খবরে প্রকাশ ---প্রাক্তন সরকারের আমলের তোলাবাজি, সিণ্ডিকেটরাজ ,দাদাগিরি, দুর্নীতি ,কাটমানি, দালালি , দলীয় সন্ত্রাস বর্তমান সরকারের শাসনের মধ্যেও বহাল তবিয়তে জাঁকিয়ে বসছে৷ কেবল সরকার বদলেছে,নেতা - হাতা - লবি-দলদাসও বদলেছে, কিন্তু পুরানো রোগ সারেনি ৷ বিপদ এটাই--- শাসক দলই বদলেছে মাত্র, বদলায়নি রাজনীতির নষ্ট সংস্কৃতি৷ খবরটা দেখে একটা গল্প মনে পড়ল৷ তৃতীয় বর্ষের বি.এ.-এর এক জেনারাল ক্লাসে অধ্যাপক রোল-কল করছেন৷ হল ঘরে ক্লাস হচ্ছে৷ ছাত্র সংখ্যা দেড়শোর ওপরে৷ এর মধ্যে একটি ছাত্র প্রক্সি দিয়েছে৷ অধ্যাপক ছাত্রটিকে লক্ষ্য করেছেন, বললেন-দাঁড়াও৷ ছেলেটিকে কিছু না বলে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করলেন৷ বললেন--- ক্লাসে আমাদের তখন রোল-কল করছিলেন এক বিশ্ববিখ্যাত অধ্যাপক৷ দৃষ্টি রোল-কলের খাতার দিকে, ক্লাসে প্রায় দু’শো ছাত্র৷ ইতিমধ্যে একটি ছাত্র প্রক্সি দিয়েছে৷ ঘটনাচক্রে সহপাঠি ছাত্রটির নাম ছিল ‘মানব’৷ ঊনার এমন অসাধারণ স্মৃতিশক্তি যে উনি প্রতিটি ছাত্রকে চেহারায় ও কণ্ঠস্বরে চিনতেন৷ খাতা থেকে চোখ না তুলেই বললেন---মানব, ইহাই কি তোমার মানব ধর্ম ? আমরা তো চমকে ঊঠেছি৷ বললেন---তোমাকে কিছু বলে লাভ নেই, জানতো, একটা পুকুরের জল যখন পচে যায় তখনসেই পুকরের জল কিনার -কোনা- মাঝ যেখান থেকেই তোলা হোক না কেন ওই পচাজলই উঠবে ৷ তাই তোমাকে কিছু বলার নেই৷ তুমি একটা বস্তাপচা, ঘুণধরা সমাজেরই নির্যাস ৷ বক্তব্যটা এখানেই৷ যেখানে জাতীয় চরিত্র বলে কিছু নেই, ব্যষ্টি চরিত্রে নৈতিক মান তলানিতে,রাজনীতিসংস্কৃতিটা খাইবাদী - না - খাইবাদীদের করে-খাওয়ার দেনা-পাওনা /লেনদেন, সেখানে মসনদে তোলাবাজের চরিত্রের বদল ছাড়া তোলাবাজীর বদল হয় কী করে ! সেটারই তো কোনো খবর নেই৷
রাজনীতির ব্যুৎপত্তিজাত ও তত্ত্বগত শোহরত ও উপজীব্য বিষয় হচ্ছে জনসেবা ও যৌক্তিকতাপূর্ণ - বিচারশীল পরিষেবা৷ আক্ষরিক অর্থে মানুষের সার্বিক কল্যাণের ব্যবস্থাপক প্রতিষ্টান ৷ আবার ‘ রাজনীতি’--এই সমাসবদ্ধ পদটি ভাঙলে মানে দাঁড়ায় ---যা নীতির রাজা, অর্থাৎ সর্বশ্রেষ্ঠ নীতি, সর্বানুস্যূত ভাবাদর্শ ৷ আর রাজনীতির শব্দার্থবহ এর ব্যবস্থাপনার ব্যাবস্থাপকের হবেন কঠোরভাবে নীতিবাদে প্রতিষ্ঠিত যোগ্য ব্যষ্টিবর্গ৷ আবার নীতি কথাটির তাৎপর্য হচ্ছে যা সামনের দিকে নিয়ে ৷ মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও বিশ্বের ধারাবাহিক রাজনৈতিক-সংস্কৃতি অন্য কথা বলে৷ অর্থলোলুপ,ক্ষমতালোভী,স্বৈরাচারী, দুর্নীতিপরায়ণ রাজনীতিকদের হাতে পড়ে ভারতীয় রাজনীতি ভোল বদল করেছে৷ রাজনীতি মানে ‘ পাওয়ার-পলিটিক্স্’৷ যে কোনো ভাবে শাসন ক্ষমতা দখল করতে হবে, ক্ষমতায় টিকে ঠকাতে হবে ৷ ন্যায়-নীতি চক্ষু লজ্জা, বৃহত্তরস্বার্থ বা জনস্বার্থ বা জনসেবা চূলোয় যাক! যাই ঘটুক না কেন, নেতা থেকে হাতা চোরে চোরে মাসতুতো ভাই , কারো বিরুদ্ধে কেউ রা’টি কাড়েনা৷ সেবাব্রতী রাজনীতিকে নামিয়ে আনা হয়েছে আর পঁচটা ব্যবসার মতো করে খাওয়ার লেনদেনে, বিনিমিয় পরিষেবায়, ব্যবসাদারিত্বে৷ রাজনীতি করেন রাষ্ট্র নায়কেরা৷ রাষ্টীয় কাঠামো সমাজতন্ত্র -গণতন্ত্র -একনায়ক তন্ত্র বা যে কোনো তন্ত্রেরই হোক না কেন শাসকের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনের উদ্দেশ্যই থাকে নাগরিকদের মঙ্গল ও উন্নতি৷ সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা হচ্ছে -- জনকল্যাণ, উন্নয়ন তথা নাগরিক পরিষেবার কর্মসংস্কৃতিটা আসলে ক্ষমতায় টিকে থাকা ও গণবক্ষোভ তথা জনরোষ চাপা দেয়ার ও অক্ষমতা-অপদার্থতা ঢাকবার সেফ্টি ভাল্ভ্ ৷ ভোটের রাজনীতিতে জনগণকে মোহিত করে ক্ষমতা দখলের মূলধন বা দিব্যাস্ত্র ৷ এই রাজনৈতিক সস্কৃতিকে কী বলা যাবে ? সেবাতো আদৌ নয়, বরং বলা -- ব্যবসাদারী, দখলদারী রণকৌশল৷ প্রতিশ্রুতি দিলে তা পালন না করাই রেওয়াজ, তাছাড়া কাজকর্মের জন্যে কোথায় জবাবদিহি করতেও হয় না৷ একমাত্র পার্টি পাশে না দাঁড়ালে ভোটের বাজারে ধস নামে৷ এজন্যে বোধ হয় জনতার মখে মুখে ফেরা--- ‘যে যায় লঙ্কায়, সেই হয় রাবণ -- প্রবাদ বাক্যটি কতই না সময় উপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ ৷
রাজণীতির হালহকিকৎ দেখে-শুনে একটা প্রশ্ণ মাঝে মাঝেই মাথা চাঁড়া দেয় --- ভোটের টিকিট পাওয়া জন্যে এত দরবার -এত প্রতিযোগিতা -এত লালানি কেন ? উত্তরটা বোধ হয় এখানেই - এদের কাছে রাজনীতি একটা উৎকৃষ্ট জীবনাদর্শ বা সেবা নয়, নিছকই আর পাঁচটা পেশার মতো একটা পেশা মাত্র,রোজগারের, কামিয়েনেওয়ার খাত, জনকল্যাণ-জনসেবাটেবা কিছু নয় ---৷ কিন্তু সমস্যা একটাই, ক্ষমতা চলে গেলেই সব সব ফুরিয়ে যাবে৷ অতএব যত পারা লুটেপুটে যাও৷ পরের নির্বাচনে তো টিকিট বা মন্ত্রীত্ব কোনটাই নাও জুটতে পারে! তাই বোধ হয় কুমির তাড়িয়ে হাঙড়রা জায়গা দখল করে৷
- Log in to post comments