Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

মাহাত্ম্যহীন মহাত্মা

প্রণবকান্তি দাশগুপ্ত

আলোচ্য বিষয়-গান্ধীজীর মহাত্মা উপাধি৷ গান্ধীজীর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বহুপদক্ষেপই ছিল ভুলভ্রান্তিতে ভরা৷ কংগ্রেস সভাপতি পদে তিনি যেভাবে কৌশলে সুভাষচন্দ্র বসুকে হারিয়ে সীতারামাইয়াকে জিতিয়ে দিতে চেয়েছিলেন৷ তার মধ্যে মহাত্মার অন্যতম লক্ষণ উদারতা কোথায় অযোগ্য বিচার না করে তিনি কংগ্রেস সদস্যদের উদ্দেশ্যে বলে ছিলেন---সীতারামাইয়ার পরাজয় মানে আমার পরাজয় এই হলো মহাত্মার নিরপেক্ষতা৷

বিহারে একবার প্রবল ভূমিকম্পে বহু লোক মারা গিয়েছিল৷ ঘটনাশুণে গান্ধীজীর মন্তব্য--- যারা মারা গিয়েছেন সেটা তাদের পাপের ফল৷ মহাত্মার মতই কথা৷

নাট্যাচার্য শিশির কুমার ভাদুড়ী গান্ধীজী সম্পর্কে যা যা বলেছেন তা এ প্রসঙ্গে উল্লেখযোগ্য৷ তিনি বলেছেন---‘একবার গান্ধী বেশ্যাদের দেওয়া অর্থ নিতে চাননি৷

বলেছিলেন যে পাপের টাকায় তিনি সৎ কার্য করবেন না৷’ ‘ধনী বণিকের অর্থে কংগ্রেস৷ ধনী শেঠেরা অর্থ ব্যাপারে বেশ্যাবৃত্তি সম্পন্ন তাদের অর্থ যদি তাঁর ধর্মের মগজে অনর্থ না ঘটায় তবে গণিকার অর্থগণ্য হবে না কেন?

তিনি আরো বলেছেন---‘গান্ধীজীর রাজনীতিও নির্বিবাদ নয়৷ ওঁর পলিটিক্যাল ফিলোসপি ও ? ভরা৷ অর্থাৎ প্রতারণা পূর্ণ৷

‘‘...শিল্পী নন্দলাল বসু ও তাঁর ডাণ্ডি অভিযান নিয়ে ছবি আঁকলেও তিনি মহাতনা নন৷’’

কোন মহাপুরুষই গণিকাদের এত ঘৃণা করতেন না৷ শিশির ভাদুড়ী বলেছেন ---‘একবার আমি তাঁকে নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম ‘সীতা’ দেখবার জন্য৷

কিন্তু গান্ধীজী বললেন তিনি অভিনয় দেখবেন না৷ কারণ? কারণ যেখানে গণিকার ব্যাপার সেখানে তিনি নেই৷ অথচ শিশির ভাদুড়ী শ্রীরামকৃষ্ণ প্রসঙ্গে বলেছেন--- ‘পরমহংস হয়েও গণিকার অভিনয় দেখতেন৷ দেখে ভাব বিভোর হতেন৷ অথচ গান্ধী অভিনয় ব্যাপারে সাক্ষাৎ সাবিত্রী-সতী ছাড়া আর কাকেও মঞ্চে দেখতে নারাজ৷ শ্রীরামকৃষ্ণ নটী বিনোদিনীর অভিনয় দেখে এতই ভাবে বিভোর হয়ে পড়েছিলেন যে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার পর বিনোদিনীর কাছে গিয়ে মাথায় রেখে আশীর্বাদ করেছিলেন---‘তোমার চৈতন্য হোক’৷ 

অনেকে আবেগ তাড়িত হয়ে বলেন, আহা, স্বয়ং রবীন্দ্রনাথই তো গান্ধীকে ‘মহাত্মা’ উপাধি দিয়েছেন৷ সেটা ছিল রবীন্দ্রনাথের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া৷ তিনি গান্ধীজীর সম্পূর্ণ জীবনকালের কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ করে যেতে পারেননি৷ রবীন্দ্রনাথ ১৯৪১ খ্রীষ্টাব্দে পরলোক গমন করেন৷ আর গান্ধীজীর মৃত্যু ১৯৪৮ খ্রীষ্টাব্দে রবীন্দ্রনাথের চোখে গান্ধীজীর জীবন-পরিক্রমা দর্শন ছিল অসম্পূর্ণ৷ এ ব্যাপারে শ্রীপ্রভাতরঞ্জন সরকারের বক্তব্য শোণা যাক৷ তিনি বলেছেন--- ‘‘গান্ধীজীর সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের ছিল দীর্ঘকালীন হৃদ্যতা৷ গান্ধীজী রবীন্দ্রনাথকে গুরুদেব বলে সম্বোধন করতেন৷ আর রবীন্দ্রনাথ গান্ধীজীকে খুবই ভালবাসতেন৷ বিশ্বভারতী তথা শান্তিনিকেতনের আর্থিক দুর্দশার দিনে যাঁরা রবীন্দ্রনাথকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছিলেন গান্ধীজী তাঁদের অন্যতম৷ রবীন্দ্রনাথ সেজন্য কৃতজ্ঞ থাকতেন ও একথা মুক্ত কন্ঠে মুখে বলে ও লিখে স্বীকার করে গেছেন রবীন্দ্রনাথ ছিলেন স্পষ্টবাদী৷ উপকারীর উপকার তিনি মুক্তকন্ঠে ঘোষনা করতেন৷

‘হ্যাঁ সেই গান্ধীজী যার সঙ্গে শেষ দিন পর্যন্ত রবীন্দ্রনাথের সম্পর্ক অটুট ছিল, রবীন্দ্রনাথের মৃত্যুতে যে গান্ধীজী শোকাভির্ভূত ও বিহ্বল হয়ে পড়েছিলেন সেই গান্ধীজীর ভুল দার্শনিক নীতিকে (যাকে গান্ধীবাদ বলা হয়৷) সমালোচনা করতে গিয়ে রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন--- গান্ধীবাদকে সমর্থন করা মানে যুক্তিবাদকে জলাঞ্জলি দিয়ে কুসংস্কারের ঘটস্থাপনা করা৷

বিপ্লবী মানবেন্দ্রনাথ রায় বলেছেন---‘গান্ধীজীর নৈতিকতার আদর্শ স্পষ্টতই কতকগুলি প্রচলিত সংকীর্ণ শাস্ত্রীয় নীতির সমষ্টি৷’ তিনি আরো বলেছেন, ‘গান্ধীর নৈতিকতার আদর্শ স্পষ্টতই কতকগুলি প্রচলিত সংকীর্ণ শাস্ত্রীয় নীতির সমষ্টি৷’ তিনি আরো বলেছেন, ‘গান্ধীর নৈতিকতার অসংলগ্ণতা তাঁর নিজের মানদণ্ডেই ভ্রম বলে প্রমাণিত হচ্ছে৷ স্বাধীনভাবে প্রাপ্ত বা আহৃত বৌদ্ধিক বিচারে এ মতবাদ আরো অদ্ভূত৷’’

মোদ্দাকথা গান্ধীজীর রাজনৈতিক ক্রিয়াকলাপই শুধু নয়, তাঁর কথাবার্তা উপদেশাবলী অবাস্তব ও ভুলে ভরা৷ উপাধিতে ভূসিত করা কি যুক্তিসংগত?

 

  • Log in to post comments
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved