Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

দেশপ্রেমিকের প্রতি

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

ব্রিটিশি-বিরোধী সেন্টিমেন্টের ফলে ঊনবিংশ শতাব্দীতে যখন প্রথম ভারতীয় নেশন গড়ে উঠল, ভারতবর্ষের নেতাদের উচিত ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতার জন্যে সংগ্রাম না করে অর্থনৈতিক সংগ্রাম করা। অর্থনৈতিক সংগ্রামে হিন্দু-মসলমান-পাঞ্জাবী-মারাঠি ভেদ না থাকায় সকল ভারতবাসীই একযোগে সংগ্রাম চালিয়ে যেতে পারত ও সেই সংগ্রামের ফলে সারা ভারতবর্ষে দেখা দিত একটা শোষণ বিরোধী সেন্টিমেন্ট। সেই সেন্টিমেন্ট ভারতবাসীকে নেশন হিসাবে আরও মজবুত করে গড়ে তুলতে পারত। সংগ্রাম রাজনৈতিক স্বাধীনতায় না হওয়ায় ভারতবর্ষ স্বাধীন হলে হিন্দুদের প্রজা হিসেবে আমাদের থাকতে হবে---মুসলমানদের মনে এরূপ হিন্দু-আতঙ্ক বা হিন্দু-ফোবিয়া উৎপন্ন হবার কোনো সুযোগ থাকত না। হিন্দু-ফোবিয়া না থাকায় মুসলিম নেশনের জন্যে হোমল্যান্ডের দাবীও থাকত না। আর ভারতবর্ষ যখন অর্থনৈতিক স্বাধীনতা লাভ করত তখন দেখা যেত হিন্দু-মুসলমান পরস্পর সৌভ্রাত্রের মধ্যে অবিভক্ত ভারতবর্ষে মিলিতভাবে বসবাস করছে। অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সংগ্রাম রাজনৈতিক স্বাধীনতাও এনে দিত। হয়তো তাতে একটু দেরী হত, কিন্তু রাজনৈতিক স্বাধীনতা অবশ্যই আসত।

ইংরেজরা যখন অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপে (ভারতবর্ষের স্বাধীনতা অহিংস নীতিতে আসেনি) ভারতবর্ষ ত্যাগ করতে মনস্থ করল, তখন হিন্দু নেতাদের দাবী ছিল অখন্ড ভারত ও মুসলিম নেতাদের দাবী ছিল মুসলিম হোমল্যান্ড। এই দুইয়ের মধ্যে শান্তিপূর্ণ মীমাংসার কোনো উপায় ছিল না তাই ভারতবাসী চাক বা না চাক, ইংরেজদের ভারতবর্ষকে বিভক্ত করতেই হল।

এই অবস্থায় ভারতবর্ষের বিভাজন এড়িয়ে যাবার কোন উপায় কি দেশীয় নেতাদের হাতে ছিল না? হ্যাঁ ছিল। তখন তারা যদি বিভক্ত ভারত মেনে না নিয়ে অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্যে আন্দোলন শুরু করতেন, স্বাধীন ঐক্যবদ্ধ ভারত বর্ষ পাওয়া তখনও অসম্ভব হত না। কিন্তু হিন্দু বা মুসলমান নেতৃবৃন্দ তা চাননি। কেন চাননি তা তাঁরাই জানেন।

প্রথমতঃ, অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সংগ্রাম কেবল ইংরেজ শোষণের বিরুদ্ধেই সীমিত থাকত না, সে সংগ্রাম ভারতের পুঁজিবাদীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত হত। ইংরেজরা যদি দেখত যে তাদের শাসন আর চলছে না, তখন তারা বাধ্য হয় ভারতবর্ষকে রাজনৈতিক স্বাধীনতাও দিয়ে দিত। আর সেই রাজনৈতিক স্বাধীনতার সাথে সাথে দেশীয় পুঁজিপতিদের শোষণও বন্ধ হত। হিন্দু ও মুসলমান উভয় পক্ষের নেতারাই ছিলেন পুঁজিবাদী। তাই তারা এই অবস্থাটা হতে দিতে চাননি। তাঁরা চেয়েছিলেন পুঁজিবাদকে বাঁচিয়ে রেখে দেশের স্বাধীনতা। এই জন্যে বাধ্য হয়েই তাঁরা খন্ডিত ভারতের স্বাধীনতা মেনে নিলেন।

