ন্যায় ও সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত হয়ে শাসক ও শাসিত রাষ্ট্রের কল্যাণ না করে শাসক যদি দুর্নীতি পরান হয়, শাসিত যদি সেই অন্যায় সহ্য করে চলে, তাতে রাষ্ট্রের যেমন অকল্যাণ হয় শাসক ও শাসিত উভয়েরই প্রতি ঈশ্বর বিরূপ হয়৷
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের শাসক নির্বাচন করে জনগণ৷ ভারতবর্ষে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর এই নির্বাচন হয়৷ সার্থক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় অন্যতম শর্ত হচ্ছে সততা নৈতিকতা ও সামাজিক অর্থনৈতিক রাজনৈতিক বিষয়ে সচেতনতা৷ কিন্তু ভারতবর্ষের দুর্ভাগ্য এই যে রাজনৈতিক নেতা থেকে সাধারণ নাগরিক অধিকাংশের এই তিনেরই বড় অভাব৷ তাই নির্বাচনের ফলাফলে জনমতের সঠিক মূল্যায়ন হয় না৷ এ বিষয়ে শাসক ও আমলাতন্ত্র উভয়ের ভূমিকা সন্দেহের ঊর্ধে নয়৷
সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় কারচুপি নিয়ে দেশ ও দেশের বাইরে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে৷ নয় কোটির বেশি ভোটারের নিবিড় সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনার সময় নিয়েছিলেন মাত্র তিন মাস৷ কমপক্ষে দু’বছর সময় লাগার কথা বা তারও আগে কমিশনার নিয়োগের আইন পরিবর্তনের মধ্যেই বড় গোলযোগ বাধিয়ে প্রধানমন্ত্রী নিজের পছন্দের লোককে কমিশনার বানিয়েছেন, যার মামলা শীর্ষ আদালতে বিচারাধীন৷ সেই বিতর্কিত কমিশনার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এমন সময় ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ শুরু করেন যে ভোটদানের দিন সকালেও অনেক ভোটার জানতে পারছেন না তার ভোট দেবার অধিকার আছে কি নেই৷
এখন প্রশ্ণ হচ্ছে এই যে নিবিড় সংশোধনের নামে প্রায় ৮০ লক্ষ ভোটারকে ভোটদানের বাইরে রেখে নির্বাচন সম্পন্ন হল এটা কি আইনসম্মত হলো৷ এর উত্তর কে দেবে? নির্বাচন কমিশনার, জনগণের সরকার, আদালত কারো কাছে এর উত্তর নেই৷ আইনসম্মত নাগরিককে কেউ ভোটদান থেকে বঞ্চিত করতে পারেনা৷ কিন্তু বাস্তবে সেটাই হয়েছে৷ বঞ্চিত নাগরিকরা ভোট দিলে ফলাফল অন্যরকম হতে পারত এই নির্বাচনে শাসক আমলা যেমন ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন আদালত থেকেও নিরপেক্ষ ন্যায়বিচার পাওয়া যায়নি৷
শাসক জানে সংখ্যাধিক্য জনগণের আস্থা ও সমর্থন এই সরকারের নেই৷ তাই ভোটে জিতেই সর্বপ্রথম বিরোধীদল ভাঙার খেলায় মেতেছে নির্বাচন পূর্ববর্তী সব প্রতিশ্রুতি ভুলে স্বৈরাচারী রূপ ধারণ করেছে৷ কিন্তু বিরোধী দল কেমন যেন হতবাক হয়ে গেছে৷ নারী নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি যে কত আষাঢ় মাত্র দু মাসেই তা প্রমাণ মিলেছে৷ কিন্তু বিরোধী পক্ষের কোন জোরালো প্রতিবাদ নেই৷ তবে নিয়তি কেন বাধ্যতে৷ পৃথিবীর কোথাও কোনো স্বৈরাচারী শাসক চিরস্থায়ী হয়নি৷ কিন্তু সেই আশায় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের বিরোধী দল যদি চুপ করে থাকে তবে নেতাদের দেশের নাগরিকদের কাছে কৈফিয়ত দিতে হবে---বিশ্বকবির কথায় বলি---
অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে
তব ঘৃণা তারে যেন তৃণ সমদহে৷
শাসকের স্বৈরাচারী দেখে বিরোধী পক্ষ যদি নীরব থাকে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা তখন বিপন্ন হয়ে পড়ে তবে সম্প্রতি ককরোজ জনতা পার্টির শিক্ষায় প্রশ্ণ ফাঁস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের কাছে মাথা নত করতে হয়েছে শাসককে৷ তাদের দাবি মেনে শিক্ষামন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে৷ মনে রাখতে হবে---একের স্পর্ধারে কভু নাই দেয় স্থান দীর্ঘকাল নিখিলের বিরাট বিধান৷
- Log in to post comments