শিক্ষার সঙ্গে সামাজিক প্রগতির সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ৷ কারণ শিক্ষা ও মানবিক মনস্তত্ত্ব ওতপ্রোতভাবে জড়িত৷ আর অন্যদিকে শিক্ষাই হচ্ছে -- মানব সভ্যতার অগ্রগতির আধারশিলা৷ যেমন জীবন যাপনার্থে অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থান একান্ত অপরিহার্য ঠিক তেমনি শিক্ষাও সামাজিক প্রগতির অভিন্ন অঙ্গ৷ কারণ স্পষ্ট -- শিক্ষা ব্যতিরেকে মানুষের মনে মানবীয় মূল্যবোধের উদ্রেক হয় না৷ আর এটাও অতি সত্য যে, মানবীয় মূল্যবোধের অভাবে সুস্থ ও সবল সমাজের নির্মাণ কল্পনাতীত৷ কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষার একমাত্র উদ্দেশ্য হচ্ছে -- পরীক্ষায় অধিক অঙ্ক প্রাপ্ত করা, উচ্চ থেকে উচ্চতর উপাধির মালা গলায় দিয়ে উত্তম মানের চাকরির সন্ধানে রত হওয়া৷ আর চাকরি পাওয়ার পর জ্ঞান অর্জনের সমস্ত পথ বন্ধ করে দিয়ে ভোগবিলাসে মত্ত হওয়া৷ অবশ্য চাকরি পেয়ে আজকের মানুষ মোটেই সন্তুষ্ট নন, বরং উচ্চ পদ প্রাপ্তির আশায় ন্যায়-নীতির পথ বিস্মৃত হয়ে অন্যায় ও অসত্যের পদানত হতে বাধ্য হয়৷ অতএব আজকের পরিপ্রেক্ষিতে চাকরি পাওয়া এমন একটি অবস্থা যেখান পৌঁছানোর পর জ্ঞানের সমস্ত দরজাই বন্ধ হয়ে যায়৷ অতএব এই অবস্থায় আজকের মানুষ অজ্ঞান অন্ধকারের অতল গহ্বরে ক্রমশঃ নিমজ্জিত হতে থাকে৷ মানবীয় মূল্যবোধ ও সঠিক জ্ঞানের অভাবে মানুষ মনুষ্যত্ব লাভের সমস্ত পথই হারিয়ে ফেলে৷ এমতাবস্থায় মানুষ আর মানুষ থাকে না, বরং পাশবিকতার পদচুম্বনে অভ্যস্ত হয়ে পশুত্বেই পর্যবসিত হয়৷ মানব সমাজ নির্মাণ কল্পে এই অবস্থা মোটেই কাম্য নয়৷
আজকের পরিপ্রেক্ষিতে বাস্তব সত্য এটাই যে, মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতি দুইই সঙ্কটাপন্ন৷ অজ্ঞানতার জলস্তর মাথার উপরে বইতে শুরু করেছে৷ অতএব বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক শিক্ষা পদ্ধতির অনুসন্ধান করা একান্ত বাঞ্ছনীয়৷ মানবীয় মূল্যবোধের অবক্ষয় প্রাপ্ত এই শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন একান্তই কাম্য৷ আর এর জন্য শিক্ষাব্রতী মানুষকে অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে, অন্যথায় মানব সভ্যতা ও সংস্কৃতি অবশ্যই হারিয়ে যাবে৷
আজকের শিক্ষা পদ্ধতি প্রতিটি মানুষকেই উচ্চাশা সম্পন্ন করে তুলেছে৷ সবাই চায় -- পড়াশোনার শেষ মুহূর্তে তাঁদের ছেলেমেয়েরা যেন অর্র্থেপার্জনের মসৃণ পথ বেছে নিতে পারে৷ ফলস্বরূপ আজকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোও একই পথে হাঁটা শুরু করতে বাধ্য হয়েছে৷ শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য -- একজন ন্যায় নীতিবান মানুষ তৈরি করা৷ কিন্তু তা না করে যদিচ্ছা অর্র্থেপার্জনের উপযুক্ত মানুষ তৈরি করার কাজে সংলগ্ণ৷ অতএব এটাই স্পষ্ট যে, আজকের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষা ক্ষেত্রে যেমন সৎ ব্যষ্টির অভাব তেমনি অন্যদিকে অসৎ ব্যষ্টিদের প্রাধান্য বৃদ্ধি পাচ্ছে৷
