ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (এইচ১এন১), সার্স-কোভ-২, নিউমোনিয়া ভাইরাসকে গবেষণাগারে শব্দের আঘাতে চূর্ণবিচূর্ণ করার দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা৷ জানিয়েছেন, শব্দতরঙ্গই এ বার হয়ে উঠতে পারে মারণ ভাইরাসের যম৷ উচ্চ কম্পাঙ্কের তরঙ্গ দিয়ে ভাইরাসের বাইরের আবরণী ভেঙে ফেলা সম্ভব৷ গবেষকেরা দেখেছেন, শব্দের জোর যত বেশি হবে, তার অভিঘাতে ভাইরাসের ভিতরে দ্রুত বদল ঘটতে থাকবে৷ ওলটপালট হবে জিনের বিন্যাস৷ ধীরে ধীরে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে৷
শব্দের ধাক্কায় ভাইরাস ধবংস করার এই প্রচেষ্টা বহু দিন থেকেই চলছে৷ ঠিক যে ভাবে চিকিৎসার কাজে আলট্রাসাউন্ডকে কাজে লাগানো হয়, সে ভাবেই শব্দতরঙ্গ পাঠানো হবে শরীরের ভিতরে৷ এতে শুধু ভাইরাসগুলিই নষ্ট হবে, আশপাশের সুস্থ কোষের কোনও ক্ষতি হবে না৷
শব্দ ছুড়ে ভাইরাসকে কী ভাবে জব্দ করা যাবে, তার একটি উপায় পেয়েছেন গবেষকেরা৷ সেটিকে বলা হয় অ্যাকুস্টিক রেজোন্যান্স৷ প্রতিটি জীব বা জড়বস্তুর নিজস্ব স্বাভাবিক কম্পাঙ্ক থাকে৷ যদি সেই কম্পাঙ্কের সমান কম্পাঙ্ক বিশিষ্ট শব্দতরঙ্গ দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়, তা হলে সেই জীব বা জড়ের মধ্যে কম্পন তৈরি হবে৷ ধীরে ধীরে সে কম্পন বাড়তে থাকবে৷ একেই বলে অ্যাকুস্টিক রেজোন্যান্স৷
ভাইরাসের ক্ষেত্রে যেমন করোনা বা ইনফ্লুয়েঞ্জার যে কোনও উপরূপ, তাদের একটি আবরণী থাকে, যা সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে৷ বিজ্ঞানীরা আলট্রাসাউন্ড ব্যবহার করে এমন একটি কম্পাঙ্ক তৈরি করেন, যা ঠিক ওই ভাইরাসের আবরণের স্বাভাবিক কম্পাঙ্কের সঙ্গে মিলে যায়৷ ফলে ভাইরাসের আবরণটি তীব্র ভাবে কাঁপতে শুরু করে এবং এক সময় সহ্যক্ষমতার বাইরে গিয়ে ফেটে যায়৷
গবেষকেরা জানাচ্ছেন, ভাইরাসে যদি মিউটেশন বা রাসায়নিক বদল ঘটে, তা হলে শব্দতরঙ্গ দিয়ে তাকে ধবংস করা সম্ভব৷ কারণ সে ক্ষেত্রে ভাইরাসের জিনের বিন্যাস বদলে গেলেও তাদের আকারে বদল হয় না৷ ফলে সহজেই তাদের শব্দের আঘাতে কাবু করা সম্ভব৷