ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে স্মরণীয় মুহূর্তের অভাব নেই৷ সেই তালিকায় উপরের দিকেই থাকবে ২০০১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ইডেন টেস্টে জয়৷ ঠিক ২৫ বছর আগে স্টিভ ওয়ার দলকে নাটকীয়ভাবে হারিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন যুগের সূচনা হয়েছিল গঙ্গাপাড়ের নন্দনকাননে৷ ফলো-অনের কবলে পড়েও জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল সৌরভ-ব্রিগেড৷ আর তার নেপথ্যে ছিল রাহুল দ্রাবিড় ও ভিভিএস লক্ষ্মণের মহাকাব্যিক ইনিংস৷ টিম ইন্ডিয়ার অবিশ্বাস্য প্রত্যাঘাতে মুখ থুবড়ে পড়েছিল টানা ১৬ ম্যাচ জিতে আসা অজিদের অশ্বমেধের ঘোড়া৷ প্রথমে ব্যাট করে অস্ট্রেলিয়া তোলে ৪৪৫৷ জবাবে ভারত থেমে যায় ১৭১ রানে৷ ফলো-অন করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৩২ রানে পড়ে যায় চার উইকেট৷ এরপরেই দ্রাবিড় ও লক্ষ্মণের সেই রূপকথার ইনিংস৷ পঞ্চম উইকেটে তাঁরা যোগ করেন ৩৭৬, যা ১৭১ রানে জয়ের ভিত গড়ে দেয়৷ লক্ষ্মণ অপরাজিত থাকেন ২৮১ রানে৷ দ্রাবিড়ের সংগ্রহ ১৮০৷ ১১ মার্চ শুরু হওয়া সেই টেস্টের রজতজয়ন্তী স্বাভাবিকভাবেই ফ্ল্যাশব্যাকে ফেরাচ্ছে ম্যাচের দুই নায়ককে৷ এক সাক্ষাৎকারে দ্রাবিড় বলেছেন, ‘লক্ষ্মণের সঙ্গে ব্যাটিং বরাবর উপভোগ করেছি৷ ও অসাধারণ ব্যাটসম্যান৷ ওর ব্যাটিং দেখার জন্য নন-স্ট্রাইকার এন্ডে থাকার চেয়ে ভালো জায়গা হয় না৷ মন ভরে গিয়েছিল সেদিন৷ লক্ষ্মণের জন্য আমার কাজও সহজ হয়েছিল৷’
সেই সময় অস্ট্রেলিয়া ছিল প্রবল প্রতাপশালী৷ স্টিভের দলের বোলিং বিভাগে ছিলেন ওয়ার্ন, ম্যাকগ্রাথ, গিলেসপিরা৷ ব্যাটিংয়ে হেডেন, স্ল্যাটার, ল্যাঙ্গার, মার্ক ওয়া, পন্টিং, গিলক্রিস্ট৷ এমন শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অনবদ্য দ্বিশতরান সম্পর্কে লক্ষ্মণ বলেছেন, ‘মারাত্মক এনার্জি অনুভব করছিলাম ইনিংসটা চলার সময়৷ ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ৬৫৭ রান তুলে ডিক্লেয়ার করে৷ অস্ট্রেলিয়ার সামনে টার্গেট দাঁড়ায় ৩৮৪ রানের৷ হরভজন সিংয়ের বিষাক্ত স্পিনে ২১২ রানে গুঁড়িয়ে যায় সফরকারী দল৷ ম্যাচে ভাজ্জির শিকার ১৩ উইকেট৷ আবেগঘন স্মৃতিচারণায় লক্ষ্মণ বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া সেই সময় সাংঘাতিক শক্তিশালী দল৷