স্কুলটি জেলা পরিষদের৷ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়৷ ২০১৩ সালের ২৬ জুলাই খানিক জেদ করেই ওই স্কুলে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেছিলেন জীবন মিঠারি৷ আজও সেই প্রতিশ্রুতি পালন করে চলেছেন৷
ক্লাসে বসে খাতা খুলে ছাত্র-ছাত্রীর নাম ডাকার দরকার পড়ে না শিক্ষকের৷ কারণ, পড়ুয়া এক জনই৷ আর সেই এক জনকেই পড়াতে রোজ সকালে ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যান সরকারি স্কুলের শিক্ষক জীবন মিঠারি৷ জেদের বশে৷
স্কুলটি জেলা পরিষদের৷ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়৷ মহরাষ্ট্রের কোলাপুরের গগনবাওয়াড়া তালুকের সিন্ধুদুর্গ সীমানার কাছে কাওয়ালটেক ধাঙ্গরওয়াড়া গ্রামের এক প্রান্তে তার ঠিকানা৷ যাতায়াতের সমস্যা তো রয়েছেই৷ জঙ্গলের রাস্তাও সহজ নয় মোটেই৷ সে পথে গাড়ি চলে না৷ বন্যপ্রাণী বেরিয়ে পড়ে মাঝেমধ্যে৷ গ্রামে চিতাবাঘের হামলার খবরও আসে প্রায়ই৷ তবু এমন স্কুল থেকে বদলি চেয়ে কখনও আবেদন করেননি জীবন৷ বন্ধ করেননি স্কুলে যাওয়াও৷
২০১৩ সালের ২৬ জুলাই খানিক জেদ করেই ওই স্কুলে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন জীবন৷ তার আগে তিনি ছিলেন কোলাপুর জেলার প্রাথমিক শিক্ষকদের কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান৷ তখনও শিক্ষকতা করতেন, তবে মফসসলের স্কুলে৷ সেখানেই বদলি বিষয়ে সহশিক্ষকদের কিছু টিপ্পনী কানে আসে তাঁর৷
জীবনের সহকর্মীরা বলছিলেন, উপর মহলে প্রভাব আছে যাঁদের, তাঁরা এমন জায়গার স্কুলে পোস্টিং পান, যেখানে সব সুযোগসুবিধা আছে৷ বাকিদের কপালে জোটে প্রত্যন্ত এলাকার স্কুল৷ সে কথা শুনেই জীবন ঘোষণা করেন, তিনি ব্যতিক্রমী হবেন৷ তিনি যাবেন প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলে পড়াতে৷ জেদের বশেই জেলা পরিষদের স্কুলটি খুঁজে সেখানে পোস্টিং নেন৷ তার পর থেকে ১৩ বছর ধরে নিজের প্রতিশ্রুতিই পূরণ করে চলেছেন তিনি৷
শুরুর দিকে তবু স্কুলে কয়েকজন ছাত্রছাত্রী আসত৷ তবে ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে৷ এখন এসে ঠেকেছে এক জনে৷ এখন গোটা স্কুলে পড়ুয়া বলতে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী৷ নাম স্বরা বোড়াকে৷ অবশ্য তার সঙ্গে তার বোনও এসে বসে ক্লাসে৷ সাড়ে চার বছরের শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার বয়স হয়নি এখনও৷ তবে তাকে অন্যত্র রাখার মতো অঙ্গনওয়াড়িও নেই গ্রামটিতে৷ আগামী বছর দিদি যখন চতুর্থ শ্রেণিতে উঠবে, তখন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হবে সে৷ জীবন স্যরের ক্লাসে ছাত্রী সংখ্যা বাড়বে৷ তবে তিনিও এখন ৫৫৷ ২০২৯ সালে অবসর নেবেন৷ তত দিনে তাঁর কনিষ্ঠ ছাত্রী তৃতীয় শ্রেণিতে উঠবে হয়তো৷ কিন্তু তার পড়াশোনা শেষ করানোর জন্য আর স্কুল চালানোর জন্য জেদ করে আরও এক জন জীবন স্যর আসবেন কি?