এদেশীয় নেতৃবৃন্দের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা না চাওয়ার আরও দুটো কারণ ছিল। তার একটা হচ্ছে - রাজনৈতিক স্বাধীনতা সংগ্রামে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতা হিসেবে যোগ্যতা প্রমাণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নাও হতে পারত। বিশেষ করে, অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সংগ্রাম যে কোন সময়ে গণবিপ্লবের তথা রক্তক্ষয়ী বিপ্লবের পথ নিতে পারে। আর তাতে বিপ্লবীদের মধ্য থেকে তরুণ নায়কের আবির্ভাবের সম্ভাবনাও থেকে যায়। নেতারা সেটা চাননি। অহিংসার বুলি কপচে রক্তক্ষয়ী বিপ্লবকে প্রতিরোধ করার চেষ্ঠা করেছিলেন।

নেতাদের এ ব্যাপারে দুর্বলতাও ছিল। হিন্দু ও মুসলমান উভয় পক্ষের অধিকাংশ নেতাই রাজনৈতিক সংগ্রাম করতে করতে বৃদ্ধ হয়ে পড়েছিলেন। তাঁরা হয়তো ভেবেছিলেন যে, যদি নূতন করে অর্থনৈতিক স্বাধীনতার সংগ্রাম আরম্ভ করা যায়, আর সেই সংগ্রাম যদি দীর্ঘ স্থায়ী হয় তাহলে তাঁদের ভাগ্যে আর মন্ত্রিত্বের মসনদ জুটবে না। সম্ভবতঃ এই কথাটা মনে রেখে তাঁরা দেশ বিভাগের মত জঘন্য অপরাধকেও মেনে নিয়েছিলেন।

কোথায় ভুল হয়েছিল -

যে যুক্তিতে ইয়ূরোপ বহু নেশনের বাসভূমি ঠিক সেই যুক্তিতেই ভারতবর্ষও বহু নেশনের দেশ। বরং ইয়ুরোপের দেশগুলির মধ্যে পারস্পরিক পার্থক্য যতখানি ভারতবর্ষের প্রদেশগুলির মধ্যেকার পার্থক্য সে তুলনায় অনেক বেশী। বাঙালী, অসমিয়া, ওড়িয়া, অন্ধ্র, তামিলী, মালয়ালী, মহারাষ্ট্রী, গুজরাটি, রাজস্থানী, পাঞ্জাবী, ডোকরী, কাশ্মীরী, লাদাকী, মৈথিলী,মগহী, ভোজপুরী--- এদের প্রত্যেকের রয়েছে নিজস্ব ভাষা, রীতি-নীতি জীবনযাত্রা প্রণালী, রক্তধারা, উচ্চারণরীতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্য। কারও কারও নিজস্ব লিপি, পঞ্জিকা, দায়ধিকার ব্যবস্থা ও পোষাক-পরিচ্ছদ রয়েছে। ইয়ূরোপের দেশগুলির পারস্পরিক পার্থক্য অতটা প্রকট নয়। তথাপি ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রাম, ইংরাজী ভাষা ও ব্রিটিশ বিরোধী সেন্টিমেন্ট একটা ভারতীয় রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছিল। ইংরেজরা এদেশ ছেড়ে যাবার সঙ্গে সঙ্গে ব্রিটিশ-বিরোধী সেন্টিমেন্টও আর নেই। তাই অখন্ড ভারতীয় রাষ্ট্রের মৃত্যু ঘটেছে। আজ খুব কম সংখ্যক লোকই নিজেকে ভারতীয় বলে ভেবে থাকে। আজ তারা নিজেকে কেউ পাঞ্জাবী, কেউ তামিল, কেউ বাঙালী, কেউ ভূমিহার, কেউ বা রাজপুত হিসেবে ভাবে--- ভারতীয় তারা কেউই নয়। এদের মধ্যে আজ ক্ষীণতম যোগসূত্র হিসেবে বেঁচে রয়েছে ইংরাজী ভাষা। রাষ্ট্রীয়তার ভ্রান্ত ধারণার বশবর্তী হয়ে সেই ইংরাজীকেও হঠকারী নেতারা তাড়াবার চেষ্টা করছে। স্পষ্টই বোঝা যাচ্ছে ইংরেজী বিতাড়নের সঙ্গে সঙ্গে ভারতীয় রাষ্ট্রের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া সম্পূর্ণ হবে। (ক্রমশঃ)

To the Patriots

Presidential Address to the History Section
of the Progressive Writers’ Conference
Held at Jamalpur on 1 January 1960

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved