গত রবিবার দলগত রিকার্ভ ইভেন্টের ফাইনালে টানটান উত্তেজনার মধ্যে চীনকে হারিয়ে সোনার দখল নিলেন দীপিকা কুমারিরা৷ দলের বাকি দুই সদস্য হলেন অঙ্কিতা ভকত ও কুমকুম মোহোদ৷ সাংহাইতে বিশ্বকাপের স্টেজ টু-এর আসরে পেন্ডুলামের মতো দুলতে থাকা ফাইনালের ফয়সালা হল শ্যুট-অফে৷ চার সেটের নির্ধারিত রাউন্ড শেষ হয়েছিল ৪-৪ অবস্থায়৷ এরপর শ্যুট-অফে প্রবল স্নায়ুচাপ সামলে হোমটিমকে ২৮-২৬ পয়েন্টে হারায় টিম ইন্ডিয়া৷
এই আসরে ভারতের সংগ্রহ দু’টি পদক৷ এদিনের সোনার আগে শনিবার পুরুষদের ব্যক্তিগত কমপাউন্ড বিভাগে ব্রোঞ্জ পান সাহিল যাদব৷ এছাড়া অল্পের জন্য হাতছাড়া হয় আরও একটা ব্রোঞ্জের সুযোগ৷ সিমরনজিৎ কাউর সেমি-ফাইনালে স্ট্রেট সেটে হেরে যান বিশ্বের এক নম্বর কোরিয়ান তিরন্দাজ কাং চাইয়ংয়ের কাছে৷ এরপর ব্রোঞ্জের প্লে-অফে দুরন্ত লড়েও পরাস্ত হন তিনি৷ তবে তা ছাপিয়ে দীপিকাদের সোনা জয় নিয়েই উচ্ছ্বসিত ক্রীড়ামহল৷ নাটকীয়তায় ভরা ফাইনালে ভারতীয় দল মোটেই ধারাবাহিক ছিল না৷ চতুর্থ সেটের আগে ২-৪ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে কার্যত পরাজয়ের দরজায় পৌঁছে গিয়েছিলেন দীপিকারা৷ কিন্তু আচমকাই তাল হারিয়ে ভারতকে লড়াইয়ে ফেরার পথ করে দেয় চীনা দল৷ তার সদ্ব্যবহারে ভুল করেননি ১৭ বছর বয়সি কুমকুম, অঙ্কিতা ও দীপিকা৷ মাথা ঠান্ডা রেখে সেরাটা মেলে ধরেন তাঁরা৷ শ্যুট-অফেও নার্ভকে নিয়ন্ত্রণে রেখে বাজিমাত করেন দীপিকা, কুমকুমরা৷
এর আগে সেমি-ফাইনালে ১০ বারের ওলিম্পিকস চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ কোরিয়াকে হারিয়েছিল ভারতীয় দল৷ আর ফাইনালে জয় এল চীনের বিরুদ্ধে৷ পর পর দুই হেভিওয়েট প্রতিপক্ষকে হারানোর জন্যই এই সাফল্য এত মধুর৷ এর আগেও দু’বার বিশ্বকাপে সোনা জিতেছেন ভারতীয় মহিলারা৷ আর প্রতিবারই সাফল্যের শরিক হয়েছেন ৩১ বছরের দীপিকা৷ পূর্ণমেয়াদের কোনো জাতীয় কোচ না থাকায় কার্যত তিনিই গাইড করেন জুনিয়র সতীর্থদের৷