বর্তমান শিক্ষা পদ্ধতি ও শিক্ষা ব্যবস্থা কোন অবস্থাতেই মানবীয় গুণসম্পন্ন মানুষ তৈরি করার কাজে নিযুক্ত নয়, বরং তাঁরা ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে অমানবীয় গুণ বৃদ্ধির কাজেই ব্যস্ত৷ ফলস্বরূপ আজকের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বেরিয়ে আসা মানুষ গুলোর মধ্যে মানবতা বদলে অমানবিক গুণেরই আতিশয্য৷ অতএব আজকের শিক্ষিত সমাজে বিনম্রতার যথেষ্ট অভাব পরিলক্ষিত হয়৷ আজকের শিক্ষিত সমাজ বিস্মৃত হয়েছে -- *বিদ্যা দদাতি বিনয়ম এর মূল মন্ত্র৷ আর তার বদলে তাঁর চারিদিকে দম্ভ ও অহঙ্কারের সুদৃঢ় প্রাচীর নির্মিত হয়েছে যা আজকের পরিপ্রেক্ষিতে ভেঙ্গে ফেলে অতিশয় কঠিন কাজ৷ কিন্তু নিস্তব্ধ হয়ে বসে থাকা চলে না৷ উপযুক্ত বিকল্প খুঁজে বের করতেই হবে -- এটাই হবে আজকের মানুষের মানবোচিত কর্ম৷
আমাদের মনে রাখা একান্ত উচিত যে, একটি শিশুর মধ্যে অফুরন্ত জ্ঞানের ভাণ্ডার বিদ্যমান৷ সেই অফুরন্ত ভাণ্ডার থেকে জ্ঞানকে বের করে বহির্জগতে প্রকাশিত করাই একজন শিক্ষকের পবিত্র কর্তব্য৷ কিন্তু আজকের শিক্ষক সমুদায় তা না করে বাইরের জগতে বিদ্যমান অপ্রয়োজনীয় তথ্য সমূহকে শিশুদের অপরিপক্ক মস্তিষ্কে প্রবেশ করানোর অসফল প্রয়াসে চালানো হচ্ছে৷ অতএব শিশুমনের প্রসুপ্ত সম্পদ ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে, যা অবশ্যই সময়োচিত পদক্ষেপ নয়৷ শিশু মনের গুপ্ত জ্ঞান ভাণ্ডারের রহস্যোদঘাটন করার উদ্দেশ্যে জনৈক বাংলা কবি লিখেছেন --
*’ ভবিষ্যতের লক্ষ আশা মোদের মাঝে সন্তরে৷*
*শিশুর পিতা ঘুমিয়ে আছে সব শিশুদের অন্তরে৷৷’*
উপরিউক্ত কবিতাটি থেকে এটাই স্পষ্ট যে, প্রতিটি শিশুর মনের গোপনে তার নিভৃত ভবনে একজন পিতারূপী অভিভাবক শায়িত রয়েছেন৷ এই শায়িত শক্তিকে অনন্ত শয্যায় শায়িত বিষ্ণুর সঙ্গে তুলনা করলে মোটেই অত্যুক্তি হবে না৷
শিশু মনে শায়িত পিতৃত্ব ও অভিভাবকত্বকে মূর্তরূপ দেওয়াই একজন যোগ্য শিক্ষকের শিক্ষকোচিত কর্ম৷ কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা সম্পূর্ণতই অবহেলিত ও অবদমিত৷ এই ধরণের অবহেলা ও অবদমনের হাত থেকে রক্ষা করাই শিক্ষা সংস্কৃতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত৷ কিন্তু এই পরিবর্তনের জন্য শিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান কাঠামোটি মোটেই স্বীকরণীয় নয়৷ শিক্ষা সম্বন্ধে আলোচনা প্রসঙ্গে