নয়াদিল্লিতে সর্বভারতীয় ফুটবল সংস্থার অফিসে বার্ষিক সাধারণ সভা৷ রাজধানীর কনকনে ঠান্ডাও মিটিং ঘিরে উত্তাপ কমাতে পারছে না৷ আইএসএল তখনও অনিশ্চিত৷ মারাত্মক চাপে ফেডারেশন৷ জটিলতা কাটাতে সেই মিটিংয়েই তিন সদস্যের কমিটির প্রস্তাব করলেন ফেডারেশন সভাপতি৷ গোয়া ফুটবল সংস্থার সভাপতি কাইতানো ফার্নান্ডেজ, কেরলের নাভাস মিরন ছাড়াও কমিটিতে রাখা হয় আমাকেও৷ সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ৷ বিশ্বাস করুন, নার্ভাস হইনি এতটুকু৷ বরং ফুটবল ফেরাতে প্রথম থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিল আমাদের কমিটি৷ স্পষ্ট করে দেওয়া হয়, ফুটবলের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে৷ অবশেষে যাবতীয় জট ছাড়িয়ে ১৪ ফেব্রুয়ারি আইএসএল শুরুর ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী৷ আশঙ্কা কাটিয়ে স্বস্তি ফিরছে ফুটবল মহলে৷ তাই কমিটির সদস্য হিসাবে আমি গর্বিত৷ তবে মনের মধ্যে সামান্য আশঙ্কা মাথাচাড়া দিচ্ছে৷ মনে রাখতে হবে, কমিটি স্রেফ সাময়িক ড্যামেজ কন্েন্টালের ভূমিকা নিয়েছে৷ কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সমাধান না মিললে ফুটবলের ভবিষ্যৎ অন্ধকার৷ কমার্শিয়াল পার্টনার বেছে নেওয়ার কাজে দেরি হলে ফের সমস্যা দেখা দেবে৷ তাই কমিটির প্রস্তাব বিবেচনা করে দ্রুত টেন্ডার আহ্বান করা উচিত ফেডারেশনের৷
ক্লাব জোট বনাম ফেডারেশনের দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের৷ সমাধানসূত্র খোঁজা মোটেও সহজ ছিল না৷ শেষ পর্যন্ত বরফ গলার রসায়ন কী? পাঠক, ড্রেসিং-রুমের নেপথ্য কাহিনি শোনাতে আজ কোনও বাধা নেই৷ প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছিল, ক্লাবজোটের সঙ্গে ফেডারেশনের দূরত্ব বিস্তর৷ হয়তো অনেকেই এআইএফএফ’কে বিশ্বাস করতে পারছে না৷ তাদের আস্থা ফেরানোই ছিল প্রথম কাজ৷ ব্যক্তিগত স্তরে বিভিন্ন ক্লাব ও ফ্র্যাঞ্চাইজি কর্তাদের সঙ্গে কথা বলা শুরু করে কমিটি৷ সমস্যার শিকড়ে পৌঁছানোর চেষ্টা অনেকটাই সফল৷
আমার উপলব্ধি, দল নামাতে বেশিরভাগ ক্লাবই ইচ্ছুক ছিল৷ এরপর কমিটির দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাব দারুণভাব মনে ধরে তাদের৷ কিন্তু বিধি বাম৷ শর্ট টার্ম পরিকল্পনার ক্ষেত্রে জট তৈরি হয়৷ বাড়তি ইনভেস্ট করতে বিন্দুমাত্র তৈরি নয় ক্লাবজোট৷ এমনকী, কমার্শিয়াল পার্টনার বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও চাপ তৈরি হয়৷ কিন্তু আপোস না করে নরমে-গরমে রিপোর্ট পাঠানো হয় ফেডারেশনে৷ সেই ফর্মুলাতেই বাজিমাত৷ কিছুক্ষেত্রে জোটের দাবি ন্যায্য৷ কিন্তু ফেডারেশনকে ঠুঁটো জগন্নাথ বানিয়ে সিস্টেমের বিরুদ্ধে লড়াই করে সমাধান হয় না৷ ভারতীয় ফুটবলের স্বার্থে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এভাবেই এগতে চাই৷