সংবাদ দর্পণ

অসমে  বাঙালী  নির্যাতনের প্রতিবাদে  কলকাতায় ‘আমরা বাঙালী’র  মিছিল ও প্রতিবাদ সভা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

অসমে নূতন নাগরিকপঞ্জী তৈরীর  নাম করে প্রায়  ৪০ লক্ষ বাঙালীর নাগরিকত্বহরণ  করে’ তাদের বিতাড়নের  চক্রান্তের  বিরুদ্ধে  গত ১৯শে সেপ্টেম্বর  ‘আমরা বাঙালী’র পক্ষ থেকে উত্তর কলকাতার শ্যামবাজারের নিকটে বল্লভপুর ষ্ট্রীট থেকে এক  প্রতিবাদ  মিছিল বোরোয়৷ এই  মিছিল বিধান সরণী হয়ে  বিভিন্ন  শ্লোগান  দিতে দিতে স্বামী বিবেকানন্দের  বাড়ীর  সামনে  এসে  পৌঁছায় ও এখানে একটি পথসভা অনুষ্ঠিত হয়৷ এই পথসভায় বক্তব্য রাখেন  আমরা  বাঙালী কেন্দ্রীয় সচিব বকুলচন্দ্র রায়, গুহাহাটি হাইকোর্টের  এ্যাডভোকেট  নজরুল  ইসলাম, জয়ন্ত দাশ, অরুণ ভট্টাচার্য, উজ্বল ঘোষ  প্রমুখ৷

বক্তারা তাঁদের  বক্তব্যে  বলেন,  এটা খুবই বিস্ময়জনক  যে, যে বাঙালীরা  ভারতের  স্বাধীনতা  সংগ্রামে  সবচেয়ে  বেশী রক্ত  দিয়েছে, সেই বাঙালীদেরই আজ  অসম, ত্রিপুরা, মণিপুর---সর্বত্র  বিদেশী তক্মা দিয়ে  চরমভাবে নির্যাতন  করা হচ্ছে ও  দেশ থেকে তাড়ানোর  চেষ্টা  চলছে৷  স্পষ্টতই বাঙালীদের বিরুদ্ধে একটা  বিরাট ষড়যন্ত্র চলছে৷ সমস্ত বাঙালীদের  ঐক্যবদ্ধভাবে  এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে  হবে৷

পথসভার শুরুতে গান গেয়ে শোণান সাধনা গোলদার৷  হিতাংশু বানার্জীর অক্লান্ত প্রচেষ্টায় ‘আমরা বাঙালী’র এই মিছিল ও পথসভা সাফল্যমণ্ডিত হয়৷

টালিগঞ্জ ঃ দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জে মেট্রো ষ্টেশনের উল্টো দিকে  অর্থাৎ  উত্তমকুমারের মূর্ত্তির  সামনে  ২০শে সেপ্টেম্বর  ‘আমরা বাঙালী’র  পথসভায়  বক্তব্য  রাখেন বকুলচন্দ্র রায় , জয়ন্ত দাশ, নজরুল ইসলাম  প্রমুখ৷  এই পথসভায়  বকুল চন্দ্র বলেন, অসমে, মণিপুরে  বাঙালীরা  নানানভাবে  নির্যাতীত হচ্ছে, বিদেশী তক্মা  দিয়ে তাদের দেশ থেকে তাড়ানোর  উদ্যোগ চলছে, তখন সামান্য বাঙালীদের এর প্রতিবাদে  গর্জে  উঠতে  হবে৷ বাঙালী যদি বাঙালী যদি বাঙালী জাতির এই ঘোর দুর্দিনে  ঐক্যবদ্ধ হয়ে অত্যাচারী  শক্তির বিরুদ্ধে  রুখে  না দাঁড়ায়,  তাহলে  বাঙালী জাতি  নিশ্চিহ্ণ হয়ে যাবে৷  তাই আজ  বাঙালীকে জাগতেই হবে৷ ঐক্যবদ্ধভাবে বাঙালী নির্যাতনের  প্রতিবাদ করতেই হবে৷

সাঁইথিয়ায় ইয়ূ.পি.আই.এফ-এর রাজ্য সম্মেলন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

সাঁইথিয়া ঃ গত ১৫ ও ১৬ সেপ্টেম্বর বীরভূম জেলার সাঁইথিয়াতে ইউ.পি.আই.এফ. (ইয়ূনিবার্সাল প্রাউটিষ্ট ইনটেলেকচুয়্যাল ফেডারেশন)-এর রাজ্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত হ’ল৷ বর্তমানে দেশ জুড়ে অভাবনীয় অর্থনৈতিক সমস্যা, একদিকে মুষ্টিমেয় ধনিক শ্রেণীর হাতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ পুঞ্জীভূত ও অন্যদিকে দেশের জনসাধারণের বৃহদংশের নিদারুণ দারিদ্র্য ও বেকার সমস্যা, এন আর সি-র নামে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ব্যাপক বাঙালী নির্যাতন, দেশজুড়ে মানুষের নৈতিক মানের ব্যাপক অবনয়ন---এই সমস্ত সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতে ইয়.পি.আই.এফ.-এর কী করণীয় এই সমস্ত পর্যালোচনা করার জন্যে বিশেষ করে পূর্ব ভারতের বিভিন্ন রাজ্য থেকে ১৫০-এর বেশি বুদ্ধিজীবী প্রতিনিধি এই সম্মেলনে যোগদান করেন ও তাঁরা উক্ত সমস্যাবলী নিয়ে তাঁদের মূল্যবান বক্তব্য রাখেন৷

দুই দিন ব্যাপী এই সম্মেলনে বিশিষ্ট প্রাউট-তাত্ত্বিক আচার্য মন্ত্রেশ্বরানন্দ অবধূত, আচার্য রবীশানন্দ অবধূত প্রমুখ বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জ্বলন্ত সমস্যাগুলিকে প্রাউটের মাধ্যমে কীভাবে সমাধান করা সম্ভব হবে সেই সম্পর্কে আগত প্রতিনিধিদের সামনে বিস্তারিত আলোচনা করেন৷

আচার্য মন্ত্রেশ্বরানন্দ অবধূত ক্যাপিট্যালিজমের জন্মদাতা এ্যাডাম স্মিথের অবাধ অর্থনৈতিক স্বাধীনতা থেকে কীভাবে অর্থনৈতিক শোষণ চরম রূপ নিতে থাকে, কীভাবে মার্কসবাদের উদ্ভব হয় সে সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন৷ তিনি মার্কসবাদের ত্রুটিগুলোর ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করে দেখান---কী কারণে রাশিয়া ও পূর্ব ইয়ূরোপের বিভিন্ন দেশে কমিউনিষ্ট সরকারগুলির পতন হ’ল৷ তিনি বলেন, বর্তমান চীনে নামে মাত্র কমিউনিষ্ট সরকার, কিন্তু কমিউনিষ্ট অর্থনীতির বিন্দুমাত্র অবশিষ্ট নেই সেখানে৷ প্রকৃতপক্ষে কমিউনিজমের অপমৃত্যু ঘটেছে৷ তাই ঐতিহাসিক কারণেই বিশ্বজুড়ে সামাজিক-অর্থনৈতিক আদর্শের চরম শূন্যতা পূরণ করতেই ইতিহাসের অমোঘ নিয়মে প্রাউটের আবির্ভাব৷

আচার্য রবীশানন্দ অবধূত বলেন পুঁজিবাদ ও মার্কসবাদ নয়, নিপীড়িত মানবতার মুক্তির পথ একমাত্র প্রাউট৷ তাই আজ ইউ.পি.আই.এফ-এর প্রধান কর্তব্য হ‘ল এই প্রাউটের আদর্শের ব্যাপক প্রচার৷ এই জন্যে সর্বত্র সিম্পোজিয়াম, আলোচনাচক্র প্রভৃতির আয়োজন করার ওপরে তিনি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন৷

রাজ্য সম্মেলনে নূতন করে ১২ জনের ইয়ূ.পি.আই.এফ-এর রাজ্যকমিটি তৈরী করা হয়৷ চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন শ্রীবিশ্বজিৎ ভৌমিক মহাশয়, আর সেক্রেটারী হিসেবে নির্বাচিত হলেন শ্রীতাপস সিন্হা৷

আচার্য কৃষ্ণস্বরূপানন্দ অবধূত (ফেডারেশন সেক্রেটারী) ও তাঁর অন্যান্য সহকর্মীদের চেষ্টায় এই সম্মেলন সুচারু রূপে সম্পন্ন হ’ল৷

১৪ই সেপ্টেম্বর মহাসমারোহে প্রভাত সঙ্গীত দিবস পালন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

কলিকাতা ঃ গত ১৪ই সেপ্টেম্বর  প্রভাত সঙ্গীত সৃষ্টির ৩৬বর্ষ পূর্ত্তি উপলক্ষ্যে দেশে বিদেশে  সর্বত্র  মহাসমারোহে  ‘প্রভাত সঙ্গীত’ দিবস পালিত হয়৷  এদিন কলকাতায়  আনন্দমার্গের  কেন্দ্রীয় আশ্রমে  এই উপলক্ষ্যে  বিকেলে  অখন্ড কীর্ত্তন  ও মিলিত সাধনার পর প্রভাত সঙ্গীত  অবলম্বনে  এক মনোরম  সাংস্কৃতিক  অনুষ্ঠান হয়৷  এই  অনুষ্ঠানে  আচার্য দীপাঞ্জনানন্দ  অবধূত,  অবধূতিকা আনন্দ মালিকা  আচার্যা ও অন্যান্য  অনেক  রাওয়া শিল্পী  বিভিন্ন  আঙ্গিকের  প্রভাত সঙ্গীত পরিবেশন  করেন৷ নরেন্দ্রপুর  আনন্দমার্গ চিল্ড্রেন্স্  হোমের  ছোট ছোট মেয়েরা  প্রভাত সঙ্গীত অবলম্বনে  নৃত্য প্রদর্শন করে সবাইকে মোহিত করে দেয়৷ 

আচার্য  সর্বেশ্বরানন্দ অবধূত  প্রভাত সঙ্গীতের  ভাব-ভাষা-সুর ও ছন্দের  বিভিন্ন  দিক সম্পর্কে বক্তব্য রাখেন৷

তিনি বলেন,  প্রভাত সঙ্গীত প্রকৃতপক্ষে  সুপ্ত মানবতার ঘুম ভাঙ্গানোর সঙ্গীত, নবজাগরণের  সঙ্গীত, অন্ধকার  থেকে  আলোকে  উত্তরণের সঙ্গীত৷ প্রভাত সঙ্গীতের  প্রথম সঙ্গীতটিতে  সেই বার্র্ত রয়েছে৷  প্রথম সঙ্গীতটিতেই  আছে---

বন্ধু হে, নিয়ে চলো৷

আলোর ওই ঝর্ণাধারার পানে৷৷

আঁধারের ব্যথা আর সয়না প্রাণে৷৷

 ঘুমের  ঘোর ভাঙ্গানোর  গানে গানে৷৷

প্রভাত সঙ্গীতে যেমন রয়েছে ভক্তিমূলক সঙ্গীত, তেমনি রয়েছে আদর্শ সমাজ-সংরচনার  সঙ্গীত, অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের সঙ্গীত৷ রয়েছে বিভিন্ন ঋতুর সঙ্গীত, জন্মদিন থেকে শুরু করে অন্নপ্রাশন, বিবাহ, শ্রাদ্ধ প্রভৃতি  অনুষ্ঠানের  সঙ্গীত, প্রাউটের  সঙ্গীত, সুরের দিক থেকে  ঝুমুর, কীর্ত্তন ও বাউলাঙ্গের সঙ্গীত , ধ্রুপদী সঙ্গীত, দেশ-বিদেশের বিভিন্ন  সুরের মিশ্রণে  তৈরী অনেক সুরবৈচিত্র্য রয়েছে প্রভাত সঙ্গীতে৷

৮ বৎসর ১মাস ৫ দিনে এহেন উচ্চমার্গের ৫০১৮টি প্রভাত সঙ্গীত রচনা ও তাতে নিজেই  সুর দেওয়া--- বিশ্বের ইতিহাসে  এর  কোনো তুলনা নেই৷ এখন আমাদের  সংকল্প নিতে হবে, আমরা  নিজেরা  প্রভাত সঙ্গীত গেয়ে  প্রভাত সঙ্গীত ভাবতরঙ্গের সঙ্গে  নিজেদের  মনকে  যেমন  মিলিয়ে  দেওয়ার অহরহ চেষ্টা করব, তেমনি জগৎকল্যাণে  প্রভাত সঙ্গীতের ব্যাপক প্রচার  করে’ এই সঙ্গীতকে  মানুষের  কাছে  জনপ্রিয় করে তুলবো৷

আন্দামানেও বাঙালী বিতাড়নের চক্রান্ত

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

অসমের পর এবার গোটা আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জেও সুপরিকল্পিতভাবে বাঙালী বিতাড়নের চক্রান্ত শুরু হয়েছে৷ যত্রতত্র একদল স্বঘোষিত উগ্র জাতীয়তাবাদী বাঙালীদের কাছে তাদের নাগরিকত্বের নানান নথিপত্র দাবী করছে ও নানান অজুহাতে তাদের গালিগালাজ, হয়রানি ও নির্যাতন চালাচ্ছে৷ পুলিশও তাদের সহযোগিতা করছে ও বাঙালীদের নানা ভাবে হয়রানি করছে, এমনকি নানান অজুহাতে বাঙালীদের হাজতে ভরে দিচ্ছে৷

সম্প্রতি আন্দামানের সাংসদ বিষ্ণুপদ রায় যেহেতু বাঙালী তাই তাঁর ওপরও অকথ্য অত্যাচার চলছে৷ ‘বাঙলাদেশী’ তক্মা লাগিয়ে তাঁকে নানান অশ্লীল ও নোংরা ভাষায় গালাগালি করা হয়৷ তাঁর গাড়িও ভাঙচুর করা হয়৷

কয়েকদিন আগে একটি কম বয়েসী বাঙালী মেয়ের মৃতদেহ রাস্তায় পাওয়া গেছে৷ খুনীর কোনও হদিশ নেই৷ দিন পনেরো আগে অন্য একজন মধ্যবয়সী বাঙালী মেয়েরও মৃতদেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখা যায়৷ এক্ষেত্রেও পুলিশ খুনীকে খুঁজে বের করার কোনও চেষ্টা করছে না৷ বাঙালী হকাররা হকারি করে কোনওরকম রুজিরোজগার করত, এখন তাদের হকারি করতে দেওয়া হচ্ছে না৷ ফলে অর্থনৈতিকভাবে বাঙালীরা ভেঙ্গে পড়েছে৷ বাঙালীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভয় দেখানো হচ্ছে৷

আন্দামানে ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ বাঙালী৷ কিন্তু বিদ্যালয়গুলিতে বাংলা পড়া বা বাংলা মাধ্যমে পড়াশুণার সুযোগ থেকে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে৷ বিদ্যালয়গুলিতে বাঙালী শিক্ষক দেওয়া হচ্ছে না, সমস্তই অবাঙালী শিক্ষক৷ এমনকি বাঙালী হ’লে স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রেও নানানভাবে হয়রাণি করা হচ্ছে৷ এসব কারণে সারা আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বাঙালীরা আতঙ্কিত৷

স্বাধীনতার পর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নেহেরু সহ তাঁর মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিলেন, ওপার বাঙলা থেকে আগত উদ্বাস্তুদের আন্দামানে পুনর্বাসন করা যেতে পারে৷ এখন তাহলে আন্দামানে বাঙালী উদ্বাস্তুরা স্থান পাবে না কেন?

স্বাধীনতার জন্যে যে বাঙালীরা সবচেয়ে বেশী বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে, সেই বাঙালীদেরই আজ অসম, ত্রিপুরা, আন্দামান সর্বত্রই বিদেশী তকমা দিয়ে নানান ভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে৷ এর প্রতিবাদে সমস্ত বাঙালীদের ঐক্যবদ্ধ হতেই হবে৷

আনন্দমার্গ স্কুলের  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের  বিশেষ  সম্মেলন

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

আনন্দমার্গের ‘এডুকেশন রিলিফ এ্যান্ড ওয়েলফেয়ার  সেক্সনে’র সেকটরিয়্যাল  এরজ সেক্রেটারী আচার্য তথাগতানন্দ অবধূত জানিয়েছেন, আগামী ৬ই ও ৭ই অক্টোবর কলকাতায় আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের কেন্দ্রীয় আশ্রমে দিল্লি সেক্টারের সমস্ত আনন্দমার্গ স্কুলের  ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের (টিচার্জ-ইন-চার্জ) জন্যে এক বিশেষ সম্মেলনর  আয়োজন করা হয়েছে৷ এই সম্মেলনে আত্মোন্নতি ও আদর্শ সমাজ  নির্র্মণের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের  গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা  নিয়ে আলোচনা করা হবে৷

সমস্ত টিচার্জ-ইনচার্জদের  ৫ই অক্টোবর  সন্ধ্যার মধ্যে  কলকাতায় আনন্দমার্গ আশ্রমে  পৌঁছতে হবে, যাতে  করে ৬ই অক্টোবর সকাল থেকে সম্মেলনের  কর্মসূচীতে অংশগ্রহণে সম্ভব হয়৷

কৌষিকী দিবসে কৌষিকী ও তাণ্ডব নৃত্য প্রতিযোগিতা

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

৬ই সেপ্টেম্বর কৌষিকী দিবস৷ ১৯৭১ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর মেয়েদের দৈহিক, মানসিক, আধ্যাত্মিক উন্নতি বিধানের জন্যে শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী কৌষিকী নৃত্যের প্রবর্তন করেছিলেন৷

ইতোপূর্বে মার্গগুরু শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী পুরুষদের শারীরিক, মানসিক বিকাশের জন্যে ও তাদের সাহস ও পৌরুষভাব বাড়িয়ে তোলার জন্যে সদাশিব প্রবর্ত্তিত তাণ্ডব নৃত্য, যা প্রায় লুপ্ত হয়ে গিয়েছিল, সেটিকে জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রচার করেন৷ এটির নিয়মিত অভ্যাসে পুরুষদের সাহস ও পৌরুষ বৃদ্ধি পাবে ও এটি মস্তিষ্কের সর্বোত্তম ব্যায়াম৷

এই তাণ্ডব নৃত্য মেয়েদের শরীরের পক্ষে উপযুক্ত নয়, তাই মেয়েদের করা নিষেধ৷ কিন্তু মেয়েদেরও সার্বিক বিকাশের জন্যে অনুরূপ কোনো ব্যায়াম বা নৃত্য প্রয়োজন৷ এটা উপলব্ধি করে মার্গগুরু শ্রীশ্রীআনন্দমূর্ত্তিজী ১৯৭৮ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর এই নৃত্য উদ্ভাবন করেন ও   সমস্ত  মেয়েদের  এই নৃত্য  নিয়মিত  অভ্যাস করতে নির্দেশ দেন৷

সেই অনুসারে  আনন্দমার্গের  মেয়েরা  ও তাঁদের  দেখাদেখি  অন্যান্য অনেকেই  নিয়মিত  এই কৌষিকী  নৃত্য অভ্যাস করেন৷ এটি  নিয়মিত  অভ্যাসে  ২২টি রোগের  নিরাময় হয়৷ বিশেষ করে  প্রায় সকল স্ত্রীরোগের  প্রতিষেধক  হিসেবে এই কৌষিকী  নৃত্য বিশেষ ফলপ্রদ৷

তাই আনন্দমার্গ থেকে  ছেলেদের  জন্যে  তান্ডব  ও কৌষিকী  নৃত্যের  ও মেয়েদের  জন্যে  কৌষিকী নৃত্যের  নিয়মিত  প্রশিক্ষণ দেওয়া  হয়  ও এই  নৃত্য নিয়মিত  অভ্যাস করতে  সবাইকে উৎসাহিত করা হয়৷

এই উদ্দ্যেশ্যকে সামনে  রেখে  গত ৬ই সেপ্টেম্বর  ভি.আই.পি নগরস্থিত  আনন্দমার্গের  আশ্রমে  কৌষিকী ও তান্ডব নৃত্যের  বিশেষ প্রতিযোগিতার  আয়োজন  করা হয়৷ মেয়েদের  কৌষিকী নৃত্য প্রতিযোগিতা পরিচালনা  করেন অবধূতিকা আনন্দ করুণা আচার্যা ও ছেলেদের  তান্ডব ও কৌষিকী নৃত্য  প্রতিযোগিতা পরিচালনা  করেন  আচার্য সুচিদানন্দ অবধূত৷

প্রতিযোগিতায় ১ম,২য়, ও ৩য়  স্থানাদিকারীদের নাম নিম্নে প্রদত্ত হল৷  মেয়ের বয়স  অনুসারে  তিন  গ্রুপের প্রতিযোগিতায়---

‘এ’ গ্রুপ

(১) তনিমা দেব ---১ম

(২) গীতাঞ্জলি দেব---২য়

(৩) মমতা দেব---৩য়

‘বি’ গ্রুপ

(১) সুতপা দেব---১ম

(২) প্রমিতা দেব --- ২য়

(৩) উদ্দীপ্তা দেব---৩য়

‘সি’ গ্রুপ

(১) বিজয়া দেব---১ম

(২) রত্না দেব --- ২য়

(৩) শিপ্রা দেব---৩য়

পুরুষদের তান্ডব

(১) রাজু সোণার---১ম (১৬ মিনিট)

(২) ধীরেণ চন্দ্র মাহাত --- ২য় (১৫মিনিট)

(৩) চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস ---৩য় (১৩ মিনিট)

কৌষিকী

(১) রাজু সোণার---১ম

(২) বিমল সিংহ --- ২য়

(৩) চিত্তরঞ্জন বিশ্বাস ---৩য়

উত্তর ২৪ পরগণায় আানন্দমার্গ আয়োজিত মেডিক্যাল ক্যাম্প

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

গত ১২ই সেপ্টেম্বর উত্তর ২৪ পরগণা জেলার গোপালনগরের নতিডাঙ্গায় আনন্দমার্গ প্রচারক সংঘের পক্ষ থেকে একটি মেডিক্যাল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়৷ এই মেডিক্যাল ক্যাম্পে বিশিষ্ট চিকিৎসক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাঃ নির্মল সরকার, ডাঃ দীনেশ বিশ্বাস ও ডাঃ জয়প্রকাশ দাস প্রমুখ৷ এই মেডিক্যাল ক্যাম্পে শতাধিক দুঃস্থ রোগীর বিনামূল্যে চিকিৎসা করা হয়৷

গার্লস্ প্রাউটিষ্টের মিছিল, পথসভা ও স্মারকলিপি পেশ 

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

নদীয়া ঃ গত ৭ই সেপ্টেম্বর  নদীয়া জেলার বেথুয়াডহরি   ব্লকের বিডিও-র  কাছে গার্লস্ প্রাউটিষ্টের পক্ষ থেকে এক  স্মারকলিপি প্রদান করা হয়৷ এদিন সকাল ১০টায় বেথুয়াডহরি নিচুবাজার থেকে গার্লস্ প্রাউটিষ্টের সদস্যারা   মিছিল করে বিডিও অফিসের সামনে এসে জমায়েত হন৷ এখানে তাঁরা এক পথসভা করেন৷  উক্ত পথসভায় বক্তব্য রাখেন অবধূতিকা আনন্দ গতিময়া আচার্যা, অবধূতিকা আনন্দ কৃষ্ণপ্রভা আচার্যা ও অবধূতিকা আনন্দ পূর্ণপ্রাণা আচার্যা প্রমুখ৷ উক্ত পথসভায়         বক্তারা বর্তমান সমাজের নারীদের ওপর চরম নির্র্যতনের  প্রতিবাদ করেন ৷ এরপর নারীদের সুরক্ষার দাবীতে তাঁরা বিডিও-র  নিকটে এক স্মারকলিপি প্রদান  করেন৷ 

দুধ গরম করলেই রাবারের মত হয়ে যাচ্ছে

সংবাদদাতা
পি.এন.এ.
সময়

নদীয়াতে  শান্তিপুরে  কয়েকজন  দুগ্ধ বিক্রেতার  কাছে  দুধ  নিয়ে  গরম করার পর রাবারের মতো  হয়ে যাচ্ছে বলে সম্প্রতি এক  চাঞ্চল্যকর  অভিযোগ উঠেছে৷

সম্প্রতি এই ঘটনাকে  কেন্দ্র করে  শান্তিপুর  ষ্টেশনে  দুগ্ধ  বিক্রেতাদের  আটকে বিক্ষোভ দেখান  স্থানীয় জনসাধারণ৷ দুপক্ষের  মত  মারামারিও হয়৷  জি আর পি এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়৷  ঘটনার পুলিশি তদন্ত চলছে৷

আবার ভূমিকম্প

সংবাদদাতা
নিজস্ব সংবাদদাতা
সময়

১২ই সেপ্টেম্বর, বুধবার সকাল ১০ টা ২৫ মিনিট  হঠাৎ কলকাতাসহ  সারা  পঃবঙ্গে  ভূমিকম্প অনুভূত হয়৷ রিখটার স্কেলে  কম্পনের মাত্রা ছিল ৫.৫৷  এই ভূমিকম্পের  কেন্দ্রস্থল ছিল  অসমের  কোকরাঝাড়৷  ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৩ কি.মি গভীরে  দুটি  প্লেটের মধ্যে  সংঘর্ষের  ফলে এই কম্পনের  সৃষ্টি  হয়েছিল বলে ভূতত্ত্ববিদ্রা  জানিয়েছেন৷

এই ভূমিকম্পের  কারণে  শিলিগুড়িতে ১ জনের  মৃত্যু হয়েছে৷  কম্পন অনুভব  হতেই তিনি দোতলা থেকে  তাড়াতাড়ি  এক তলাতে নামতে গিয়ে সিঁড়িতে পড়ে যান৷ মাথায়  আঘাত লাগে, তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়৷ এছাড়া , অন্য কোথাও ক্ষয়-ক্ষতির বেশকিছু খবর পাওয়া  যায়নি৷