স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন -- *’ শিক্ষার অর্থই হচ্ছে -- মানবশিশুর অন্তরে বিদ্যমান তার অন্তর্নিহিত পূর্ণতাকেই বহির্জগতে প্রকাশিত করা৷’* তিনি আরো বলেছেন -- ’ শিক্ষা এমন একটি ব্যবস্থা যা মানুষের চরিত্র নির্মাণে অত্যধিক সহায়ক ও মানসিক শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত উপযোগী৷ অতএব সত্যিকারের শিক্ষা তাই, যা মানুষকে আত্মনির্ভরতা ও স্বয়ংসম্পূর্ণতার মন্ত্রে দীক্ষিত করতে সক্ষম৷ অতএব শিক্ষা কোন মতেই একজন মানুষকে পরমুখাপেক্ষী হবার সুযোগ দেয় না, বরং জীবনের অতি প্রতিকুল পরিস্থিতিতেও বেঁচে থাকার দৃঢ়তা বৃদ্ধি করে৷ তিনি শিক্ষা প্রসঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে আরো বলেছেন -- *’শিক্ষার সারমর্ম হচ্ছে -- মানব মনের একাগ্রতা বৃদ্ধি করা, কেবলমাত্র অপ্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা নয়৷’* অতএব একথা নিদর্িধায় স্বীকার করা যায় যে, শিক্ষা এমন একটি ধারালো হাতিয়ার যা মানুষের প্রগতি পথের সমস্ত বাধা বিঘ্নকে ধবংস করে দিতে পারে৷ শিক্ষাই একজন মানুষকে যথার্থ মানুষের পর্যায়ে উন্নীত করতে সক্ষম৷ অতএব শিক্ষারহিত মানব সমাজ কোন মানুষেরই কাম্য নয়৷ কারণ যথোচিত শিক্ষার অভাবে একজন মানুষ অবশ্যই পশুত্বে পর্যবসিত হয়৷ কিন্তু এখানে আরেকটা কথা অবশ্যই স্মরণীয় যে, অশিক্ষার তুলনায় কুশিক্ষা আরো বেশী ক্ষতিকর৷ কারণ অশিক্ষা মানুষকে অবনত মানুষের পর্যায়েই রেখে দেয় কিন্তু কুশিক্ষা একজন মানুষকে পশুতে পরিণত করে দেয়৷ কারণ কুশিক্ষার ফলস্বরূপ মানুষের মধ্যে বিদ্যমান কুবৃত্তিসমূহ আরো বেশি বলবৎ হয়ে ওঠে৷
প্রতিটি মানুষের মনে রাখা দরকার -- একজন মানুষ ও একটি পশুর মধ্যে চারটি সাধারণ গুণ অবশ্যই বিদ্যমান -- আহার, নিদ্রা, ভয় ও মৈথুন৷ তাই শাস্ত্রে বলা হয়েছে:--
*আহার নিদ্রা ভয় মৈথুনঞ্চ সামান্যমেতৎ পশুভির্নরাণাম*
*তেষাং বিশেষো একো ধর্মঃ ধর্মেণ হীনাঃ পশুভির্সমানাঃ৷৷’*
অতএব উপরিউক্ত শ্লোকটিতে এটাই স্পষ্ট যে, ধর্মহীন মানুষ অবশ্যই পশু পদবাচ্য৷ আর শিক্ষা যেখানে অবহেলিত সেখানে ধর্ম অন্ধবিশ্বাসে পরিণত হয় যার ফলে মানুষের সহজ সরল মনে ভাবজড়তার সৃষ্টি হয়৷ অতএব শিক্ষাই হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থা যা একজন মানুষকে যথার্থ মানুষে পরিণত করতে সাহায্য করে৷
অতএব উপরিউক্ত বক্তব্য থেকে এটাই সুস্পষ্ট যে, সুশিক্ষার মধ্য দিয়েই একজন মানুষ পশুত্বের সীমা অতিক্রম করে মানবত্বে উন্নীত হয় আর মনুষ্যত্ব প্রাপ্ত মানুষই অবশেষে দেবত্ব লাভ করতে সক্ষম হয়৷ আর অন্যদিকে কুশিক্ষার বিষাক্ত নিঃশ্বাস মানুষকে পাশবিকতার চরম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়৷ সুতরাং এটাই স্মরণীয় বিষয় যে, শিক্ষার অধিক্ষেত্র জাগতিক স্তরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়৷ কারণ শিক্ষা এমন একটা পদ্ধতি যা মানুষের মনকে আধিভৌতিক স্তর থেকে উন্নীত করে আধিদৈবিক স্তরে আর আধিদৈবিক স্তর থেকে ক্রমান্বয়ে উন্নীত করে আধ্যাত্মিকতার চরম পর্যায়ে পৌঁছে দেয়৷ কিন্তু আজকের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা প্রগতিকে লৌকিক দৃষ্টিকোণ দিয়েই পরিমাপ করার চেষ্টা করি৷ কারণ সুস্পষ্ট -- আমরা লোকায়ত জগতে এত কঠোর ভাবে আবদ্ধ যে লোকোত্তরের চিন্তা ভাবনা আমাদের মনে স্থানই পায় না৷ যেহেতু আমাদের মাপকাঠি সব সময় ইন্দ্রিয়গ্রাহ্যতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ তাই ইন্দ্রিয়াতীতের সমস্ত সম্পদ অধরাই থেকে যায়৷
বেদে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে -- *সা বিদ্যা যা বিমুক্তয়ে৷* অর্থাৎ বিদ্যা এমন একটি অবস্থা যা একজন মানুষকে সমস্ত রকম বন্ধন থেকে বিমুক্তি দেয়৷ মুক্তি নয় বিমুক্তি৷ অর্থাৎ বিশেষ রূপে মুক্তি৷ অর্থাৎ যে মুক্তি লাভের পর পুনরায় বন্ধনে আবদ্ধ হতে হয় না৷ অতএব শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য -- একজন মানুষকে অজ্ঞানতার ঘন তমসাচ্ছন্ন অন্ধকার থেকে বের করে স্বর্র্ণেজ্জ্বল আলোর জগতে নিয়ে আসা৷ আর এটা অবশ্যই সঠিক জ্ঞান প্রাপ্তির মাধ্যমেই সম্ভব৷ কিন্তু মনে রাখা দরকার যে, জাগতিক জ্ঞান মোটেই জ্ঞানের পর্যায়ে আসে না৷ তাত্ত্বিক দৃষ্টিতে আত্মজ্ঞানই হচ্ছে প্রকৃত জ্ঞান পদবাচ্য৷ সুতরাং আমরা আমাদের লৌকিক দৃষ্টিকোণ থেকে যে সকল বিষয়কে জ্ঞান বলে অভিহিত করি, তা বস্তুতঃ জ্ঞানের পর্যায়ে আসেই না৷ লোকায়ত জগতের সমস্ত জ্ঞান জ্ঞানের অবভাস মাত্র জ্ঞান নয়৷ তাই জ্ঞান সম্পর্কে শাস্ত্রে কথিত হয়েছে --
*’ আত্মজ্ঞানং বিদুর্জানং জ্ঞানান্যন্যানি যানি তু৷*
*তানি জ্ঞানাবভাসানি সারস্য নৈব বোধনাৎ৷৷’*
কিন্তু দুঃখের বিষয় আজকের পরিপ্রেক্ষিতে শিক্ষাদান করা একটি মস্ত বড় বাণিজ্যে পরিণত হয়েছে৷ সত্যি কথা বলতে কী, বর্তমান সময়ে বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ বিত্তশালী কার্র্পেরেট হাউসের হস্তগত অথবা কোন নেতা-মন্ত্রীর অঙ্গুলিহেলনে পরিচালিত৷ অতএব এই সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ থেকে সুশিক্ষার আশা করা অরণ্যে রোদন সম৷ কারণ এই যে, বড় বড় বাণিজ্যিক সংগঠন সমূহ তাঁদের প্রয়োজন পূর্তির কথা মনে রেখেই পাঠ্যক্রম নির্মাণ করে ও নিজেদের খামখেয়ালিপনা মাফিক পরিচালনা করে৷ অতএব এদের কাছ থেকে যথোচিত শিক্ষা আশা করা দিবাস্বপ্ণ ছাড়া আর কিছুই নয়৷ সুতরাং একটা বিষয় স্পষ্ট প্রতীয়মান যে, বর্তমান রাজনৈতিক দলীয় প্রচেষ্টায় ও বাণিজ্যিক ঘরাণা সমূহের বদান্যতায় শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যটাই ব্যাহত হচ্ছে, যার নাম *’’নৈতিকতা’’*৷
