Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

শুধু শাসক পরিবর্তন নয়, শাসকের মানসিকতার পরিবর্তন চাই

প্রভাত খাঁ

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬ সমাপ্ত হল, ১৫ বছর পর আর একটা পরিবর্তন এলো৷ যার ফলে এই ভরা বৈশাখে পশ্চিমবঙ্গের বুকে গেরুয়া কালবৈশাখীর তাণ্ডব পরিলক্ষিত হলো৷ এই গেরুয়া ঝড়ের প্রধান কান্ডারী ছিলেন ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী৷ পশ্চিমবঙ্গের এই নির্বাচনকে মোটামুটিভাবে সাম্প্রদায়িক বিভাজনের নির্বাচনও বলা যেতে পারে৷ প্রথমত ভারতীয় নির্বাচন কমিশনের পরিচালনায় এস.আই.আরের মাধ্যমে প্রায় ৯০ লক্ষ ভোটারের নাম বাতিলের খাতায় রাখা হল যার মধ্যে বেশির ভাগই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৷ এছাড়াও প্রায় ২৭লক্ষ বোটারের নাম বিচারাধীন অবস্থায় রেখে অসম্পূর্ণ একটি ভোটার তালিকার মাধ্যমে এই নির্বাচন সংঘটিত হলো৷ এটা এক ধরণের বোটার নির্বাসন প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসেবেই পরিগণিত ও ভারতীয় সংবিধানের মূল নীতি ও আদর্শের পরিপন্থী৷ নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব হলো অধিকাংশ অধিবাসীকে বোটাধিকার প্রদান করে স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রতিটি নির্বাচন সম্পন্ন করা৷ কিন্তু এস.আইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই বোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার একটা প্রবণতা দেখা গিয়েছে৷ প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়ার পরেও বিভিন্ন ধরণের অসঙ্গতির অছিলায় তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে৷ যার পোশাকি নাম দেওয়া হয়েছিল ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’৷ মহামান্য সুপ্রীমকোর্টের নির্দেশে এই বিচারাধীন তালিকা থেকে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকগণ প্রকৃত বোটারদের চিহ্ণিত করার প্রয়াস জারি রেখেছেন ও ট্রাইবুনাল ঘটনের নির্দেশ দিয়েছেন৷ এই প্রচেষ্টার ফলে বহু নাম তালিকায় সংযোজিত হয়েছে৷ পরবর্ত্তীতে আরও নাম সংযোজিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে৷ কিন্তু এই তাড়াহুড়ো করে এস.আই.আর প্রক্রিয়া ও নির্বাচন সংঘটিত হওয়া এই দুইয়ের চাপে বহু মানুষ বোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি ও বহু মানুষ প্রাণহানি তথা মানসিক বিকারের শিকার হয়েছেন৷ এই ঘটনাক্রমও ভারতীয় সংবিধানের মূলনীতির অনুসারী নয়৷

অবশ্য ভারতবর্ষের দলীয় শাসকগণ সংবিধানকে সর্বদাই নিজেদের দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছেন, প্রয়োজনে সংবিধানের সংশোধন করেছেন৷ বর্তমানে ভারতের নির্বাচন কমিশন নিজেদেরকে সমস্ত আইনের উর্দ্ধে মনে করেন৷ এমনকি মহামান্য সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশকেও বিভিন্নভাবে পাশ কাটিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন৷ এস.আই.আর প্রক্রিয়া প্রয়োগের সময়ও নির্বাচন কমিশন যেন তেন প্রকারেণ নিজেদের মতামতকেই গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা করে এসেছেন৷ সুপ্রীম কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও যাদের নাম বোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে, তার প্রকৃত কারণ জানানো হয়নি৷ ফলে বহু মানুষের প্রাণ হানি ঘটেছে, বিভিন্নভাবে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ও মানসিক রোগে আক্রান্তও হয়েছে৷ এটা কোন সুস্থ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অঙ্গ হতে পারে না৷ 

শুধু তাই নয়, এবারের বিধানসভা নির্বাচন সংঘটিত করতে গিয়ে সাধারণ মানুষের সামনে একটা আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে৷ একদিকে এস.আই.আরের অনিশ্চয়তা অন্যদিকে রাস্তাঘাটে সৈন্য সামন্তের অস্ত্র হাতে টহল, প্রতিদিন এক এক ধরণের এক একটা প্রশাসনিক বার্র্ত, তার সঙ্গে বিভিন্ন স্তরের দলীয় নেতৃত্বের কুকথা ও কুবাক্য প্রয়োগ৷ শান্তিকামী মানুষকে বিভিন্নভাবে আতঙ্কিত করেছে৷ 

পশ্চিমবঙ্গের মানুষ শান্তিপ্রিয় ও সংস্কৃতি মনোস্ক৷ কিন্তু নির্বাচনী প্রচারে আগত বিভিন্ন প্রদেশের নেতা নেত্রীগণ বঙ্গ সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক অবহিত না হবার কারণে এমন অসংস্কৃতিমূলক আচরণ ও ভাষা প্রয়োগ করেছেন যা বাংলার মানুষকে সন্ত্রস্ত ও ব্যথিত করেছে৷ পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি ক্রমশ ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে৷ ইতোমধ্যেই হিংসার বলি হয়েছেন বেশ কয়েকজন, বিরোধী দলের কার্যালয়ে অগ্ণিসংযোগ ভাঙচুর দখলদারির ঘটনা ক্রমবর্ধমান৷ এই পরিস্থিতিকে কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করা বর্তমান সরকারের আশু কর্তব্য৷ নির্বাচনের মাধ্যমে শুধুমাত্র শাসক পরিবর্তন হলেই হবে না---সুন্দর নাগরিক পরিবেশ জনগণের সামনে উপস্থাপিত করতে হবে ও প্রত্যেক নাগরিককে সুরক্ষা তথা সহাবস্থানের নিশ্চিততাও প্রদান করতে হবে৷ নতুবা শাসকের রঙ পরিবর্তন হবে৷

 

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved