Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • ভাষা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

প্রতিশ্রুতি পালন করে চলেছেন মহরাষ্ট্রের ৫৫ বছরের এক শিক্ষক

পি.এন.এ.
Tue, 29-09-2026

স্কুলটি জেলা পরিষদের৷ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়৷ ২০১৩ সালের ২৬ জুলাই খানিক জেদ করেই ওই স্কুলে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেছিলেন জীবন মিঠারি৷ আজও সেই প্রতিশ্রুতি পালন করে চলেছেন৷

ক্লাসে বসে খাতা খুলে ছাত্র-ছাত্রীর নাম ডাকার দরকার পড়ে না শিক্ষকের৷ কারণ, পড়ুয়া এক জনই৷ আর সেই এক জনকেই পড়াতে রোজ সকালে ঘন জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে দীর্ঘ ৫ কিলোমিটার হেঁটে স্কুলে যান সরকারি স্কুলের শিক্ষক জীবন মিঠারি৷ জেদের বশে৷

স্কুলটি জেলা পরিষদের৷ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়৷ মহরাষ্ট্রের কোলাপুরের গগনবাওয়াড়া তালুকের সিন্ধুদুর্গ সীমানার কাছে কাওয়ালটেক ধাঙ্গরওয়াড়া গ্রামের এক প্রান্তে তার ঠিকানা৷ যাতায়াতের সমস্যা তো রয়েছেই৷ জঙ্গলের রাস্তাও সহজ নয় মোটেই৷ সে পথে গাড়ি চলে না৷ বন্যপ্রাণী বেরিয়ে পড়ে মাঝেমধ্যে৷ গ্রামে চিতাবাঘের হামলার খবরও আসে প্রায়ই৷ তবু এমন স্কুল থেকে বদলি চেয়ে কখনও আবেদন করেননি জীবন৷ বন্ধ করেননি স্কুলে যাওয়াও৷

২০১৩ সালের ২৬ জুলাই খানিক জেদ করেই ওই স্কুলে শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন জীবন৷ তার আগে তিনি ছিলেন কোলাপুর জেলার প্রাথমিক শিক্ষকদের কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের চেয়ারম্যান৷ তখনও শিক্ষকতা করতেন, তবে মফসসলের স্কুলে৷ সেখানেই বদলি বিষয়ে সহশিক্ষকদের কিছু টিপ্পনী কানে আসে তাঁর৷

জীবনের সহকর্মীরা বলছিলেন, উপর মহলে প্রভাব আছে যাঁদের, তাঁরা এমন জায়গার স্কুলে পোস্টিং পান, যেখানে সব সুযোগসুবিধা আছে৷ বাকিদের কপালে জোটে প্রত্যন্ত এলাকার স্কুল৷ সে কথা শুনেই জীবন ঘোষণা করেন, তিনি ব্যতিক্রমী হবেন৷ তিনি যাবেন প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলে পড়াতে৷ জেদের বশেই জেলা পরিষদের স্কুলটি খুঁজে সেখানে পোস্টিং নেন৷ তার পর থেকে ১৩ বছর ধরে নিজের প্রতিশ্রুতিই পূরণ করে চলেছেন তিনি৷

শুরুর দিকে তবু স্কুলে কয়েকজন ছাত্রছাত্রী আসত৷ তবে ধীরে ধীরে তা কমতে থাকে৷ এখন এসে ঠেকেছে এক জনে৷ এখন গোটা স্কুলে পড়ুয়া বলতে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রী৷ নাম স্বরা বোড়াকে৷ অবশ্য তার সঙ্গে তার বোনও এসে বসে ক্লাসে৷ সাড়ে চার বছরের শিশুর স্কুলে ভর্তি হওয়ার বয়স হয়নি এখনও৷ তবে তাকে অন্যত্র রাখার মতো অঙ্গনওয়াড়িও নেই গ্রামটিতে৷ আগামী বছর দিদি যখন চতুর্থ শ্রেণিতে উঠবে, তখন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি হবে সে৷ জীবন স্যরের ক্লাসে ছাত্রী সংখ্যা বাড়বে৷ তবে তিনিও এখন ৫৫৷ ২০২৯ সালে অবসর নেবেন৷ তত দিনে তাঁর কনিষ্ঠ ছাত্রী তৃতীয় শ্রেণিতে উঠবে হয়তো৷ কিন্তু তার পড়াশোনা শেষ করানোর জন্য আর স্কুল চালানোর জন্য জেদ করে আরও এক জন জীবন স্যর আসবেন কি?

 

Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য প্রসূনানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য প্রসূনানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved