Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

রবীন্দ্রনাথের রসিকতা

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

প্রখ্যাত নট শিশির ভাদুড়ি এসেছেন শান্তিনিকেতনে৷ উদ্দেশ্য রবীন্দ্রনাথের গোড়ায় গলদ উপন্যাসটির নাট্যরূপ নিয়ে যাওয়া৷ ‘গোড়ায় গলদের নাট্যরূপ লেখাই ছিল৷ রবীন্দ্রনাথ সেটা পড়ে শোণালেন৷ কিন্তু পছন্দ হলো না শিশির ভাদুড়ির৷

রবীন্দ্রনাথ তখন নাটকটির পাণ্ডুলিপি টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেললেন৷ অবাক হলেন শিশির কুমার৷ যে রবীন্দ্রনাথের নিজের লেখার প্রতি এত মায়া তিনি কি না নিজের হাতে ছিঁড়ে ফেললেন!

সেদিনই রবীন্দ্রনাথ সারা রাত ধরে নাটকটি ফের নতুন করে পুরোটা লিখলেন৷ পড়ে শোণালেন শিশির ভাদুড়িকে৷ শিশির ভাদুড়ি নাটক শুণে খুশী হলেন৷

রবীন্দ্রনাথ তখন বললেন গোড়ায় গলদ ছিল, শেষ রক্ষা হলো৷ এর নাম হোক ‘শেষরক্ষা’৷

১৯৩৭ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারী৷ বিংশ বঙ্গীয় সাহিত্য সম্মেলন৷ স্থান চন্দননগর৷ প্রথম দিনের উদ্বোধনী ভাষণ ছিল রবীন্দ্রনাথের৷ বেলা বারোটায় অভিভাষণ শেষ করে রবীন্দ্রনাথ হুগলী নদীর ঘাটে তাঁর হাউস বোটে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন৷ কিছুক্ষণবাদে অমল হোম এসে বললেন, এরা যা খাইয়েছে তুলনা হয়না৷

বোটে অনিলচন্দ উপস্থিত ছিলেন৷ কবি বললেন, অনিল, তুমি তো ওখানে বলে এসেছ আমি খাব না৷ এখন শুণছো তো?

সাহিত্যিক বনফুল এলেন রবীন্দ্রনাথের কাছে৷ প্রণাম সেরে তার বৈতরনীর তীরে ‘উপন্যাস খানা’ রবীন্দ্রনাথের হাতে দিলেন৷ হাসতে হাসতে কবি বললেন, ‘বৈতরনীর তীরে’---আমাকে?

শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারও কম রসিক ছিলেন না৷ তাই অন্যের রসিকতাও তিনি খুব উপভোগ করতেন৷ তেমনি একটি ঘটনা তাঁর নিজের ভাষাতেই বলি---ঘটনাটা ঘটেছিল শান্তি নিকেতনে---‘সেদিন শিক্ষকেরা পাঠ বিরতিতে তাঁদের কমনরুমে বসে নানা বিষয়ে আলোচনা করছিলেন৷ হঠাৎ স্বশরীরে রবীন্দ্রনাথের শুভাগমন হল৷ তাঁর আলখাল্লা পরা ছবিতে দেখছ তিনি হাত দুটো পেছন দিকে রেখে যে ধরণের দাঁড়িয়ে থাকতেন ঠিক তেমনিভাবে এসে দাঁড়ালেন৷ সবাই চিন্তিত হলেন৷ কেউ আনন্দিত হলেন, কেউ বা সুসংবাদের জন্যে উদগ্রীব হলেন, কেউ কেউ দুঃসংবাদের জন্য মনকে তৈরী করতে লাগলেন৷

‘রবীন্দ্রনাথ জলদগম্ভীর স্বরে বিধুশেখর শাস্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, শাস্ত্রীমশায়. আপনার বয়স হয়েছে আপনার আজকাল কাজে বড্ড বেশী ভুল হচ্ছে৷ এ অবস্থা আদোই বাঞ্ছনীয় নয়৷ এর জন্য আপনাকে দণ্ড পেতে হবে৷’’

‘‘হ্যাঁ, কমনরূপে শিক্ষকদের সামনে রবীন্দ্রনাথের এক কঠোরতার ছবি ভেসে উঠল৷ তাঁরা বুঝলেন শাস্ত্রী মশায়ের শাস্তি সমাসন্ন৷’’

‘রবীন্দ্রনাথ বললেন, শাস্ত্রী মশায়, আপনাকে দণ্ড পেতেই হবে৷ আর কোন বিকল্প নেই’৷ শাস্ত্রী মশাই কম্পবক্ষে রবীন্দ্রনাথের সামনে দাঁড়ালেন৷ রবীন্দ্রনাথ তাঁর হাতে ছড়িটি দিয়ে বললেন--- এই নিন আপনার দণ্ডটি৷ কাল সন্ধ্যার সময় ওখানে ফেলে এসেছিলেন৷’’ (বাংলা ও বাঙালী)

 

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved