পশ্চিম বঙ্গের নতুন সরকার বিধানসভা নির্বাচনের আগে দেওয়া তাদের প্রতিশ্রুতিমতো ১লা জুন থেকে সরকারি বাসে মহিলাদের বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের ব্যবস্থা করেছেন বলে জানা গেছে৷ জনগণকে দেওয়া এই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করার জন্য নতুন সরকারকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন৷ সমস্ত মহিলারাই অর্থাৎ অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী ও যাঁরা স্বাবলম্বী নন প্রত্যেকেই এই সুবিধা পাবেন বলে জানা গেছে৷ স্বাভাবিকভাবে মহিলাদের এই ব্যাপারে খুশি হওয়ারই কথা, কিন্তু সমাজ মাধ্যমে কিছু মহিলা জানান তাঁরা এই সুবিধা নিতে আগ্রহী নন৷ এটা তাঁদের ব্যষ্টিগত মতামত বলেও তাঁরা জানিয়েছেন৷ তবে তাঁরা যে যুক্তি দেখিয়েছেন এই সুবিধা না নেওয়ার পক্ষে সেটাও ফেলে দেওয়ার মতো নয়৷
মহিলাদের শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক ভাবে উন্নতি তথা স্বয়ম্ভর করে তোলার জন্য বিভিন্ন সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়ে থাকে৷ তাদের অর্থনৈতিক ভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে পারলে তাদের যেমন লাভ হবে সমাজেরও উন্নতি ঘটবে৷ নারীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ এখন আগের থেকে অনেক বেড়েছে৷ফলে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও তাঁরা পালন করছেন সুন্দর ভাবে৷ এসবের প্রয়োজন ছিল৷
সমাজ মাধ্যমে কিছু মহিলা বিনামূল্যে বাস ভ্রমনের ব্যাপারে তাঁদের যে ব্যষ্টিগত মতামত জানিয়েছেন তা ফেলে দেওয়ার মতো নয়৷ এমনিতে সরকারি বাসের সংখ্যা রাজ্যের সর্বত্র সমান নয় অর্থাৎ সংখ্যায় অনেক কম৷ সুতরাং এই সুবিধা খুব অল্প সংখ্যক বাসেই রাজ্যের মহিলারা পাবেন৷ তাছাড়া ওনাদের আরেকটি বক্তব্যের সাথে অনেকেই সহমত হয়েছেন৷ তাঁদের যুক্তি যাঁরা সরকারি বা বেসরকারি অফিসে চাকুরি করেন,শিক্ষকতা করেন (স্কুলে, কলেজে বা বিশ্ববিদ্যালযয়ে) বা ব্যবসা করেন অর্থাৎ অর্থনৈতিক ভাবে স্বাবলম্বী তাঁদের এই ধরনের সুবিধা দেওয়ার কোনো দরকার নেই বলেই তাঁরা মনে করেন৷ প্রকৃতই যাঁদের প্রয়োজন তাঁদের এই সুবিধা দেওয়া উচিত, অন্যথায় সরকারি অর্থের অপচয় হবে বলেই অনেকের অভিমত৷ এমনিতে কর্মরতা মহিলারাই বেশি সংখ্যায় নিয়মিত বাসে যাতায়াত করে থাকেন৷ দেখা যাবে এঁরাই এই সুবিধা বেশি পাচ্ছেন, যা এঁদের না দিলেও হয়তো খুব অসুবিধা হবে না৷ অন্নপূর্ণা যোজনার ক্ষেত্রে সরকার যেমন ঘোষণা করেছে আর্থিক ভাবে স্বাবলম্বী মহিলাদের এই যোজনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে না৷ অথচ সরকারি বাসের ক্ষেত্রে সকল মহিলাদের বিনা ভাড়ায় যাতায়াতে সুবিধা দেওয়া কেমন বেমানান লাগছে না! এক যাত্রায় পৃথক ফল কেন? তাছাড়া মহিলাদের পক্ষ থেকে বিনা ভাড়ায় তাঁদের যাতায়াতের সুযোগ দিতে হবে - এমন ধরনের দাবি কী কোনোদিন উঠেছিল? সরকারি পরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হোক,নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই নিরাপদে ও সঠিক সময়ে যাতে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে - এই ব্যবস্থা চায় মানুষ সর্বপ্রথম৷ যদি একান্তই বিনা ভাড়ায় সরকার পরিষেবা দিতে আগ্রহী তাহলে দারিদ্র্যসীমার নিচে যাঁরা বাস করেন তাঁদের সকলকে ও রাজ্যের শিক্ষার্থীদের দেওয়া হোক৷ এটাই বাংলার অনেক মানুষ চান৷ সংবাদমাধ্যম মারফত বিভিন্ন সময়ে জানতে পারা যায় রাজ্যের সরকারি পরিবহন সংস্থা গুলি লোকসানে চলছে৷ এর উপরে সকল মহিলাদের বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুবিধা দিলে সরকারি পরিবহন ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য৷ এখন যে কটা সরকারি বাস রাস্তায় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে,এরপরে হয়তো তাও মিলবে না ! বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের পূর্বে জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য এমন ধরনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন একথা সত্য, তবে প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় এতসব ভাবেননি মনে হয়! কিন্তু এইভাবে বিনা ভাড়ায় মহিলা যাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধাদান করলে রাজ্যের কোষাগারে সমস্যা দেখা দিতে বাধ্য৷ তখন হয়তো এই সরকারি প্রকল্প এইভাবে চালু রাখা যাবে না, বন্ধ হয়ে যাবে৷ জ্ঞানীগুণীজনেরা একটা কথা বলে গেছেন অনেক আগেই-- ’ভাবিয়া করিও কাজ, করিয়া ভাবিও না’৷ নির্বাচনের আগে আবেগতাড়িত হয়ে এই ঘোষণা না করলেই ভালো হতো বলে মনে করেন অনেক বিচক্ষণ মানুষ৷
- Log in to post comments