৬০ বছর আগে যা শুরু হয়েছিল, সেই লড়াইয়ে এগিয়ে যাওয়ার যুদ্ধ৷ আর সেই যুদ্ধে বাজিমাত করল আর্জেন্টিনা৷ দিয়েগো মারাদোনা যা করেছিলেন তা-ই করলেন লিয়োনেল মেসি৷ খানিকটা অন্য ভাবে৷ মারাদোনা জোড়া গোল করেছিলেন৷ মেসি জোড়া অ্যাসিস্ট করলেন৷ আর তাতেই ৮৪ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা৷ সেখানে তাদের সামনে স্পেন৷ প্রথমার্ধ ও দ্বিতীয়ার্ধের খেলায় আকাশ-পাতাল ফারাক৷ লড়াই শুধু ফুটবলারদের ছিল না, লড়াই ছিল দু’দলের কোচেরও৷ প্রথমার্ধে লিয়োনেল স্কালোনির পরিকল্পনা দেখে মনে হল, গোল করতে নয়, হ্যারি কেনদের থামাতে নেমেছে আর্জেন্টিনা৷ রদ্রিগো ডি পলের বদলে জিউলিয়ানো সিমিয়োনেকে নামানোর কারণই ছিল তাই৷ নিজের কাজ করলেন তিনি৷ দেখে মনে হচ্ছিল, বাবা দিয়েগো সিমিয়োনের কাছ থেকে ট্রেনিং নিয়ে নেমেছেন৷ পিছিয়ে পড়ে বেরিয়ে এল আর্জেন্টিনার আসল খেলা৷ খোলস ছেড়ে বেরাল তারা৷ কারণ, গোল করা ছাড়া আর উপায় ছিল না৷ সেখানেই দুই কোচের দুই চালে খেলা ঘুরে গেল৷ যেখানে স্কালোনি একের পর এক আক্রমণ ভাগে ফুটবলার নামালেন, পারেদেস, লিসান্দ্রোদের তুলে ঝুঁকি নিলেন, সেখানেই টমাস টুখেল পার্ক দ্য বাস নীতিতে চলে গেলেন৷ এতটা রক্ষণাত্মক না হলেই পারতেন তিনি৷ তাঁর জানা উচিত ছিল, এক গোলে এগিয়ে থেকে এতটা রক্ষণাত্মক হলে হারতেও হতে পারে৷ সেটাই হল৷ সমতা ফিরিয়ে আর্জেন্টিনা আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে৷ তারা বুঝতে পারছিল, এই ঝড়ে ইংল্যান্ডের রক্ষণ আবার ভেঙে পড়তে পারে৷ হলও তাই৷ ম্যাক অ্যালিস্টারের আরও একটি শট পোস্টে লেগে ফেরে৷ পর পর আক্রমণে খেই হারিয়ে ফেলেছিল ইংল্যান্ড৷ তাতেই কাল হল৷ সংযুক্তি সময়ে মেসির ক্রসে হেড করে গোল করলেন লাউতারো৷ আর ফিরতে পারেনি ইংল্যান্ড৷ আরও এক বার ব্যর্থ হয়েই বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিতে হল তাদের৷