দেশে ধনবৈষম্য ক্রমেই বেড়ে চলেছে৷ দেশের অর্দ্ধেকের বেশী সম্পদ মুষ্টিমেয় কয়েকজন ধনীর কুক্ষিগত৷ শাসকের সহায়তায় দেশীয় পুঁজিপতিরা বিশ্ববাজারে পুঁজিপতিদের সঙ্গে আর্থিক ক্ষমতার প্রতিযোগিতায় নেমেছে৷ সেই ক্ষমতার বহর দেখাতে রাষ্ট্রীয় সম্পদ কুক্ষিগত করে নিচ্ছে হাতে গোনা মুষ্টিমেয় কয়েকজন ধনি, অপরদিকে দেশের বিশাল সংখ্যক মানুষ আয় বৈষম্যের শিকার হয়ে দারিদ্র্যের জ্বালায় জ্বলছে৷ গোদের ওপর বিষফোঁড়ার মতো রয়েছে সামাজিক বৈষম্য ---জাত-পাত-সম্প্রদায় ইত্যাদি৷
এক সমীক্ষায় প্রকাশ দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ সম্পদ আছে দশ শতাংশ মানুষের হাতে৷ এর মধ্যে আবার ১ শতাংশ মানুষের হাতে আছে মোট সম্পদের ৫২ শতাংশ৷ অপরদিকে দেশের ৬০ শতাংশ মানুষের হাতে আছে মাত্র ৫ শতাংশ সম্পদ৷ অর্থনীতিবিদদের ধারণা দেশের এই ধনবৈষম্যের কারণ বেকারত্ব বৃদ্ধি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি প্রভৃতি কারণ তো আছেই এর সঙ্গে আছে এক শ্রেণীর ধনী ও বিভিন্ন সংস্থার কর ফাঁকি দেওয়ার প্রবণতা৷
প্রবীন প্রাউটিষ্ট নেতা শ্রী প্রভাত খাঁ বলেন---এই ধনবৈষম্য ধনতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি৷ এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই৷ ভারতবর্ষের অর্থনীতি, রাজনীতি এমন কি রাজনৈতিক দলগুলোও পুঁজিপতিদের অঙ্গুলী হেলনে চলে৷ শ্রী খাঁ বলেন এই দুঃসহ অবস্থা থেকে সাধারণ মানুষের মুক্তির একমাত্র পথ প্রাউটের বিকেন্দ্রিত আর্থিক পরিকল্পনার বাস্তবায়ন৷ ভৌগোলিক অবস্থান, জলহাওয়া, জাতিগত বৈশিষ্ট্য ও আর্থিক সমস্যা ও সম্ভাবনা বিচার করে সামাজিক অর্থনৈতিক অঞ্চল ঘটন করে স্থানীয় মানুষের হাতে আর্থিক বিকাশের দায়ীত্ব তুলে দিতে হবে৷ তবেই স্ব-নির্ভর ভারত গড়ে ওঠা সম্ভব হবে৷ নতুবা আত্মনির্ভর ভারত প্রধানমন্ত্রীর আর পাঁচটা বুলির মতই অসার থেকে যাবে৷
প্রাউটিষ্ট ইয়ূনিবার্সালের গ্লোবাল সংঘটন সচিব আচার্য সুপ্রভানন্দ অবধূত জানান ২০২৬ সালে প্রাউটের ব্যাপক প্রচারের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে যাতে প্রতিটি মানুষের কাছে প্রাউটের আদর্শ পৌঁছে যায়৷ প্রাউট পরিক্রমা, প্রাউট প্রশিক্ষণ শিবির প্রভৃতি কর্মসূচীর মাধ্যমে প্রতিটি মানুষকে জানিয়ে দিতে হবে দুঃসহ ধনবৈষম্য বেকারত্ব ও দারিদ্রের জ্বালা থেকে মানবতার আর্থিক মুক্তির একমাত্র পথ প্রাউট৷