Skip to header Skip to main navigation Skip to main content Skip to footer
CAPTCHA
This question is for testing whether or not you are a human visitor and to prevent automated spam submissions.

User account menu

  • My Contents
  • Log in
নোতুন পৃথিবী
সর্বাত্মক শোষণমুক্ত সমুন্নত সমাজ রচনার পথপ্রদর্শক

প্রধান মেনু

  • প্রথম পাতা
  • আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ
  • প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়
  • সংবাদ দর্পণ
  • দেশে দেশে আনন্দমার্গ
  • সম্পাদকীয়
  • প্রবন্ধ
  • খেলা
  • নারীর মর্যাদা
  • স্বাস্থ্য
  • প্রভাতী
  • ইতিকথা

পশ্চাৎপদ শ্রেণীর উন্নয়ন

শ্রী প্রভাতরঞ্জন সরকার

বিশ্বের বিভিন্ন পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীকে সাহায্য করা আমাদের আশু কর্ত্তব্য৷ যেহেতু বর্তমান বিশ্বের বিভিন্ন সামাজিক–অনৈতিক ব্যবস্থাগুলি পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর প্রয়োজন পূর্ত্তির প্রতি ও সামগ্রিকভাবে সমাজের উন্নতির প্রতি নজর না দিয়ে সমাজের এক বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে’ চলেছে, সেইজন্যেই পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠী শারীরিক, মানসিক ও আধ্যাত্মিক অবদমনের শিকার হচ্ছে৷

উদাহরণস্বরূপ, মার্কসবাদে রাষ্ট্র যেহেতু কেবল সর্বহারাদের কল্যাণের কথা ভাবে, তাই যারা সর্বহারা নয় তারা অবদমিত ও প্রদমিত হয়৷ বলা হয়ে থাকে এই ব্যবস্থা শূদ্রের শাসন ব্যবস্থা৷ কিন্তু বাস্তবে শূদ্রদের দ্বারা কোন শাসনব্যবস্থা পরিচালিত হতে পারে না৷ সর্বহারার একনায়কতন্ত্রের ধারণাটাই অবাস্তব, অসম্ভব ও অবৈজ্ঞানিক৷ বাস্তবের মাটিতে মার্কসবাদের কোন শিকড় নেই৷ এটা একটা উদ্ভট তত্ত্ব৷ তাই ১৯৭৭ সালেই (তদানিন্তন) সোভিয়েত রিপাবলিক সর্বহারার শাসন ব্যবস্থার মত উদ্ভট ধারণাকে পরিত্যাগ করে’ কল্যাণ রাষ্ট্রের ঘোষণা করেছিল৷ যাইহোক, মার্কসবাদ হ’ল এক তাসের ঘর যা হাল্কা হাতুড়ির টোকাতেই ভেঙ্গে পড়বে৷ বাস্তব বিশ্বে মার্কসবাদ কোন সাফল্য রেখে যেতে পারবে না৷

পুঁজিবাদে বা গণতন্ত্রে রাষ্ট্র যদিও তত্ত্বগত ভাবে রাষ্ট্র যদিও সংখ্যাগরিষ্ঠের কল্যাণকামী, বাস্তবে কিন্তু সংখ্যালঘিষ্ঠ বৈশ্য তথা পুঁজিবাদীদের স্বার্থরক্ষাকারী৷ আর বাকীরা পর্যবসিত হয় দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে৷

প্রাউটের সমাজ ব্যবস্থায় সকলের কল্যাণই রাষ্ট্রের কাম্য–‘সর্বজন হিতায়’৷ এই ব্যবস্থায় কেউই দমিত বা অবদমিত হয় না৷ প্রাউট সদবিপ্রের শাসনকে সমর্থন করে’৷ সদবিপ্রেরা যেহেতু সমাজের সকল শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করে’, সেহেতু কেবল সদবিপ্রেরাই সকল গোষ্ঠীর কল্যাণকে সুনিশ্চিত করতে পারে৷

প্রাউট প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যে বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হবে৷ উদাহরণস্বরূপ, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের মধ্যে উপজাতিরা সব থেকে বঞ্চিত৷ ত্রিপুরা সহ ভারতের বিভিন্ন জায়গার ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপজাতিরা দরিদ্র ও অশিক্ষিত৷ তাদের সামাজিক–অনৈতিক উন্নতি বিধানের উদ্দেশ্যে অনতিবিলম্বে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত৷ বিশেষ ব্যবস্থা সমূহের মধ্যে থাকবে –– শিক্ষা ক্ষেত্রে অসাম্য দূর করা, ব্যাপক কুটিরশিল্পের প্রচলন, সুষ্ঠু কৃষি সহযোগিতা, অতিরিক্ত সেচের জল সরবরাহ, বিদ্যুৎ সহ অন্যান্য শক্তি উৎপাদনে স্বয়ম্ভরতা, আর রেল ও টেলিফোনের সাহায্যে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ৷

এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জনসংখ্যা দ্রুত কমে যাচ্ছে, ও তাদের অবলুপ্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে৷ অনতিবিলম্বে এদের রক্ষা করার ব্যবস্থা করা উচিত৷ এইসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে পড়ে আফ্রিকার জুলু ও পিগমী, ৰাংলার লোধা, ছোটনাগপুরের বীরহোড়, মালদহের মালো, বিহারের রোহতাস জেলার ভোজপুরী ভাষাভাষী আঙ্গার, কশ্মীরের লাদাখী, ইয়ূরোপের রোমাঁশ, অষ্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যাণ্ডের মাওরী, ও কিন্নৌর–এর সিডিউল কাষ্টরা৷ রাঢ় ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের কৈবর্ত্তদের অবলুপ্তির আশঙ্কা না থাকলেও, তাদের জন্মহার সাধারণ জন্মহার থেকে কম৷ এই সমস্যা সমাধানে অবিলম্বে সচেষ্ট হতে হবে৷

পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর চাকরী প্রাপ্তি ও তাদের অর্থনৈতিক উন্নতির উদ্দেশ্যে কিছু কিছু দেশে সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু আছে৷ প্রাউট–আদর্শ অনুসারে অবশ্য সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকা উচিত নয়৷ যখন প্রাউট–ব্যবস্থার প্রবর্ত্তন হবে, তখন যেহেতু সকলের প্রগতিই সুনিশ্চিত হবে, সেহেতু কেউই চাকরীতে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করবে না৷ তখন এমন এক কর্মসংস্থান হবে যে, সে সময় মানুষকে কাজ খুঁজতে হবে না, কাজই মানুষকে খঁুজবে৷

যাই হোক, বর্তমান সামাজিক–অনৈতিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুর্দশা মোচনের উদ্দেশ্যে তাৎক্ষণিকভাবে নিম্নলিখিত অগ্রাধিকার ব্যবস্থা চালু করা যায় ঃ–

* জন্মসূত্র যাই হোক না কেন, পিছিয়ে পড়া, গরিব পরিবারের সদস্য চাকরী       ও শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রথম অগ্রাধিকার পাবে৷

* গরিব, কিন্তু পিছিয়ে পড়া নয়, এমন পরিবারের সদস্য দ্বিতীয় অগ্রাধিকার  পাবে৷

* গরিব নয়, কিন্তু পিছিয়ে পড়া পরিবারের সদস্য তৃতীয় অগ্রাধিকার পাবে৷

* সবশেষে সুযোগ পাবে গরিবও নয়, পিছিয়ে পড়াও নয়, এমন পরিবারের সদস্য৷

এখানে ‘পিছিয়ে পড়া পরিবার’ বলতে ৰোঝাবে যে পরিবারের সদস্য অতীতে কোন চাকরী বা শিক্ষার সুযোগ পায়নি৷ যতক্ষণ না দেশ দারিদ্র্য মুক্ত হয়, অর্থাৎ যতক্ষণ না সকলের নূন্যতম প্রয়োজন–প্রাপ্তি সুনিশ্চিত হয়, ততক্ষণ এই পরিবারগুলি এই সুবিধা পেতে থাকবে৷

এইভাবে, কে কোন্ জাতে জন্মালো তা না দেখে, সেই পরিবারের আর্থিক অবস্থা অনুযায়ী শিক্ষা ও চাকুরীর ক্ষেত্রে এই অগ্রাধিকার সূত্র মেনে চলতে হবে৷ তথাকথিত নীচু জাতের একজন মুচি যদি ধনী হয়, সেক্ষেত্রে সংরক্ষণের কোন প্রয়োজনই নেই, আবার তথাকথিত উচ্চজাতের অন্তর্গত একজন মৈথিলী ব্রাহ্মণ দরিদ্র হতে পারেন৷ সেক্ষেত্রে তাঁর জন্যে সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে৷ এই ধরনের অগ্রাধিকার ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যবস্থায় সমগ্র সমাজের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি হবে৷

বহু অনগ্রসর ও উন্নয়নশীল দেশে পশ্চাদপদ জনগোষ্ঠীর উন্নতির প্রশ্ণে সংঘর্ষ চলছে৷ উদাহরণস্বরূপ, বিহারে জাত–পাত ভিত্তিক তথাকথিত উন্নত ও অনুন্নত শ্রেণীর মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চলছে৷ যদি এই ধরনের সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয় তাহলে ভারতসহ বিশ্বের সমস্ত দেশেই উন্নত ও অনুন্নতদের মধ্যে গোষ্ঠী সংঘর্ষের সমস্ত সম্ভাবনা দূর করা যাবে৷  সেই সঙ্গে, সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জনের সুযোগও এসে যাবে৷ জাত–পাত–ধর্মমত– নির্বিশেষে সরকার সকলের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা প্রভৃতি অর্জনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবে৷ এই পদ্ধতিতে পশ্চাদপদদের মন থেকে সমস্ত হীনম্মন্যতা দূর হয়ে যাবে, ও সকলেই নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী নিজেদের জীবনযাত্রা নির্বাহ করার মত আয় করার সুযোগ পেয়ে যাবে৷

জুন ১৯৭৯, কলিকাতা

আধ্যাত্মিক প্রসঙ্গ

‘কৃষ্ণ’ নামের একাধিক ব্যাখ্যা
মনকে ভারমুক্ত রাখ
অষ্টকমল
ভারতবর্ষ ও আধ্যাত্মিকতা
গীতায় ধর্মদেশনা –– ১
আরও

প্রাউট প্রবক্তার ভাষায়

পূর্বার্দ্র তত্ত্ব
যোগাযোগের প্রাথমিক মাধ্যম হিসেবে স্থানীয় ভাষার ব্যবহার বাঞ্ছনীয়
মানব প্রগতি
সংস্কৃতি ও সভ্যতা
পরিকল্পনার মৌল নীতি
আরও

সম্পাদকীয়

বিদ্বেষ বিষে জর্জরিত বিজেপি
বাঙালী আর একটা অগ্ণি স্ফুলিঙ্গের অপেক্ষায়
প্রতিকুলতাকে প্রতিহত করে এগিয়ে চলার দুর্জয় ইচ্ছাশক্তি বাঙালীর আছে
মশাহীন দেশের তকমা ধরে রাখতে পারল না আইসল্যান্ড
বিকশিত বাঙলার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি নয় মানবতার আর্থিক মুক্তি চাই

প্রবন্ধ শিরোনাম

গোরাচাঁদ ও একতারা
ভারত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার রক্ষা ও সংবিধানকে বাঁচিয়ে রাখার প্রধান দায়বদ্ধতা হলো যৌথভাবে কেন্দ্র ও রাষ্ট্রের নির্বাচন কমিশনেরই আর স্বৈরাচারিতাকেও নিয়ন্ত্রণ করা!
হিংস্র দুঃসময় বাঙালীর দুয়ারে
আর্থিক বিকাশ শেষ কথা নয়
গোরাচাঁদ ও একতারা
নাগরিকত্ব প্রত্যেক মানুষের মৌলিক অধিকার---তথাকথিত এস আই আর এর নামে একজনও বাঙালীর নাগরিকত্ব হরণ করা চলবে না--- চক্রান্ত করে তথাকথিত এস আই আর-এর মাধ্যমে কোন বাঙালীকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করা যাবে না
কেন্দ্র সরকারের ডি.এ নিয়ে বোটবাজীটা নির্বাচন প্রাক্কালে এটা কোন ধরনের কেন্দ্র সরকারের গণতান্ত্রিক সেবা
গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষার এস.আই.আর প্রক্রিয়া ফ্যাসিবাদী হিন্দুত্বের আগ্রাসনের হাতিয়ার

পুরানো মাসিক খবর

  • February 2026 (220)
  • August 2022 (106)
  • July 2022 (93)
  • June 2022 (167)
  • May 2022 (92)
Pagination
  • Page 1
  • Next page ››
আরও আগের খবর
Powered by Drupal

নোতুন পৃথিবী সোসাইটির পক্ষ থেকে আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত কর্তৃক প্রকাশিত।

সম্পাদকঃ - আচার্য মন্ত্রসিদ্ধানন্দ অবধূত

Copyright © 2026 NATUN PRITHIVII SOCIETY - All rights reserved