যেহেতু নৈতিকতাই হচ্ছে শিক্ষার ভিত্তিপ্রস্তর অতএব শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে নৈতিকতাকে অবহেলা করা -- আত্মপ্রবঞ্চনারই নামান্তর৷ অতএব মনে রাখা দরকার যে, শিক্ষা লাভের উদ্দেশ্য কেবল জীবীকোপার্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়, বরং জগত কল্যাণের নিমিত্তে আত্মসমর্পণের নিঃস্বার্থ চিন্তা-ভাবনা তৈরি করা৷
বৈয়াকরণিক মতে ’’নী’’ ধাতুর সঙ্গে ’’ক্তিন প্রত্যয় যোগে ’’নীতি’’ শব্দটি নিষ্পন্ন৷ অতএব নীতি শব্দের ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হচ্ছে -- যার মধ্যে প্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা আছে৷ অতএব নীতিই হচ্ছে সাধনার প্রাথমিক বিন্দু৷ কারণ নীতিবাদের স্ফূরণ থেকেই আধ্যাত্মিকতার যাত্রা শুরু৷ অতএব মানবমনের সর্বাঙ্গীন বিকাশকল্পে নীতিবাদকে মোটেই অবজ্ঞা করা যায় না৷ সুতরাং নীতিবাদের বৈশিষ্ট্য আলোচনা প্রসঙ্গে বিংশ শতাব্দীর মহান দার্শনিক ও সত্যদ্রষ্টা ঋষি সহ প্রাউট-প্রবক্তা শ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার তাঁর রচিত কণিকায় প্রাউট গ্রন্থে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন:--
*’ নীতিবাদ কোন ভাববাদীর স্বপ্ণবিলাস নয়৷ কোন জড়বাদীর প্রয়োজন পূর্তির ব্যবস্থামাত্রও নয়৷ নীতিবাদ এমন একটা জিনিস যা লোকায়ত বস্তুভাবকে লোকোত্তর প্রজ্ঞাভাবে মিশিয়ে দেবার সকল সম্ভাবনা নিয়েই মানুষের সামনে হাজির হয়ে থাকে৷’*
তিনি কথা প্রসঙ্গে আরো বলেছেন -- ’ নীতিবাদকে আত্মস্থ করার অভ্যাস মানুষকে শুরু করতে হবে, ঠিক সেই সময়টিতেই বা সেই সময় থেকেই যে সময়ে তার মধ্যে ক্রিয়াশীলতার বীজ সবেমাত্র উপ্ত হয়েছে৷’ এখানে ক্রিয়াশীলতা শব্দটির অর্থ হচ্ছে -- সামাজিক কার্যকলাপের চিন্তা৷ অতএব শিশুমনই হচ্ছে -- নীতিবাদের বীজবপনের যথোপযুক্ত পৃষ্ঠভূমি৷ একথা সকলেরই জানা যে, সামাজিকতার সঙ্গে শিক্ষার অতি নিকট সম্পর্ক৷ অতএব নীতি বিবর্জিত শিক্ষা ব্যবস্থা মোটেই যুক্তিসঙ্গত নয়৷ কারণ নীতিহীনতাই শিক্ষার কাঠামোটাকে দুর্বল থেকে দুর্বলতর করার পক্ষে যথেষ্ট৷ অতএব নীতি বিবর্জিত শিক্ষা ব্যবস্থাকে দূরস্থ করে নীতিবাদিতা সম্পন্ন শিক্ষা পদ্ধতি শুরু করাই মানব সমাজ নির্মাণকল্পে কল্যাণকর৷আর এই ধরণের শিক্ষা পদ্ধতির আধার হচ্ছে -- বর্তমান সময়ের মহান শিক্ষাবিদশ্রী প্রভাত রঞ্জন সরকার প্রবর্তিত *নব্যমানবতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা*৷ অতএব নান্যপন্থায়নায়৷
- Log in to post comments