রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক শোষণ
রাজনৈতিক শোষণ
রোগ–লক্ষণ ঃ পেশী বা বিভিন্ন সন্ধিস্থলে স্ফীতি ও আড়ষ্টভাব, ওই সকল স্ফীতিতে তীব্র যন্ত্রণা অথবা স্ফীত স্থান বেঁকে যাওয়া প্রভৃতি এই রোগের লক্ষণ৷
কারণ ঃ রোগটির কারণ হুবহু অম্লরোগের মত অর্থাৎ দেহে অম্লবিষের আধিক্য হেতু বায়ু কূপিত হ’য়ে এই রোগ সৃষ্ট হয়৷
চিকিৎসা ঃ আসন ও মুদ্রা ঃ প্রাতে ঃ উৎক্ষেপ মুদ্রা, ময়ূরাসন, পদহস্তাসন, উড্ডয়ন, অগ্ণিসার, আগ্ণেয়ী মুদ্রা বা আগ্ণেয়ী প্রাণায়াম৷
সন্ধ্যায় ঃ অগ্ণিসার, পশ্চিমোত্তানাসন, সর্বাঙ্গাসন, আগ্ণেয়ী মুদ্রা বা আগ্ণেয়ী প্রাণায়াম৷
সম্প্রতি সিংভূম জেলার পটমদা থানার ভূলা–পাবনপুর গ্রামে ও তার পাশেই কমলপুর থানার বাঙ্গুরদা গ্রামে ও তার দক্ষিণ–পশ্চিম দিকে চাণ্ডিল থানার জায়দা গ্রামে জৈন যুগের বেশ কিছু নিদর্শন পাওয়া গেছে৷ তার সঙ্গে পাওয়া গেছে সেই যুগের বেশ কিছু ৰাংলা লিপি৷ এই লিপি অবশ্যই ১৭০০ বছর বা তার চেয়েও কিছু অধিক পুরোনো কারণ ওই সময়টাতেই রাঢ়ে শৈবাশ্রয়ী জৈনধর্মের স্বর্ণযুগ গেছে৷ ভগ্ণ মূর্তিগুলিও সমস্তই দিগম্বর জৈন দেবতাদের৷ যে লিপিমালা পাওয়া গেছে তা শুশুনিয়া লিপির চেয়ে পুরোনো তো বটেই, হর্ষবর্দ্ধনের শীলমোহরে প্রাপ্ত শ্রীহর্ষ লিপির চেয়েও পুরোনো হতে পারে৷ এই লিপি শ্রীহর্ষ লিপির স্বগোত্রীয় কিন্তু শ্রীহর্ষের চেয়েও বেশ পুরোনো৷
নম ঃ কোন শ্রেষ্ঠকে দেখে বা অনুভব করে শ্রেষ্ঠত্বের সামনে যে নতি স্বীকার করা হয় সেই নতি স্বীকারের রীতি-পদ্ধতিকে ৰলা হয় ‘নমঃমুদ্রা’৷ নমঃমুদ্রায় দুই হাত জোড় করা হয় অর্থাৎ দুই হাতের মধ্যমাঙ্গুলি ছুঁইয়ে দিতে হয় যাতে করে মনের একগ্রতা সূচ্যগ্র হয়ে লক্ষ্যের প্রতি যথাযথভাবে অভিব্যক্ত হতে পারে৷ এই নমঃ মুদ্রায় মানুষ শ্রেষ্ঠের সামনে নিজেকে অভিনিবিষ্ট করে নিজের ক্ষুদ্রতাকে সমর্পিত করে৷ এই বিনিময়ে শ্রেষ্ঠের শ্রেষ্ঠত্ব তার মানসিক জগৎকে পরামৃষ্ট করে৷ অর্থাৎ কাউকে নমঃমুদ্রার দ্বারা নতি বা প্রণতি জানালে যাঁকে প্রণতি জানানো হচ্ছে তার লাভ হয় না, লাভ হয় তার যে প্রণতি জানাচ্ছে৷ গুরুর নিকট নমো-মুদ্রা জানাবার বিধি
গ্রামে যাত্রাগান চলছে৷ গীতাভিনয়*(সেকালে ভাল ৰাঙলায় যাত্রাকে ‘গীতাভিনয়’ বলা হত৷) হচ্ছে জমিদার বাড়ীর সামনেকার প্রকাণ্ড মাঠে৷ যার যা পার্ট সে পার্ট তো সে করছেই উপরন্তু সবাইকার চেষ্টা কোনোক্রমে জমিদারৰাৰুকে কিছুটা সন্তুষ্ট করে দিয়ে কিছু বখ্শিস আদায় করা৷ এই ধরনের ব্যাপার সেকালকার ৰাঙলায় খুব চলত৷ যার এলেম*(*মূল শব্দটি ‘ইল্ম্’ যার থেকে ‘আলিম্’ শব্দটি এসেছে৷) তেমন নেই সেও জমিদারের খোশামোদ করে দিয়ে বখশিসের ব্যবস্থা করে নিত৷ সেই যে গল্পে আছে না–
১২ই জানুয়ারী বিভিন্ন ক্লাব, প্রতিষ্ঠান ও পার্টির পক্ষ থেকে সোৎসাহে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মোৎসব পালন করা হয়৷ বিভিন্ন নেতা–নেত্রী, বুদ্ধিজীবী, অভিনেতা, অভিনেত্রী, শিল্পী, শিক্ষাবিদ্ এই সমস্ত অনুষ্ঠানে বত্তৃণতার ফুলঝুরি ছড়ান৷
কিন্তু মনে প্রশ্ণ জাগে শুধু এ করেই কি বিবেকানন্দর আর্দশকে আজকে যুব সমাজের মনে জাগরূক করা যাবে! বর্তমানে রেওয়াজটাই তা–ই৷ মহাপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্যে খুব জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান করা হয়৷ তাতেই আমরা মনে করি, মহাপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের দায়িত্ব আমরা যথাযথভাবেই পালন করছি৷
এ বিশ্বের ধন–সম্পত্তির মালিকানা ন্যায়তঃ ব্যষ্টির না সমাজের–এ নিয়ে দার্শনিকদের মধ্যে এখন বিরাট দ্বন্দ্ব৷ ব্যষ্টি মালিকানাবাদীরা বলেন, ব্যষ্টিই যখন কলকারখানা গড়ে তুলছে–শ্রম দিয়ে বুদ্ধি দিয়ে জমি–জায়গা করেছে–তাহলে এতে তার চরম মালিকানা তো সম্পূর্ণ ন্যায়সম্মত সিদ্ধ৷ প্রাউট দর্শন এখানে স্পষ্ট ভাবে বলছে ঃ এ বিশ্বের কোন সম্পদ মানুষ সৃষ্টি করে নি যিনি সমগ্র বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন সেই পরম ব্রহ্ম বা ভূমাসত্তাই সব সম্পদের স্রষ্টা–তিনিই প্রকৃত মালিক৷ মানুষ শুধু প্রকৃতিদত্ত সম্পদকে নিয়ে ‘ফিজিক্যাল মিক্সচার’ বা ‘কেমিক্যাল কম্পাউন্ড’ বানিয়েছে বা আকারগত পরিবর্তন করেছে মাত্র৷ তাই কোনও মানুষ এর প্রকৃত মালিক হতে প
আরও একটা বছর চলে গেল৷ পুরাতন বৎসরের জীর্ণ ক্লান্ত রাত্রি শেষে নতুন প্রভাত বরণ করে নিল ২০২৫-এর প্রথম সূর্র্যেদয়কে নানা আনন্দ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে৷ কিন্তু মাত্র একটা দিন৷ হাতে এখনও ৩৬৪টা দিন পুরাতন বছরের হারিয়ে যাওয়া দিনগুলো নিয়ে আর কোন আক্ষেপ নয়৷ এখন আমাদের ভাবতে হবে সামনের দিনগুলো নিয়ে৷ নোতুন বছরে আমাদের কী করতে হবে তার পরিকল্পনাও করে নেওয়া প্রয়োজন৷ আর সেই পরিকল্পনা করে এগিয়ে চলতে হবে৷ থমকে দাঁড়িয়ে থাকলে চলবে না৷ জীবনের মন্ত্র চরৈবেতি, চরৈবেতি৷
বর্তমান পৃথিবী এমন এক অনিশ্চিতের মধ্যে পড়েছে যেটার হাত থেকে তাকে রক্ষা করার প্রায় কেউই নেই কারণটা মূলতঃ একটাই যারা অত্যন্ত শিক্ষা দীক্ষায় মানসিকতায় নিম্নস্তরের তারা অধিকাংশ দেশে রাষ্ট্রীয় ভার হাতে নিয়েই সেই দলতন্ত্রের দলাদলিতে মেতে উঠেছে৷ সুশাসন করতে যে উন্নত দৃষ্টিভঙ্গী ও উদার মানসিকতা প্রায় মোটেই নেই৷ সেই কারণে অহেতুক যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় মেতে উঠেছে৷ শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সার্বিক উন্নতিটাই ব্যহত হচ্ছে৷ তাই যারা মহাজ্ঞানী বুদ্ধিমানগণ তাঁরা রাজনীতি পরিধির মধ্যে আসতে চাননা৷ মূলতঃ নিম্ন মানসিকতার আত্মকেন্দ্রিক স্বার্থপর মানুষই এখন রাজনীতিতে ছড়ি ঘোরাচ্ছে৷ এরা সব সময় অসৎ মানুষ পরিবেষ্টিত হয়ে থাকে আর
হেমন্তের পরে আসে শীত৷ সকালবেলা পাকা ধানের শিষে শিষে ঝলমলিয়ে ওঠে শিশিরবিন্দু৷ ‘সকাল হতে সন্ধ্যে’ সমস্ত ক্ষেত মুখর হয়ে ওঠে ধান কাটার গানে৷ চাষীর গোলায় ধান আর ধরে না, ছড়াছড়ি যায় গৃহের প্রাঙ্গণে৷ শুধু ধান নয়৷ শাকসব্জীর ক্ষেতও ফসলে পরিপূর্ণ ৷ পালং শাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, কড়াইশুটি, বেগুন, টম্যাটো, নতুন আলু, মূলো, বিট, গাজর--আরো কত রকম ফসল৷ খুব সস্তা! যত পারো খাও৷ তাই বুঝি আমাদের কবি রবীন্দ্রনাথ শীতকালকে এমন সশ্রদ্ধ প্রণাম নিবেদন করেছেন---
নমো, নমো, নমো৷
নমো, নমো, নমো৷
তুমি ক্ষুধার্তজনশরণ্য,
অমৃত-অন্ন-ভোগ ধন্য করো,
অন্তর মম ৷৷