Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

দেশপ্রেমিকের প্রতি

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

‘নেশন’ শব্দের অর্থ প্রকৃত ব্যাখ্যা কী--- এ নিয়ে মতভেদের অন্ত নেই৷ কেউ বলেন,মানবগোষ্ঠী একই রাষ্ট্রের বাসিন্দা তারাই একটা নেশন৷ অবশ্য রাষ্ট্র বা দেশকে সমার্থক ধরলেও ‘নেশন’ নিয়ে বিতর্ক এখানেই শেষ হয় না৷ কেউ কেউ বলেন নেশন গড়ে ওঠে সমভাষিতার ওপরে, কেউ বা বলেন এক ধরনের আচার ব্যবহার, একই জীবনযাত্রা প্রণালী, একই ঐতিহ্য, একই রক্তধারা, একই ধর্মমত প্রভৃতির একটি বা একাধিক তত্ত্বের মিশ্রণে গড়ে ওঠে ‘নেশন’৷

বাস্তবের অভি জ্ঞতা থেকে আমরা কিন্তু এই এই তত্ত্বগুলোর কোনটাকেই খুব বেশী গুরুত্ব দিতে পারছি না ৷ ভারতীয়, পাকিস্তানী ও বার্মিজেরা  একসময়ে একই দেশ তথা একই রাষ্ট্র ভারতবর্ষের বাসিন্দা ছিল কিন্তু কই, তারা তো একটা নেশন গড়ে তুলতে পারেনি! সমভাষিতা  নেশন গড়ার অত্যাবশ্যক অঙ্গ নয় ৷ তা যদি হ’ত তবে  আমেরিকার ইংরাজীভাষীরা ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের  বাইরে  গিয়ে ফরাসী ও স্পেনীশভাষীদের  সহযোগিতায় স্বতন্ত্র মার্কিন সাম্রাজ্য গড়ে তুলত না৷ সমভাষিতাই যদি নেশনের মানদন্ড হ’ত --- তা’ হলে সুইস নেশন তিন/চার ভাগে ভাগ হয়ে যেত৷ জার্র্মন ভাষীরা তাদের নিজেদের অঞ্চলকে সুইৎজারল্যান্ড থেকে পৃথক করে জার্র্মনীর অন্তর্ভুক্ত করতে চাইত ও নিজেদের জার্র্মন বলে পরিচয় দিতে গর্ব বোধ করত৷ অনুরূপভাবে , ফরাসী ও ইতালীয়ান ভাষী অঞ্চলও ফ্রান্স  ও ইতালীর অন্তর্ভূক্ত হতে চাইত কিন্তু তাও হয়নি ৷ জার্র্মন ফ্রেঞ্চ, ইতালিয়ন ও রোমাঁশ--- চারটি রাষ্ট্র ভাষা নিয়ে সুইস একটি নেশন হিসেবে দেখতে চায়৷ এই সেদিনও দেখেছি , একই বাংলা ভাষী হওয়া সত্ত্বেও পশ্চিম বাঙলা ভারতবর্ষের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত হয়ে ভারতীয় হিসেবে ও পূর্ব বাঙলা পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পাকিস্তানী হিসেবে পবিচয় দিতে চেয়েছে৷ বাঙালী নেশন হিসেবে পরিচয় দিতেও চায়নি৷ সোহারাওর্দি-শরৎ বসুর বাঙালীস্তানের  প্রস্তাবকে জনসাধারণ আমল দিতে চায়নি৷

আচার ব্যবহারের বিচারে স্পেনিশ ও পর্তুগীজ- ভাষীরা অভিন্ন, ভাষাগত ভিন্নতাও নেই বললেই চ্লে৷ এমনকি , ইয়ুরোপের  পশ্চিমাংশের প্রায় প্রতিটি দেশেরই আচার- ব্যবহার কতকটা একই, তবু তারা এক নেশন নয়৷ নেশন- প্রেষ্টিজ বাঁচাবার  জন্যে অতীতে  তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি ও খুনখুনি করেছে৷ আবার সম্পূর্ণ পৃথক ধরনের  আচার ব্যবহার  হওয়া সত্ত্বেও ব্রিটেনের ওয়েলবাসী সম্প্রদায় ব্রিটিশ বলে পরিচয় দিতে গর্ব করে৷ সমগ্র ইয়ূরোপের  জীবনযাত্রা প্রণালী কতকটা একই ধরনের৷ সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার (ভারতবর্ষ ও পাকিস্তান সহ ) জীবনযাত্রা প্রণালীও একই ধরণের৷ কিন্তু  তাতে করে একটা নেশন  গড়ে তুলতে পারেনি৷

বাঙলার অধিবাসীদের ঐতিহ্যধারা একটিই৷ পাঞ্জাবের ও তাই৷ ইহুদি ও আরবের মুসলমানদের  মধ্যে ঐতিহ্যগত পার্থক্য নেই৷ তবু বাঙ্লার লোকেরা, পঞ্জাবের  লোকেরা ও মিলিতভাবে ইহুদি ও আরবের মুসলমানদের কোন নেশন গড়ে তুলতে পারেনি৷ অধিকন্তু তাদের মধ্যে ধর্মগত কারণে বহু রক্তপাত ঘটে গেছে৷

রক্তগত বিচারে  আইবেরিয়া উপদ্বীপের অধিবাসীরা অভিন্ন৷ ঠিক তেমনি স্ক্যান্ডিনেভিয়া উপদ্বীপেরও৷ তবু তারা বিভিন্ন নেশনে বিভক্ত৷ রক্তের বন্ধন তাদের এক করতে পারেনি৷ সুতরাং রক্ত বা ‘রেস’race)- এর বিচারে নেশনকে দাঁড় করাবার চে ষ্টা সব সময়ে কাজ দেবেনা৷ 

একই ধর্মমতই যদি নেশন গড়ে তুলতে পারত তাহলে বর্তমান পৃথিবীতে ছয়/সাতটির বেশী নেশনের অস্তিত্ব থাকত না৷ সমগ্র ইয়ুরোপও প্রোটেষ্ট্যান্ট ও ক্যাথলিক  মোটামুটি  দুটি নেশনে বিভক্ত হয়ে যেত৷ কিন্তু তাও হয়নি ৷ তবে নেশন গড়ে ওঠে কিসের ভিত্তিতে? আসলে নেশন গড়বার কাজে দেশ, রাষ্ট্র, ভাষা, ধর্মমত প্রভৃতি তত্ত্বগুলো একেবারেই গৌণ৷ আসল নেশন জিনিসটা হচ্ছে ওইগুলির কোন একটি বা একাধিক তত্ত্বের ভিত্তিতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে গড়ে ওঠা এক ধরনের চেতনা বা সেন্টিমেন্ট৷ ‘নেশন’ জিনিসটার অস্তিত্ব আসলে নিছক সেন্টিমেন্ট-প্রসূত --- এর বেশী কোন কিছু নয়৷

এখন দেখা যাক, ভারতবর্ষে এই ধরনের কোন সেন্টিমেন্ট কোন কালে ছিল কি না অর্র্থৎ এদেশে কোন কালে নেশন বলে কোন কিছু ছিল কি না৷

সুপ্রাচীনকালে আর্যরা যখন ভারতবর্ষে এসেছিল তখন এদেশের সামাজিক জীবন ছিল একেবারে ছিন্ন-বিছিন্ন৷ অষ্ট্রিক, দ্রাবিড়, মঙ্গোলীয় প্রভৃতি শত-সহস্র ছোট-বড় সমাজ নিয়েই তখন ভারতের জনতা৷ সম্পূর্ণ ভিন্ন গোষ্ঠীভুক্ত আর্যরা (ককেশীয় আর্য) ভারতবর্ষে এল৷ সঙ্গে নিয়ে এল তাদের বৈদিক জীবনযাত্রা প্রণালী, বৈদিকভাষা, রাষ্ট্রনীতি, সমাজনীতি, রণনীতি৷ ভারতবর্ষের আদিম অধিবাসীদের জন্যে তারা সাধারণভাবে অবজ্ঞামূলক‘অনার্য’ শব্দটি ব্যবহার করতে লাগল৷ ভারতবর্ষ সম্পূর্ণভাবে দু’টি পৃথক মানসিকতায় বিভক্ত হয়ে গেল৷ একটি বিজয়ী আর্যের  মদগর্বী সেন্টিমেন্ট, অপরটি পরাজিত অনার্যের হীনম্মন্যতা-প্রসূত সেন্টিমেন্ট--- আর্য ও অনার্য৷

দিন এগিয়ে চলল৷ অনার্য- সংস্পর্শে এসে আর্যের বৈদিক ভাষার রূপান্তর ঘটল ৷ দেখা দিল বিভিন্ন  প্রান্তীয় প্রাকৃত ভাষাগুলি৷ আর্যের সঙ্গে অনার্যের রক্তের মিশ্রণ এড়িয়ে চলার সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হ’ল৷ আর্য শরীরে অনার্যের, অনার্য শরীরে আর্যের রক্ত অনুপ্রবেশ করল৷ ক্রমশঃ অনার্য জাতি শূদ্র বা চতুর্থ বর্ণরূপে আর্য সমাজে স্থান লাভ করল৷ আর এই মেলামেশার ফলে ক্রমশঃ আর্যের আর্যত্বের সেন্টিমেন্ট ও অনার্যের সেন্টিমেন্ট দুর্বল হয়ে পড়ল ৷ যে দুটি প্রধান সেন্টিমেন্টের ফলে আর্য ও অনার্য নেশন দু’টির উদ্ভব   হয়েছিল সেই দুটি  সেন্টিমেন্টই  দুর্বল  হয়ে যাওয়ায়  দু’টি নেশ্নের  মৃত্যু ঘটল অর্থাৎ  দেশ আবার নেশন হীন হয়ে গেল৷  (ক্রমশ)

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved