আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের দিল্লি সেক্টরে প্রথম ডায়োসিস স্তরের সেমিনার আরম্ভ হচ্ছে ২৬শে জুন থেকে৷ কলিকাতা রিজিয়নে শিলং সার্কেলে গুয়াহাটিতে ও কলিকাতা সার্কেলে উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুরে সেমিনার শুরু হচ্ছে৷ তিনদিনের এই সেমিনারে আনন্দমার্গ দর্শনের আধ্যাত্মিক সামাজিক ও অর্থনীতি বিষয়ে আলোচনা হবে৷ এবারের আলোচনার মূল বিষয় সাধনার রূপ ও জনসেবাই উৎকৃষ্ট জীবনাদর্শ৷ মানব জীবনের পরমলক্ষ্য পরমার্থ লাভ তা একমাত্র সাধনা ও সেবার দ্বারাই অর্জন করা সম্ভব৷ মানুষকে সাধনাও করতে হবে আবার সমাজের সেবাও করতে হবে৷ সমস্ত প্রকার ভেদ-ভাবনা থেকে মনকে মুক্ত রাখতে হবে৷ এছাড়াও আলোচ্য বিষয় আছে ‘সভ্যতারভবিষ্যৎ’ ও ‘আদর্শ সংবিধানের প্রয়োজনীয় উপকরণ৷ সভ্যতার ভবিষ্যৎ বিষয়ে আনন্দমার্গ দর্শনের প্রণেতা বলেছেন--- মানুষ এক অজ্ঞাত আশঙ্কায় ভুগছে৷ তারা ভাবছে মানুষ জাতিটাই একেবারে নিশ্চিহ্ণ হয়ে যাবে৷ শ্রীশ্রী আনন্দমূর্ত্তিজী আশ্বাস দিয়ে বলেছেন এমন কিছু ঘটবে না৷ পৃথিবী একদিন ধবংস হয়ে যাবে৷ কিন্তু মানব জাতির অবলুপ্তি ঘটবে না৷ মানুষ একদিন উন্নত বিজ্ঞানের সাহায্যে অন্যগ্রহে যেতে সক্ষম হবে৷ আজ মানুষের কাছে যা স্বপ্ণ---আগামী দিনে তা বাস্তবে পরিণত হবে৷ আগামী দিনে কোন রাজনীতিবিদ নয়, সদ্বিপ্ররাই পৃথিবীকে বাঁচাবে৷
আদর্শ সংবিধানের জন্যে প্রয়োজনীয় উপকরণ বিষয়ে আলোচনার মূল বক্তব্য হলো-রাষ্ট্র পরিচালনায় বিভিন্ন দেশের সংবিধান বিভিন্ন বিধি-ব্যবস্থার কথা বললেও তা সম্পূর্ণ ত্রুটিমুক্ত নয়৷ সব দেশের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিককে চারটি মৌলিক অধিকারের নিশ্চিততা দিতে হবে---ধর্মানুশীলনের অধিকার, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় অধিকার, শিক্ষা ও মাতৃভাষায় ব্যক্তিকরণের অধিকার ---এই তিনটি অধিকারের কোন একটির সঙ্গে মৌল মানবীয় নীতির বিরোধ দেখা দিলে ওই অধিকারটি সংকুচিত করতে হবে৷ অর্থাৎ সংবিধানে মৌল মানবিক নীতিকে সর্বাগ্রে স্থান দিতে হবে৷
তিনদিনের আলোচনা সভায় আনন্দমার্গ দর্শনের তাত্ত্বিক আলোচনা ছাড়াও সাংঘটনিক বিষয়ে আলোচনা হবে ও মার্গের আদর্শ মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে নানা কর্মসূচী নেওয়া হবে৷