মহাকবি কালিদাস কত বড় পণ্ডিত অথচ দেখতে ছিলেন অতিশয় কুৎসিত৷ গায়ের রং ছিলো কালো৷ চোখমুখও ছিল শ্রীহীন৷
তাই নিয়ে কালিদাসের বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয়-স্বজনরা কালিদাসকে হামেশাই ঠাটা তামাসা করত৷ এমনকি রাজা বিক্রমাদিত্য পর্যন্ত৷
একদিন রাজা বিক্রমাদিত্য কৌতুক করে বললেন, কালিদাস, তুমি এত বড় পণ্ডিত অথচ লোকের কাছে তোমার পরিচয় দিতে সত্যি লজ্জা করে৷ কালিদাস কারণ বুঝতে না পেরে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলেন৷
তখন বিক্রমাদিত্য বললেন, তোমার যা কদাকার চেহারা৷ কালিদাস লজ্জা পেয়ে সসঙ্কোচে বললেন, ওটা ঈশ্বরের হাত৷ তবুও রাজা তার রূপ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েন না৷
কালিদাস নীরবে সব সহ্য করেন৷ তিনিও সুযোগের অপেক্ষায় আছেন৷ একদিন রাজা রাজপ্রাসাদে তার নবরত্নকে নিয়ে শুয়ে আছেন৷ তখন গ্রীষ্মকাল৷ অসহ্য গরম৷ রাজার ঘন ঘন পিপাসা পাচ্ছে৷ আর কালিদাস বারবার রাজাকে মাটির কুঁজো থেকে জল এনে খাওয়াচ্ছেন৷ কুঁজোর ঠাণ্ডা জল পান করে রাজা বেশ তৃপ্তিলাভ করছেন৷
রাজা একসময় বিরক্ত হয়ে বললেন, কালিদাস এক কাজ কর৷ আমার সোনার ঘটিতে বরং এক ঘটি জল এনে শিয়রের কাছে রেখে দাও৷ তেষ্টা পেলে আমি নিজেই নিয়ে খাব৷ তোমাকে আর কষ্ট করতে হবে না৷ কালিদাস তাই করলেন৷
‘কিছুক্ষণ বাদেই রাজার গলা শুকিয়ে গেল’৷ ঘটিটা নিয়ে জলে এক চুমুক দিতেই রাজার মুখ বিকৃত হয়ে গেল৷ তিনি কালিদাসকে বললেন, বড্ড গরম হয়ে গেছে জলটা৷ তুমি বরং কুঁজো থেকেই জল এনে খাওয়াও৷
কুঁজোর ঠাণ্ডা জল খেয়ে রাজা বেশ আরাম পেলেন৷ তখন কালিদাস বললেন, দেখলেন তো মহারাজ অমন সুন্দর সোনার ঘটির জল আপনার কাছে বিস্বাদ লাগলো৷ আর সামান্য বিশ্রী মাটির কুঁজোর জল খেয়ে আপনি তৃপ্তি পেলেন৷ এবার বলুন তো কোন টা বড় বাহ্যিকরূপ না ভেতরের গুণ৷
রাজা কোন কথা বললেন না৷ শুধু মুচকি হাসলেন৷
- Log in to post comments