প্রাচীন বাংলার সৈনিকদের একাংশ এই রণপায়ে চড়ে লড়াই করত৷ তাদের পরিধানে থাকত হাঁটুর ওপরে মালকোঁচা করে পরা একটা ধুতি, গায়ে ছোট আকারের ফতুয়া যাতে কাপড়ের বোতাম লাগানো থাকত, মাথায় বাঁধা থাকত বড় আকারের অর্থাৎ প্রমাণ সাইজের একটা গামছা যে গামছা তারা যুদ্ধকালে স্নানের সময়ও ব্যবহার করত, কোমরে বাঁধা থাকত লম্বা সাইজের হালকা খাঁড়া বা দাও বা রামদাও, সামনে পেছনে বাঁধা থাকত ঢ়াল৷ ঢ়ালগুলি তৈরী হত সাধারণতঃ বড় আকারের কচ্ছপের খোলাকে পাতলা লোহার আবরণীতে মুড়ে৷ সংস্কৃতে ‘দুলিক’মানে কচ্ছপ৷ এই ‘দুলিক’ প্রাচীন বাংলায় হয়ে গেল ‘দুলি’৷ বাংলার যে সকল স্থান থেকে বড় বড় আকারের কচ্ছপ পাওয়া যেত সেই স্থানগুলিকে সেকালের বাংলায় বলা হত আনিদুলিয়া বা আন্দুলিয়া বা আন্দুল৷ তোমরা খোঁজ নিয়ে দেখবে বাংলার অনেক অংশেই এই আন্দুল, আন্দুুলিয়া নামে গ্রাম আছে৷ আর সেই গ্রামটি কোন না কোন জীবন্ত বা মরা নদীর নিকট অবস্থিত৷
যাই হোক সেকালকার বাংলার পদাতিক সৈন্যদের এই ছিল সাজসজ্জা৷ আমি ছোটবেলায় গল্প শুণেছি, বর্দ্ধমান জেলার নিকটবর্ত্তী গ্রামের ডাকাতেরা এই রণপায়ে চড়ে পূর্বদিকে কলকাতার উপকণ্ঠ ও পশ্চিম দিকে রাণীগঞ্জ আসানসোল পর্যন্ত ডাকাতি করতে যেত৷ এই রণপা (রণে ব্যবহূত বিশেষ ধরণের পা)–এরও একটি ভাল নাম হচ্ছে ‘কোদণ্ড’৷ (শব্দ চয়নিকা)