কিয়ের স্টার্মার সোমবার প্রধানমন্ত্রী এবং লেবার পার্টির নেতার পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার কথা ঘোষণা করার পরেই নতুন ইতিহাস গড়ার পথে বা বাড়াল ব্রিটেন৷ এই নিয়ে গত এক দশকে সাত নম্বর প্রধানমন্ত্রী দেখতে চলেছে সে দেশ৷ প্রধানমন্ত্রী পদে বদল হচ্ছে ছ’বার৷ ১৯৪ বছরের গণতন্ত্রের ইতিহাসে যা কার্যত নজিরবিহীন ঘটনা৷
ইতিহাস বলছে, ২০১৬ থেকে মোট ছ’জন নেতার প্রবেশ ও প্রস্থানের সাক্ষী হয়েছে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট৷ স্টার্মারের পূর্বসূরিদের তালিকায় রয়েছেন ঋষি সুনক, এলিজাবেথ লিজ ট্রাস, বরিস জনসন, টেরেসা মে এবং ডেভিড ক্যামেরন৷ ঘটনাচক্রে, তাঁরা সকলেই স্টার্মারের দল লেবার পার্টির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী কনজারভেটিভ পার্টির৷ ঘটনাচক্রে, এই সময়সীমার মধ্যে ইংল্যান্ডের জাতীয় ফুটবল দলের কোচ বদল হয়েছে পাঁচ বার৷ বর্তমান কোচ টমাস টুখেলের পূর্বসূরিদের মধ্যে রয়েছে লি কার্সলি, গ্যারেথ সাউথগেট, স্যাম অ্যালারডাইস এবং রয় হজসন৷
ঘটনাচক্রে, ২০১৬ সালের ব্রেক্সিট-পর্ব থেকেই ব্রিটিশ রাজনীতিতে শুরু হয়েছিল টানাপড়েন-পর্ব৷ ২০১৬ সালের সেই বিতর্কিত গণভোটে ব্রিটিশ নাগরিকেরা অল্প ব্যবধানে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন৷ এর ফলে দেশটির রাজনৈতিক আবহে বড় ধরনের পুনর্বিন্যাস শুরু হয়৷ যার প্রভাব এখনও অব্যাহত বলেই মনে করা হচ্ছে৷
তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ পার্টি ২০১০ এবং ২০১৫-র পার্লামেন্ট নির্বাচনে জয়ী হয়েছিল৷ কিন্তু ছ’বছর ধরে ক্ষমতায় থাকার পরে ব্রেক্সিট নিয়ে দলের অন্দরে টানাপড়েনের কারণে ২০১৬ সালের জুলাইয়ে পদত্যাগ করেন ক্যামেরন৷ তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) থাকার পক্ষে ‘রিমেইন’ শিবিরের হয়ে প্রচার করেছিলেন ক্যামেরন৷ নির্বাচনে জয় পেলেও গণভোটে তার সমর্থিত ‘রিমেইন’ শিবির পরাজিত হয়৷ এর পরে ২০১৭-র অন্তর্বর্তী নির্বাচন এবং ২০১৯-এর নির্বাচনের কনজারভেটিভ পার্টি পর সরকার গড়লেও একের পর এক পরিবর্তন হয় দলের নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রী পদে৷
ক্যামেরনের উত্তরসূরি হিসেবে ২০১৬ সালের ১৩ জুলাই দায়িত্ব নিয়েছিলেন টেরেসা মে৷ তিনি ছিলেন ব্রিটেনের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী৷ ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেছিলেন তিনি৷ ২০১৯ সালের ২৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ বরিস জনসন৷ তাঁর নেতৃত্বে বিপুল জয় পেয়েছিল কনজারভেটিভ পার্টি৷ কিন্তু কোভিডকালে লকডাউনের সময় ডাউনিং স্ট্রিটে পার্টির আয়োজন নিয়ে ‘পার্টিগেট’ কেলেঙ্কারি, একের পর এক মন্ত্রীর বিদ্রোহ ও পদত্যাগ এবং নিজ দলের পার্লামেন্ট সদস্যদের আস্থা হারানোর ফলে শেষ পর্যন্ত ২০২২ সালের ৬ সেপ্ঢেম্বর ইস্তফা দেন তিনি৷ জনসনের উত্তরসূরি হিসেবে ২০২২ সালের ৬ সেপ্ঢেম্বর দায়িত্ব নেন লিজ ট্রাস৷ কিন্তু তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব স্থায়ী হয়েছিল মাত্র ৪৯ দিন৷ ২০২২ সালের ২৫ অক্টোবর লিজ পদত্যাগ করায় লেবার পার্টির এমপি এবং সদস্যদের মধ্যে কয়েক দফার ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী পদের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ঋষি সুনক৷
২০২৪ সালের নির্বাচনে স্টার্মারের নেতৃত্বে সুনকের নেতৃত্বাধীন কনজারভেটিভ সরকারের পতন ঘটিয়েছিল লেবার পার্টি৷ কিন্তু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দু’বছরের মাথাতেই স্টার্মারের জনপ্রিয়তা কার্যত তলানিতে পৌঁছয়৷ দলের অন্দরে তাঁর পরিবর্তে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামকে সামনে আনার দাবি তোলেন লেবার এমপিদের একাংশ৷ গত সপ্তাহে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনের উপনির্বাচনে বার্নহাম জয়ী হওয়ার পরেই স্টার্মারের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছিল৷ এ বার তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনে বার্নহাম বসতে পারেন বলে জল্পনা রয়েছে৷