বিশিষ্ট প্রাউট তাত্ত্বিক শ্রীপ্রভাত খাঁ গত ২৬ শে জুলাই শ্রীরামপুরে এক আলোচনায় বলেন প্রধানমন্ত্রী যতই সবকা সাথ সবকা বিকাশের গল্প শোনান কিন্তু পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রে কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় সবকা সাথ সবকা বিকাশ মুখের কথা হয়েই থাকবে৷ বাস্তবে পরিণত হওয়া সম্ভব নয়৷ ভারতবর্ষ বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে প্রচার হলেও জনগণের শুধু ভোট দেবার অধিকার টুকুই আছে৷ দেশে আর্থিক ক্ষমতা স্থানীয় মানুষের হাতেও নেই৷ আবার নির্বাচিত শাসকের হাতেও নেই৷ আর্থিক শক্তি নিয়ন্ত্রিত করে মুষ্টিমেয় কিছু পুঁজিপতি৷ তারাই দেশের সিংহভাগ সম্পদ দখল করে বসে আছে৷ প্রধানমন্ত্রী একদিকে জনগণকে আর্থিক নির্ভরতার কথা বলেন, আবার রেল থেকে এলআইসি রাষ্ট্রের সম্পদ পুঁজিপতিদের হাতে তুলে দিচ্ছে৷ ১২ বছরে আর্থিক বিকাশের চিত্র সামনে এলে দেখা যাবে যে এটুকু বিকাশ হয়েছে তা ধনকুবেরদেরই হয়েছে৷ অপরদিক লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান দিন দিন নিম্নমুখী হচ্ছে৷
শ্রী খাঁ বলেন সবকা সাথ সবকা বিকাশ এর অর্থ হলো স্থানীয় জনগণের আর্থিক মুক্তি যা পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত কেন্দ্রীয় অর্থনীতিতে অলীক কল্পনা৷ সর্বশ্রেণীর মানুষের আর্থিক বিকাশের অর্থ হলো প্রতিটি মানুষের জীবন ধারণের নূ্যনতম প্রয়োজন--- অন্ন, বস্ত্র,বাসস্থান,শিক্ষা, চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা৷ তাই প্রতিটি মানুষের হাতে ক্রয় ক্ষমতা দিতে হবে৷ যা পুঁজিবাদ নিয়ন্ত্রিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় কখনোই সম্ভব নয়৷ তাই সবার বিকাশ ও আত্মনির্ভর ভারত গড়তে হলে সর্বপ্রথম দেশকে কেন্দ্রীয় অর্থনীতির অস্বাস্থ্যকর প্রভাব থেকে মুক্ত করতে হবে৷ বর্তমান অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর খোলনলচে পাল্টাতে হবে৷ এর জন্য প্রয়োজন প্রগতিশীল উপযোগ তত্ত্বের বিকেন্দ্রীত আর্থিক ব্যবস্থার রূপায়ণ করা৷ তাই আজকের স্লোগান হওয়া উচিত--- কেন্দ্রীয় অর্থনীতি ধবংস করো, বিকেন্দ্রিত অর্থ ব্যবস্থা চালু করো৷ প্রাউট -এর বিকেন্দ্রিত আর্থিক ব্যবস্থা চালু হলে সর্বপ্রকাশ শোষণের অবসান হবে৷