Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

রাজ্যপাল ও রাজনীতি

মনোজ দেব 

রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপাল৷ রাষ্ট্রপতি রাজ্যপালকে নিয়োগ করে থাকেন৷ যদিও কেন্দ্রের শাসক দলের মর্জি মতই রাজ্যপাল বাছাই করা হয়৷ তাই রাজনীতির রং থেকে রাজ্যপাল সম্পূর্ণ মুক্ত নন৷ তবু এই সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা রক্ষা করতে রাজ্যপালের নিরপেক্ষ ভূমিকা অবলম্বন করাই শ্রেয়৷ কিন্তু সংসদীয় রাজনীতির পাঁকে পড়ে এই অরাজনৈতিক পদটি অনেক সময়ই রাজনীতির স্বার্থেই ব্যবহার করা হয়৷ বিশেষ করে রাজ্যের ও কেন্দ্রের শাসক দল যদি ভিন্ন মতাবলম্বী হয়৷ রাজ্যপাল নিয়োগ যেহেতু কেন্দ্রীয় শাসকদলের মর্জিমত হয়ে থাকে তাই রাজ্যপালের দলীয় আনুগত্য কেন্দ্রীয় শাসকদলের দিকেই থাকে৷ কেন্দ্রের শাসক দলও দলীয় আনুগত্য দেখেই রাজ্যপালকে চয়ন করেন৷ বিশেষ করে যে সব রাজ্যে বিরুদ্ধ দল শাসন ক্ষমতায় থাকে৷ তাই কেন্দ্রে শাসক দল পরিবর্তন হলেই রাজ্যে রাজ্যে রাজ্যপালদেরও সরে যেতে হয় মেয়াদ ফুরোবার আগেই৷ 

সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সিভিআনন্দ বোস কে সরে যেতে হয়েছে কেন্দ্রীয় শাসকদলের মর্জিমত না চলার জন্যে৷ তবে তিনিও যে খুব একটা নিরপেক্ষ ভাবমূর্ত্তি নিয়ে চলেছেন তা নয়৷ এক সময় রাজ্য সরকারের সঙ্গে আনন্দবোসের সংঘর্ষ চরমে পৌঁছে ছিল৷

ঠিকনির্বাচনের পূর্বে রাজ্যপাল পরিবর্তন বাঙলার মানুষ ভালো চোখে দেখছে না৷ বিশেষ করে এর আগে তিনি তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল হিসেবে কেন্দ্রীয় শাসকদলের দাসত্ব করতে গিয়ে রাজ্যসরকারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন৷ যার শীর্ষ আদালত পর্যন্ত গড়ায়৷ শীর্ষ আদালত রাজ্যপালের সমালোচনাও করে৷ সেই আর.এন.রবিই এবার রাজ্যে নির্বাচনের মুখে রাজ্যপাল হয়ে এলেন৷ এই পরিবর্তনকে প্রধানমন্ত্রীর স্বৈরাচারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে রাজ্যবাসী৷ 

সংসদীয় রাজনীতিতে দলীয় সংঘাত বিতর্ক রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত৷ রাজ্যপালদের এই বিতর্কে না জড়ানোই সমিচীন৷ কিন্তু সম্প্রতি কোন কোন রাজ্যপাল সৌজন্য হারিয়ে এই বিতর্কের মধ্যে প্রবেশ করে রাজ্যপাল পদের মর্যাদা হানি করছেন৷ জম্মু-কশ্মীরের বর্তমান রাজ্যপাল তার ব্যতিক্রম নন৷ কেন্দ্রের সব শাসক দলই দলীয় স্বার্থে রাজ্যপালদের ব্যবহার করে থাকে৷ এই নিয়ে রাজ্যপাল ও রাজ্যের শাসক দলের মধ্যে বিরোধও বাধে৷ তবে রাজ্যপালরা কখনোই কোনও প্রকার রাজনৈতিক বক্তব্য রাখতেন না৷ যদিও অনেক সময়ই সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বা করতে বাধ্য হয়েছেন৷ 

কিন্তু সম্প্রতি দেখা যাচ্ছে কোন কোন রাজ্যপাল প্রকাশ্যে এমন কিছু মন্তব্য করছেন রীতিনীতির বাইরে গিয়ে যা দল বা সংঘ পরিবারের নেতাদের কণ্ঠেই শোনা যায়৷ রাজ্যপালরাও রাজনীতির জগৎ থেকেই আসেন৷ কিন্তু রাজ্যপালের ভূমিকা রাজনীতির ঊধের্ব উঠে সাংবিধানিক দায়-দায়িত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত৷ দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেও সেই দায় দায়িত্ব পালন করা যায়৷ রাজ্যপালকে দিয়ে কেন্দ্রীয় শাসক দল এমন অনেক কাজ করিয়ে নিতে পারে যা অনৈতিক হলেও অসাংবিধানিক নয়৷ এই কাজে দিল্লীর সব শাসকদলই সিদ্ধহস্ত৷ তাই রাজ্যপাল বাছাইয়ের সময় থেকেই রাজনীতির শুরু হয়৷ যেখানে প্রশাসনিক দক্ষতা ও নৈতিক আচার-আচরণ অপেক্ষা দলীয় আনুগত্যই প্রধান মাপকাঠি হয়৷ অবশ্য দল ও রাজনীতির ঊধের্ব উঠে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের নিদর্শনও কোন কোন রাজ্যপাল রেখে গেছেন৷ কিন্তু তাঁরা সংখ্যায় খুবই কম৷ 

সম্প্রতি কিছু রাজ্যপাল দলের মুখপত্রের মতই খোলাখুলি রাজনৈতিক বক্তব্য রাখছেন৷ পশ্চিমবঙ্গের সদ্য প্রাক্তন হওয়া এক রাজ্যপাল উত্তর পূর্বাঞ্চলের এক রাজ্যপাল ও জম্মু-কশ্মীরের বর্তমান রাজ্যপাল শাসক দলের প্রতি আনুগত্য দেখাতে এমন ধরণের মন্তব্য করে বসছেন যাতে তারাও রাজনীতির বিতর্কে জড়িয়ে পড়ছেন৷ যে ধরণের মন্তব্য রাজনীতির নেতাদের মুখে শোভা পায় রাজ্যপালের মুখে তেমন কথা মানায় না৷ এতে তিনি দলের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখলেও ও দলীয় নেতাদের মনোতুষ্টি করলেও রাজ্যপাল পদের মর্যাদা হানি করেন৷ এইভাবে সাংবিধানিক দায়দায়িত্বের বাইরে গিয়ে রাজ্যপাল ও রাজনীতি যদি এক হয়ে যায় তবে রাজ্যে রাজ্যে রাজ্যপালের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ণ উঠবে৷

 

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved