয়নি৷ ফলে জনগণ গত ৭৪ বছরে দেশীয় শাসনে এ দেশের ধনী ব্যবসাদারদের শোষনের চরমভাবে শিকারই হয়ে চলেছে৷ আর দেশীয় সরকারগুলি সংবিধানের  মূল লক্ষ্য থেকে সরে গিয়ে সাম্প্রদায়িকতাকে  ও নানা ভেদ বিদ্বেষকে মূলধন করেই দেশ শাসনের নামে সেই দলীয় শাসনকে জিয়িয়ে রেখেছে৷ স্বাধীন ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে সরকারকে বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্যদের সচেতন থাকতেই হয় সংযত ভাষা ও কিছুটা উদারতার দরকার হয় জনগণের স্বার্থরক্ষায় কিন্তু দেশের শাসকগণের তার বড়ই অভাব৷ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই শাসকগণ সংকীর্ণ দলীয় স্বার্থে ও নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে জাত-পাতের ভেদ-বিদ্ধেষের অঙ্ক কষে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন৷ বহুদলীয় গণতন্ত্রে দলীয় নেতারাই রাষ্ট্রের পরিচালক হন৷ কিন্তু নেতা থেকে রাষ্ট্রের পরিচালক হলে  যে দলমতের উর্দ্ধে উঠতে হয়, ভারতীয় রাজনীতিতে সেটা খুব কম ক্ষেত্রেই দেখা যায়৷ ফলে অধিকাংশ রাজনৈতিক নেতাদের চরিত্র দ্বিচারিতা ও ভণ্ডামীতে ভরা৷

আজ পৃথিবী অনেক এগিয়ে গেছে কারণ বাস্তবে শিক্ষা বিস্তারের ফলে মধ্যযুগের ধর্মমতের সংকীর্ণ মানসিকতাকে ত্যাগ করেছে৷ শাসকদের স্মরণে রাখতে হবে যে মানুষের  সমাজে আজ মানবিকমূল্যবোধটাই হলো শাসনের মাপকাঠি৷  ব্যষ্টি জীবনে হয়তো ধর্মমতের কিছুটা গুরুত্ব আছে, কিন্তু বিভিন্ন ভাষাভাষী ও ধর্মমতের মানুষ যেখানে মিলেমিশে বাস করেন সে দেশে ধর্মমত নিরপেক্ষতাকে বজায় রেখে জাতপাতের ভেদ-বিদ্বেষকে দূরে সরিয়ে অবশ্যই শাসকদের মানবিক মূল্যবোধকে সর্বাগ্রে স্থান দিতে হবে৷ মহামান্য সুপ্রিম কোর্ট কিন্তু এ ব্যাপারে সচেতন সেটা দলীয় সরকার এর শাসকগণ যেন মানতে চান না৷ তাই গণতন্ত্রের সার্থকতাটা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েই চলেছে এ দেশে৷

জনগণ সরকারকে বোটদানে জয়ী করেন যাঁদের তাঁদের কি কর্ত্তব্য নয় দেশের শাসনভার হাতে নিয়ে বেশী করে আর্থিক উন্নয়নে ও বেকার সমস্যা দুরীকরণে, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে সচেষ্ট হওয়া!

দেখা যাচ্ছে কেন্দ্রের প্রধানমন্ত্রী ইউপি ও উত্তরাখণ্ডের নির্বাচনের প্রাককালে এ সব কথা না বলে মন্দির উন্নয়নের দিকে বেশী জোর দিচ্ছেন৷ এটাতো জোর দেবেন সেই পুরোহিত ও ভক্তগণ৷ সরকার এ ব্যাপারে সেইটুকু করবেন স্থান সংক্রান্ত ও অন্যান্য ব্যাপারে যদি জটিলতা থাকে তার সুষ্ঠু সমাধান করবেন৷

মন্দির বা মসজিদের সঙ্গে সবকা সাথ সবকা বিকাশের  কোন সম্পর্ক থাকে না৷ তাই মুখে ‘সবকা সাথ-সবকা বিকাশ’ আর কর্মে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের প্রতি পক্ষপাতিত্ব---দ্বিচারিতা ভণ্ডামীর সমার্থক৷ রাষ্ট্র নেতাদের এই দ্বিচারিতা ও ভণ্ডামীই দেশকে ধবংসের পথে নিয়ে যাচ্ছে৷

কিন্তু দুঃখের বিষয় স্বাধীনতার চুয়াত্তর বছর পরেও জনগণের এবিষয়ে কোন সচেতনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না৷ এটা হয়তো শিক্ষার অভাব নয়তো অশিক্ষার প্রভাব৷ এর পিছনেও আছে রাজনৈতিক নেতাদের ও ধনকুবেরদের কূটকৌশল৷ কারণ জনগণ সচেতন হলে ধনকুবেরদের শোষণ ও নেতাদের শাসন সঙ্কটে পড়বে৷ আজ জনগণের স্বার্থে এই সঙ্কটের সমাধান আশু প্রয়োজন৷ রাষ্ট্র পরিচালকদের দ্বিচারিতা ও ধনকুবেরদের শোষণের কলাকৌশল সম্পর্কে জনগণ সচেতন হলেই রাষ্ট্র নেতাদের দ্বিচারিতা ও ভণ্ডামী বন্ধ হবে৷